শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

চরের মাটি আর লোনা বাতাসের সংসারে এক ধরনের জুয়া খেলা চলে প্রতি বছর। কৃষক বীজ বোনেন, মাটিতে মিশিয়ে দেন হাজার হাজার টাকা। তারপর শুরু হয় অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার নাম তরমুজ।
বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে, বিশেষ করে পটুয়াখালী, খুলনা, বরগুনা ও ভোলার চরাঞ্চলে, প্রতি বছর এই ফলকে ঘিরে গড়ে ওঠে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি। কিন্তু এই অর্থনীতির গল্পটা কেবল সংখ্যার নয়। এর পেছনে আছে কৃষকের ঘাম, বছরের পর বছর ধরে জমানো ঝুঁকি, আর বাজার ব্যবস্থার এমন কিছু ফাঁকফোকর, যেগুলো থেকে মুনাফা তুলে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা।
এ বছর পটুয়াখালীতে তরমুজ আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগের হিসাবে শুধু এই জেলাতেই উৎপাদন হতে পারে ১১ থেকে ১২ লাখ টন তরমুজ। ন্যূনতম ১৫ টাকা কেজি ধরলেও বাজারমূল্য দাঁড়ায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে। খুলনায় গত মৌসুমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিল, চলতি মৌসুমে সেই অঙ্ক আরও বড় হওয়ার কথা। বরগুনার আমতলীতে উপজেলাতেই ২৭০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৪ কোটি টাকার উৎপাদন। বরগুনার রোহিতার বালুচরে একজন চাষি একাই বিনিয়োগ করেছেন দেড় কোটি টাকা। পুরো দক্ষিণাঞ্চল মিলিয়ে এ মৌসুমে সাত থেকে আট হাজার কোটি টাকার তরমুজ বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে কী হলো? রোজা শেষ হওয়ার পরপরই বাজার ভেঙে পড়ল হঠাৎ করে। নারায়ণগঞ্জের ফলের আড়তে তরমুজের ট্রলার এসে ভিড়ছে একের পর এক, কিন্তু পাইকার নেই। যে তরমুজ রোজায় বিক্রি হত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, সেটাই নেমে এল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের জমি থেকে ৮ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়। সেই একই তরমুজ ঢাকার বাজারে গিয়ে দাম পাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না, অথচ মাঝখানে মুনাফা করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
দশমিনার কৃষক মশিউর রহমান ১৮ একর জমিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ফলন আশা করেছিলেন। মাত্র ৮০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার পর ক্রেতা নেই, বাকিটা পচছে মাঠেই। বাউফলের কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার ১৪ একর জমিতে ৮ লাখ টাকা ঢেলেছেন, ফিরে পাচ্ছেন মাত্র ২ লাখ। কেউ স্ত্রীর গহনা বন্ধক দিয়েছেন, কেউ ধার করেছেন। ফেরত পাওয়ার পথ বন্ধ।
তাহলে কি তরমুজ চাষ আদৌ লাভজনক নয়? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, সঠিক মৌসুমে সঠিক বাজার পেলে তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব, আর সময় লাগে মাত্র আড়াই মাস। একই জমিতে ধান চাষ করলে পাঁচ মাস পর লাভ হয় সর্বোচ্চ নয় হাজার টাকা। তুলনাটা করলেই বোঝা যায়, কেন উপকূলের কৃষক ধান ছেড়ে তরমুজে ঝুঁকছেন। খুলনার লোনা মাটিতে একসময় বছরের বড় অংশ জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন হাজার হাজার হেক্টরে তরমুজ ফলছে। কিন্তু বাজার পড়ে গেলে এই লাভের অঙ্কটাই উল্টো ফাঁদ হয়ে যায়, কারণ ধানে লোকসান কম হলেও তরমুজে একবার বাজার না পেলে বিনিয়োগের পুরোটাই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, তরমুজের বাজার কেন বারবার ভাঙে? এর উত্তর তিনটি কারণ খোঁজা যায়। প্রথমত, চাহিদার ঋতুনির্ভরতা। রমজান মাসে ইফতারে তরমুজের চাহিদা থাকে অস্বাভাবিক রকম বেশি। রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই চাহিদা এক লাফে শূন্যে নেমে আসে। অথচ তরমুজের মৌসুম চলে আরও দেড় থেকে দুই মাস। পুরো দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল উৎপাদন তখন একসঙ্গে বাজারে আসে, ফলে দাম ধরে রাখার কোনো উপায় থাকে না। দ্বিতীয়ত, কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অনুপস্থিতি। তরমুজ পচনশীল, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কৌশল কৃষকের হাতে নেই। দেশে বছরে কয়েক লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হয়। সেটাকে যদি জুস বা প্রক্রিয়াজাত পণ্যে রূপান্তরিত করার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ কিছুটা হলেও সামলানো যেত। তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের কাঠামোগত আধিপত্য। কৃষক পাচ্ছেন পিসপ্রতি ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, আর ঢাকার বাজারে সেই ফল বিকোচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। এই পার্থক্যটা শুধু পরিবহনের খরচ নয়। মাঝখানে যে কয়টি স্তর আছে, তারা প্রত্যেকটি একটু একটু কেটে নেয়। কৃষক উৎপাদন করেন পিস হিসাবে, কিন্তু ঢাকায় বিক্রি হয় কেজি হিসাবে। এই রূপান্তরটাই মুনাফার একটা বড় উৎস হয়ে যায়।
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ করার মতো। বরগুনার চাষিরা নিজেদের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ তৈরি করতে গিয়ে ৫০ লাখ টাকারও বেশি খরচ করেছেন, কারণ চরে স্থায়ী বাঁধ না থাকলে ঝড়বৃষ্টিতে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকারিভাবে যদি উপকূলের চরগুলোতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা যায়, তাহলে চাষযোগ্য জমির পরিধি বাড়বে এবং কৃষকের বিনিয়োগ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি, তরমুজ থেকে জুস বা প্রক্রিয়াজাত পানীয় উৎপাদনের ছোট শিল্প উপকূলের জেলাগুলোতে গড়ে তোলা গেলে মৌসুম শেষে অতিরিক্ত উৎপাদনের একটা কার্যকর গন্তব্য তৈরি হবে। কৃষি বিপণন ব্যবস্থার সংস্কার না করলে এই চক্র বারবার ফিরে আসবে।
তরমুজ উপকূলের অর্থনীতিতে যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে, সেটা ছোট করে দেখার নয়। পটুয়াখালীর চরে যখন ১১ থেকে ১২ লাখ টন তরমুজ ফলে, তখন শুধু কৃষকই নয়, শ্রমিক, পরিবহনকারী, আড়তদার সবার জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এই পুরো শৃঙ্খলটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষককে ন্যায্য দাম পেতে হবে। প্রতি বছর কৃষক উৎপাদন করবেন আর মধ্যস্তর মুনাফা তুলবে, এই চক্র ভাঙতে না পারলে উপকূলের চাষিরা কখনো এই লাল ফলের সত্যিকারের হিসাব পাবেন না।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

চরের মাটি আর লোনা বাতাসের সংসারে এক ধরনের জুয়া খেলা চলে প্রতি বছর। কৃষক বীজ বোনেন, মাটিতে মিশিয়ে দেন হাজার হাজার টাকা। তারপর শুরু হয় অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার নাম তরমুজ।
বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে, বিশেষ করে পটুয়াখালী, খুলনা, বরগুনা ও ভোলার চরাঞ্চলে, প্রতি বছর এই ফলকে ঘিরে গড়ে ওঠে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি। কিন্তু এই অর্থনীতির গল্পটা কেবল সংখ্যার নয়। এর পেছনে আছে কৃষকের ঘাম, বছরের পর বছর ধরে জমানো ঝুঁকি, আর বাজার ব্যবস্থার এমন কিছু ফাঁকফোকর, যেগুলো থেকে মুনাফা তুলে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা।
এ বছর পটুয়াখালীতে তরমুজ আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগের হিসাবে শুধু এই জেলাতেই উৎপাদন হতে পারে ১১ থেকে ১২ লাখ টন তরমুজ। ন্যূনতম ১৫ টাকা কেজি ধরলেও বাজারমূল্য দাঁড়ায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে। খুলনায় গত মৌসুমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছিল, চলতি মৌসুমে সেই অঙ্ক আরও বড় হওয়ার কথা। বরগুনার আমতলীতে উপজেলাতেই ২৭০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৪ কোটি টাকার উৎপাদন। বরগুনার রোহিতার বালুচরে একজন চাষি একাই বিনিয়োগ করেছেন দেড় কোটি টাকা। পুরো দক্ষিণাঞ্চল মিলিয়ে এ মৌসুমে সাত থেকে আট হাজার কোটি টাকার তরমুজ বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে কী হলো? রোজা শেষ হওয়ার পরপরই বাজার ভেঙে পড়ল হঠাৎ করে। নারায়ণগঞ্জের ফলের আড়তে তরমুজের ট্রলার এসে ভিড়ছে একের পর এক, কিন্তু পাইকার নেই। যে তরমুজ রোজায় বিক্রি হত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, সেটাই নেমে এল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের জমি থেকে ৮ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১৩০ টাকায়। সেই একই তরমুজ ঢাকার বাজারে গিয়ে দাম পাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না, অথচ মাঝখানে মুনাফা করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
দশমিনার কৃষক মশিউর রহমান ১৮ একর জমিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ফলন আশা করেছিলেন। মাত্র ৮০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার পর ক্রেতা নেই, বাকিটা পচছে মাঠেই। বাউফলের কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার ১৪ একর জমিতে ৮ লাখ টাকা ঢেলেছেন, ফিরে পাচ্ছেন মাত্র ২ লাখ। কেউ স্ত্রীর গহনা বন্ধক দিয়েছেন, কেউ ধার করেছেন। ফেরত পাওয়ার পথ বন্ধ।
তাহলে কি তরমুজ চাষ আদৌ লাভজনক নয়? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, সঠিক মৌসুমে সঠিক বাজার পেলে তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব, আর সময় লাগে মাত্র আড়াই মাস। একই জমিতে ধান চাষ করলে পাঁচ মাস পর লাভ হয় সর্বোচ্চ নয় হাজার টাকা। তুলনাটা করলেই বোঝা যায়, কেন উপকূলের কৃষক ধান ছেড়ে তরমুজে ঝুঁকছেন। খুলনার লোনা মাটিতে একসময় বছরের বড় অংশ জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন হাজার হাজার হেক্টরে তরমুজ ফলছে। কিন্তু বাজার পড়ে গেলে এই লাভের অঙ্কটাই উল্টো ফাঁদ হয়ে যায়, কারণ ধানে লোকসান কম হলেও তরমুজে একবার বাজার না পেলে বিনিয়োগের পুরোটাই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, তরমুজের বাজার কেন বারবার ভাঙে? এর উত্তর তিনটি কারণ খোঁজা যায়। প্রথমত, চাহিদার ঋতুনির্ভরতা। রমজান মাসে ইফতারে তরমুজের চাহিদা থাকে অস্বাভাবিক রকম বেশি। রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই চাহিদা এক লাফে শূন্যে নেমে আসে। অথচ তরমুজের মৌসুম চলে আরও দেড় থেকে দুই মাস। পুরো দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল উৎপাদন তখন একসঙ্গে বাজারে আসে, ফলে দাম ধরে রাখার কোনো উপায় থাকে না। দ্বিতীয়ত, কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অনুপস্থিতি। তরমুজ পচনশীল, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কৌশল কৃষকের হাতে নেই। দেশে বছরে কয়েক লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হয়। সেটাকে যদি জুস বা প্রক্রিয়াজাত পণ্যে রূপান্তরিত করার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ কিছুটা হলেও সামলানো যেত। তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের কাঠামোগত আধিপত্য। কৃষক পাচ্ছেন পিসপ্রতি ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, আর ঢাকার বাজারে সেই ফল বিকোচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। এই পার্থক্যটা শুধু পরিবহনের খরচ নয়। মাঝখানে যে কয়টি স্তর আছে, তারা প্রত্যেকটি একটু একটু কেটে নেয়। কৃষক উৎপাদন করেন পিস হিসাবে, কিন্তু ঢাকায় বিক্রি হয় কেজি হিসাবে। এই রূপান্তরটাই মুনাফার একটা বড় উৎস হয়ে যায়।
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ করার মতো। বরগুনার চাষিরা নিজেদের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ তৈরি করতে গিয়ে ৫০ লাখ টাকারও বেশি খরচ করেছেন, কারণ চরে স্থায়ী বাঁধ না থাকলে ঝড়বৃষ্টিতে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকারিভাবে যদি উপকূলের চরগুলোতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা যায়, তাহলে চাষযোগ্য জমির পরিধি বাড়বে এবং কৃষকের বিনিয়োগ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি, তরমুজ থেকে জুস বা প্রক্রিয়াজাত পানীয় উৎপাদনের ছোট শিল্প উপকূলের জেলাগুলোতে গড়ে তোলা গেলে মৌসুম শেষে অতিরিক্ত উৎপাদনের একটা কার্যকর গন্তব্য তৈরি হবে। কৃষি বিপণন ব্যবস্থার সংস্কার না করলে এই চক্র বারবার ফিরে আসবে।
তরমুজ উপকূলের অর্থনীতিতে যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে, সেটা ছোট করে দেখার নয়। পটুয়াখালীর চরে যখন ১১ থেকে ১২ লাখ টন তরমুজ ফলে, তখন শুধু কৃষকই নয়, শ্রমিক, পরিবহনকারী, আড়তদার সবার জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এই পুরো শৃঙ্খলটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষককে ন্যায্য দাম পেতে হবে। প্রতি বছর কৃষক উৎপাদন করবেন আর মধ্যস্তর মুনাফা তুলবে, এই চক্র ভাঙতে না পারলে উপকূলের চাষিরা কখনো এই লাল ফলের সত্যিকারের হিসাব পাবেন না।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

বলা হয়ে থাকে কর্মক্ষেত্রে অনুজদের প্রতি আচরণই মানুষ হিসেবে একজন কর্মকর্তা কেমন তা নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে মাহবুবু স্যার ছিলেন অনন্য উচ্চতার এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
৬ ঘণ্টা আগে
আধুনিক জোটনিরপেক্ষতা মানে এখন আর চুপচাপ বসে থাকা নয়। এটি এখন পুরোপুরি একটি লেনদেনের খেলা, যাকে বলা যেতে পারে ‘বহুমুখী জোট’ বা মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট। দেশগুলো এখন আর ভূ-রাজনৈতিক কোন্দল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে না। বরং, তারা পরাশক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জন্য সেরা সুবিধাটা আদায় করে নিচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধ-কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান খুব স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালিতে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে গত ২৬ মার্চ রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়, যা ছিল এই দেশগুলোর প্রতি ইরানের শুভেচ্ছার প্রতীক।
১১ ঘণ্টা আগে
মানুষ যেন বুঝতে পারে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো নয় বরং নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোর না হলেও তা নিশ্চিতভাবে প্রয়োগ করা হবে- এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
১ দিন আগে