নারায়ণগঞ্জে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আহত ৫

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪৮
তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক সভায় বক্তব্য দেওয়াতে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান।

দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে, তাদের জখম মারাত্মক নয়।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা-পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।

এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ‘তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।’

তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।

তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এ জন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি জানিয়ে জেলা পুলিশের ডিবি প্রধান হাসিনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

এ দিকে, দেড়টার পর পুলিশ ছাত্র শিবিরের নেতাদের সরিয়ে দিলে তারা সেখান থেকে চলে গেলেও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করেন। তাদের সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়। বেলা আড়াইটাও তাদের বিভিন্ন সড়কে শিবিরের বিরুদ্ধে মহড়া দিতে দেখা যায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত