স্ট্রিম সম্পাদকীয়

গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটের বাস্তবায়ন কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন আরও কমবে, সেটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের বছরের চাইতেও এডিপির কম বাস্তবায়ন (৬৭ দশমিক ৫) হয়েছে পরবর্তী অর্থবছরে। এর পক্ষে কিছু ‘যুক্তি’ প্রদর্শন করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি এডিপির বাস্তবায়নই ছিল প্রত্যাশিত। ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাত্রা করেছিল দেশ। তাতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেকখানি কেটে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়া আর প্রকল্প পরিচালককে খুঁজে না পাওয়ার মতো পরিস্থিতিরও অবসান হয়েছিল। যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা সতর্কভাবে অর্থ ছাড়ের প্রবণতাও কমে আসে তত দিনে। এ অবস্থায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ কম এডিপি বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য রাখা কঠিন।
বলা হচ্ছে, এত কম এডিপির বাস্তবায়ন হয়নি ২২ বছরে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ৫০ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়নের কথা জানাচ্ছে। এটা ২২ বছরে সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হলেও খবরটি হতাশাজনক। তারপরও কথা থাকে; কতটা মানসম্মত হয়েছে এডিপির এই নিম্ন বাস্তবায়ন? বাস্তবায়ন মানে তো কেবল অর্থ ব্যয় নয়। সরকারি খাতে অর্থ ব্যবহারের মান নিয়ে প্রশ্নটি পুরনো। তবে ব্যয়ের মানোন্নয়নে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে কমই। অন্তর্বর্তী শাসনামলে অবশ্য অর্থের সতর্ক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের ধারা বন্ধের কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা। কিন্তু সতর্ক বাস্তবায়নের চাপে যদি এটা একেবারে তলানিতে চলে যায়, তাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতি হারানোর কথা। সরকারি খাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমে গেলে এর প্রভাব পড়ে বেসরকারি খাতে। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব কাজে উপকরণ সরবরাহ করে, তাদের ব্যবসা যায় কমে। এতে কর্মসংস্থান কমে; প্রভাব পড়ে রাজস্ব আহরণেও। নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে খবর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এটাও হয়তো কারণ যে, এডিপির বাস্তবায়ন পরপর দু’বছর ছিল খুবই কম। এডিপির মানহীন বাস্তবায়ন হলেও তার কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব থাকে উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয়। এডিপির আওতায় কর্মকাণ্ড বাড়লে প্রত্যক্ষভাবেও কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কিছুটা কল্যাণ হয়ে থাকে।
অর্থবছরের শেষদিকে প্রতিবার বাজেটে কিছু সংশোধনী আনা হয়। এর আওতায় প্রধানত কমানো হয় এডিপির আকার। উন্নয়নের অর্থ কেটে অনেক ক্ষেত্রেই নেওয়া হয় রাজস্ব তথা অনুন্নয়ন বাজেটে। অথচ আমাদের মতো দেশে অধিক উন্নয়ন ব্যয়ই প্রত্যাশিত। এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের চাহিদা বিরাট। জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে বেশি দাবি উত্থাপিত হতে দেখা যায়। নির্বাচনেও বিশেষত স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি পায় প্রাধান্য। এডিপির আওতায় উপযুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে জনগণের জীবনধারায় প্রভাব পড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিও গতি লাভ করে। এ অবস্থায় এডিপির অধিক বাস্তবায়নই কাম্য। আরও ভালো হয় এর মানসম্মত বাস্তবায়নের হার বাড়লে। অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে এডিপির বাস্তবায়ন বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতায় কষ্টার্জিত অর্থের অপচয়ের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম বাজেটে এডিপির আকার প্রায় দ্বিগুণ করেছে। এত অর্থ কোত্থেকে মিলবে, সে প্রশ্ন রয়েছে বৈকি। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন এত বড় এডিপির ‘বাস্তবায়ন সক্ষমতা’ নিয়ে। নির্বাচিত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রশাসনের সক্ষমতা কি এতটাই বাড়বে? এ অবস্থায় এডিপির আকার হয়তো উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। শেষ পর্যন্ত আকার যা-ই দাঁড়াক, এডিপি বাস্তবায়নের হার যেন বাড়ে এবং এর মানও যেন ভালো হয়। এর সঙ্গে দুর্নীতি হ্রাসের প্রশ্নটিও কিন্তু গভীরভাবে জড়িত।

গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটের বাস্তবায়ন কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন আরও কমবে, সেটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের বছরের চাইতেও এডিপির কম বাস্তবায়ন (৬৭ দশমিক ৫) হয়েছে পরবর্তী অর্থবছরে। এর পক্ষে কিছু ‘যুক্তি’ প্রদর্শন করা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি এডিপির বাস্তবায়নই ছিল প্রত্যাশিত। ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাত্রা করেছিল দেশ। তাতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেকখানি কেটে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়া আর প্রকল্প পরিচালককে খুঁজে না পাওয়ার মতো পরিস্থিতিরও অবসান হয়েছিল। যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা সতর্কভাবে অর্থ ছাড়ের প্রবণতাও কমে আসে তত দিনে। এ অবস্থায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশ কম এডিপি বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য রাখা কঠিন।
বলা হচ্ছে, এত কম এডিপির বাস্তবায়ন হয়নি ২২ বছরে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ৫০ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়নের কথা জানাচ্ছে। এটা ২২ বছরে সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হলেও খবরটি হতাশাজনক। তারপরও কথা থাকে; কতটা মানসম্মত হয়েছে এডিপির এই নিম্ন বাস্তবায়ন? বাস্তবায়ন মানে তো কেবল অর্থ ব্যয় নয়। সরকারি খাতে অর্থ ব্যবহারের মান নিয়ে প্রশ্নটি পুরনো। তবে ব্যয়ের মানোন্নয়নে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে কমই। অন্তর্বর্তী শাসনামলে অবশ্য অর্থের সতর্ক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের ধারা বন্ধের কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা। কিন্তু সতর্ক বাস্তবায়নের চাপে যদি এটা একেবারে তলানিতে চলে যায়, তাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতি হারানোর কথা। সরকারি খাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমে গেলে এর প্রভাব পড়ে বেসরকারি খাতে। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব কাজে উপকরণ সরবরাহ করে, তাদের ব্যবসা যায় কমে। এতে কর্মসংস্থান কমে; প্রভাব পড়ে রাজস্ব আহরণেও। নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে খবর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এটাও হয়তো কারণ যে, এডিপির বাস্তবায়ন পরপর দু’বছর ছিল খুবই কম। এডিপির মানহীন বাস্তবায়ন হলেও তার কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব থাকে উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয়। এডিপির আওতায় কর্মকাণ্ড বাড়লে প্রত্যক্ষভাবেও কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কিছুটা কল্যাণ হয়ে থাকে।
অর্থবছরের শেষদিকে প্রতিবার বাজেটে কিছু সংশোধনী আনা হয়। এর আওতায় প্রধানত কমানো হয় এডিপির আকার। উন্নয়নের অর্থ কেটে অনেক ক্ষেত্রেই নেওয়া হয় রাজস্ব তথা অনুন্নয়ন বাজেটে। অথচ আমাদের মতো দেশে অধিক উন্নয়ন ব্যয়ই প্রত্যাশিত। এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের চাহিদা বিরাট। জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে বেশি দাবি উত্থাপিত হতে দেখা যায়। নির্বাচনেও বিশেষত স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি পায় প্রাধান্য। এডিপির আওতায় উপযুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে জনগণের জীবনধারায় প্রভাব পড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিও গতি লাভ করে। এ অবস্থায় এডিপির অধিক বাস্তবায়নই কাম্য। আরও ভালো হয় এর মানসম্মত বাস্তবায়নের হার বাড়লে। অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে এডিপির বাস্তবায়ন বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতায় কষ্টার্জিত অর্থের অপচয়ের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম বাজেটে এডিপির আকার প্রায় দ্বিগুণ করেছে। এত অর্থ কোত্থেকে মিলবে, সে প্রশ্ন রয়েছে বৈকি। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন এত বড় এডিপির ‘বাস্তবায়ন সক্ষমতা’ নিয়ে। নির্বাচিত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রশাসনের সক্ষমতা কি এতটাই বাড়বে? এ অবস্থায় এডিপির আকার হয়তো উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। শেষ পর্যন্ত আকার যা-ই দাঁড়াক, এডিপি বাস্তবায়নের হার যেন বাড়ে এবং এর মানও যেন ভালো হয়। এর সঙ্গে দুর্নীতি হ্রাসের প্রশ্নটিও কিন্তু গভীরভাবে জড়িত।
.png)

একটু হিসাব করলেই বোঝা যায় এই লক্ষ্যটা কত বড়। পাঁচ বছরে দিন থাকে মোট ১ হাজার ৮২৫টি। এই সময়ে ৫০ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার চারা রোপণ করতে হবে। ঘণ্টার হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৪০০টিতে!
৪ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। আগের ঋণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেটি প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এবার আইএমএফের মূল জোর দুটি বিষয়ে—এক. রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি; দুই. সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।
৮ ঘণ্টা আগে
জুলাই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু আচরণ ও ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা জনমানুষের প্রত্যাশার সম্পুর্ণ বিপরীত। কোথাও ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের প্রবণতা, কোথাও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, কোথাও জনসম্পদের প্রতি অযত্ন কিংবা অপচয়ের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদানে অনেককেই উৎসাহী দেখা যায়। কেউ অভ্যাসবশত, আবার কেউ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমনটা করে থাকেন। কারো কারো হয়তো থাকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ এসব এড়াতেই পছন্দ করেন।
২৯ জুলাই ২০২৬