জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর
নাভিন মুর্শিদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিছক কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না। বরং স্বৈরাচারী শাসন, অন্যায় এবং বছরের পর বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া বঞ্চনার অবসান ঘটাতে লক্ষ লক্ষ তরুণ, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকার যখন চরম নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেয়—ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে স্নাইপার ও হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, মূলত সেখান থেকেই এই আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। সরকারের এই নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞই সাধারণ মানুষকে আরও বেশি মাত্রায় রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছিল।
এই চরম দমন-পীড়ন সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী রূপটিকে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দেয়। মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই আন্দোলন কেবল গুলি থামানোর জন্য নয়; বরং একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার মূলোৎপাটনের জন্য। কারণ সরকার যে নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করেছিল, তাতে সুযোগ পেলেই তারা আবারও একই কাজ করত। ফলে, বৈষম্যবিরোধী একটি দাবি খুব দ্রুতই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।
তবে আমাদের মতো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখা কোনো সহজ কাজ নয়। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রভাব প্রকট। বাকশাল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান বা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন—সবকিছু পেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটা শুরু করলেও, একটি শক্তিশালী ও মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামো আমরা কখনোই গড়ে তুলতে পারিনি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান যেন নব্বইয়ের সেই আকাঙ্ক্ষারই এক নতুন পুনরাবৃত্তি, যেখানে জনগণ আবারও একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।
বর্তমান এই ক্রান্তিকালীন সময়ে আমাদের সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেবে? একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়তো আদর্শিক গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি যায় না, কিন্তু যারা এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। একইভাবে, অতীতে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর বিচার ও বর্তমান রাজনৈতিক রূপ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জামায়াত ও বিএনপি দীর্ঘকাল জোটবদ্ধ ছিল, এখন তারা আলাদাভাবে আবির্ভূত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে, তা সময় বলে দেবে। এই পরিস্থিতি আমাদের একটি রূঢ় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়—আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো এতটাই দুর্বল যে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বাইরে আমাদের এখনো কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি হয়নি।
ইতিহাস সাক্ষী, আমরা স্বৈরাচার বা পুরোনো ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার কাজটি খুব ভালোভাবে করতে পারি, কিন্তু নতুন কিছু গড়ার ক্ষেত্রে আমরা বারবার ব্যর্থ হই। নব্বইয়ের দশকে এরশাদের পতনের পরও আমরা শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়তে পারিনি, ২০০৬-২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। নতুন রাজনৈতিক দল, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সংগঠন গড়ে তোলার এই ব্যর্থতাই আমাদের বারবার সংকটে ফেলছে।
রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত 'জুলাই চার্টার' নিয়েও বর্তমানে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই চার্টারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার মতো গণতান্ত্রিক পথে হাঁটার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, এখানে আদর্শিক এবং প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। আদর্শিক বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে, যার জেরে এখন পুরো চার্টারটিই বাতিলের মুখে পড়েছে। ফলে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ, তা হোঁচট খাচ্ছে।
আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার মূল দাবি ছিল 'সিস্টেম চেঞ্জ' বা রাষ্ট্র মেরামত। তারা এমন একটি কল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র চেয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পাবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মানুষের মনে একধরনের অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার—কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। ফলশ্রুতিতে, সিস্টেম চেঞ্জ বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এতো রক্তপাত, এতো ত্যাগের পর হিসাব মেলালে দেখা যায়—সবকিছু ছাপিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়াই যেন এই গণঅভ্যুত্থানের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আগামী দিনে আমাদের প্রত্যাশা ও করণীয় হতে হবে সুদূরপ্রসারী। আমরা যেন আবারও কোনো 'ওয়ান পার্টি ডেমোক্রেসি' বা একদলীয় আধিপত্যের দিকে ধাবিত না হই, কিংবা আওয়ামী লীগেরই কোনো 'লাইট ভার্সন' ক্ষমতায় না আসে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গণতন্ত্র কেবল সরকারের বিষয় নয়। আমরা সবসময় সরকারের জবাবদিহির দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু আমাদের নিজেদের জীবনে ও সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার বড্ড অভাব।
যতদিন না আমরা আমাদের পরিবার, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, এবং নিজ নিজ কমিউনিটিতে বা সংগঠনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা শুরু করছি, ততদিন রাষ্ট্রযন্ত্রেও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা তখনই সফল হবে, যখন আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারব। কেবল তখনই আমাদের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম একটি স্থায়ী ও অর্থবহ পরিণতি পাবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিছক কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না। বরং স্বৈরাচারী শাসন, অন্যায় এবং বছরের পর বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া বঞ্চনার অবসান ঘটাতে লক্ষ লক্ষ তরুণ, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকার যখন চরম নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেয়—ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে স্নাইপার ও হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, মূলত সেখান থেকেই এই আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। সরকারের এই নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞই সাধারণ মানুষকে আরও বেশি মাত্রায় রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছিল।
এই চরম দমন-পীড়ন সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী রূপটিকে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দেয়। মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই আন্দোলন কেবল গুলি থামানোর জন্য নয়; বরং একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার মূলোৎপাটনের জন্য। কারণ সরকার যে নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করেছিল, তাতে সুযোগ পেলেই তারা আবারও একই কাজ করত। ফলে, বৈষম্যবিরোধী একটি দাবি খুব দ্রুতই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।
তবে আমাদের মতো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখা কোনো সহজ কাজ নয়। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রভাব প্রকট। বাকশাল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান বা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন—সবকিছু পেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটা শুরু করলেও, একটি শক্তিশালী ও মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামো আমরা কখনোই গড়ে তুলতে পারিনি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান যেন নব্বইয়ের সেই আকাঙ্ক্ষারই এক নতুন পুনরাবৃত্তি, যেখানে জনগণ আবারও একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।
বর্তমান এই ক্রান্তিকালীন সময়ে আমাদের সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেবে? একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়তো আদর্শিক গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি যায় না, কিন্তু যারা এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। একইভাবে, অতীতে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর বিচার ও বর্তমান রাজনৈতিক রূপ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জামায়াত ও বিএনপি দীর্ঘকাল জোটবদ্ধ ছিল, এখন তারা আলাদাভাবে আবির্ভূত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে, তা সময় বলে দেবে। এই পরিস্থিতি আমাদের একটি রূঢ় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়—আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো এতটাই দুর্বল যে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বাইরে আমাদের এখনো কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি হয়নি।
ইতিহাস সাক্ষী, আমরা স্বৈরাচার বা পুরোনো ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার কাজটি খুব ভালোভাবে করতে পারি, কিন্তু নতুন কিছু গড়ার ক্ষেত্রে আমরা বারবার ব্যর্থ হই। নব্বইয়ের দশকে এরশাদের পতনের পরও আমরা শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়তে পারিনি, ২০০৬-২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। নতুন রাজনৈতিক দল, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সংগঠন গড়ে তোলার এই ব্যর্থতাই আমাদের বারবার সংকটে ফেলছে।
রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত 'জুলাই চার্টার' নিয়েও বর্তমানে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই চার্টারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার মতো গণতান্ত্রিক পথে হাঁটার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, এখানে আদর্শিক এবং প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। আদর্শিক বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে, যার জেরে এখন পুরো চার্টারটিই বাতিলের মুখে পড়েছে। ফলে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ, তা হোঁচট খাচ্ছে।
আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার মূল দাবি ছিল 'সিস্টেম চেঞ্জ' বা রাষ্ট্র মেরামত। তারা এমন একটি কল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র চেয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পাবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মানুষের মনে একধরনের অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার—কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। ফলশ্রুতিতে, সিস্টেম চেঞ্জ বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এতো রক্তপাত, এতো ত্যাগের পর হিসাব মেলালে দেখা যায়—সবকিছু ছাপিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়াই যেন এই গণঅভ্যুত্থানের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আগামী দিনে আমাদের প্রত্যাশা ও করণীয় হতে হবে সুদূরপ্রসারী। আমরা যেন আবারও কোনো 'ওয়ান পার্টি ডেমোক্রেসি' বা একদলীয় আধিপত্যের দিকে ধাবিত না হই, কিংবা আওয়ামী লীগেরই কোনো 'লাইট ভার্সন' ক্ষমতায় না আসে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গণতন্ত্র কেবল সরকারের বিষয় নয়। আমরা সবসময় সরকারের জবাবদিহির দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু আমাদের নিজেদের জীবনে ও সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার বড্ড অভাব।
যতদিন না আমরা আমাদের পরিবার, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, এবং নিজ নিজ কমিউনিটিতে বা সংগঠনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা শুরু করছি, ততদিন রাষ্ট্রযন্ত্রেও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা তখনই সফল হবে, যখন আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারব। কেবল তখনই আমাদের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম একটি স্থায়ী ও অর্থবহ পরিণতি পাবে।
.png)

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি প্রতীকী কিছু পদক্ষেপও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই আন্দোলনের প্রাথমিক চাওয়া ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, যা পরে এক দফা অর্থাৎ সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়। যে উদ্দেশ্যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, ৫ই আগস্টের পর সেই স্বৈরাচার থেকে মুক্তি অর্জনই আমাদের প্রথম ও প্রধান সফলতা।
২ ঘণ্টা আগে
এ দেশের মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আকাঙ্ক্ষাগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া তো কোনো গণঅভ্যুত্থান সফল হয় না। যারা এই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন বা সমর্থন জুগিয়েছিলেন, সেই আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সব ধরনের বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি।
৪ ঘণ্টা আগে
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু পূরণ হলো, তা ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের একটি মজবুত ভিত্তি যেহেতু তৈরি হয়েছে এবং জনগণ নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করতে শুরু করেছে, তাই এই পথ থেকে পিছিয়ে আসার আর কোনো সুযোগ নেই।
৬ ঘণ্টা আগে