শামীম হোসেন

গ্রাম নিয়ে আমাদের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করে—সবুজ ধানক্ষেত, পাখির ডাক, খোলা আকাশ, আর সহজ-সরল মানুষের জীবন। কিন্তু এই রোমান্টিক ছবির আড়ালে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা অনেক বেশি জটিল আর উদ্বেগজনক। গ্রাম এখন আর সেই শান্ত, নির্ভার জায়গা নয়; বরং নানা সামাজিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো মাদক। একটি নীরব, কিন্তু দ্রুত বিস্তারমান মহামারী, যা গ্রামীণ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে।
একটি গ্রামের চিত্র মানেই বহু গ্রামের প্রতিচ্ছবি। আজকের বাংলাদেশে গ্রাম আর শহরের মধ্যে আগের মতো দূরত্ব নেই। সড়ক যোগাযোগ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট—সব মিলিয়ে গ্রাম এখন শহরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে একটি গ্রামের সামাজিক অবস্থা প্রায়ই অন্য গ্রামের অবস্থার প্রতিফলন।
যে সমস্যাটি এক গ্রামে দেখা যায়, তা খুব দ্রুত পাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই দেশের সব গ্রামে গিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। একটি গ্রামের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, গ্রামীণ বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে। এই আন্তঃসংযোগের কারণে আজ দেশের অধিকাংশ গ্রামে একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে—তরুণদের বেকারত্ব, হতাশা, অর্থনৈতিক চাপ, এবং তার সুযোগে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার।
তরুণদের হাতে স্মার্টফোন আছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নেই। গ্রামীণ তরুণদের হাতে এখন ইন্টারনেট আছে, কিন্তু নেই সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরাপদ সুযোগ। নেই কর্মসংস্থান, নেই দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ, নেই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নেই তরুণ যুবকদের জন্য নিরাপদ কোনো মেন্টরিং ব্যবস্থা। ফলে তারা খুব সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, ঘুমের ওষুধসহ নতুন নতুন নামে ও ফর্মের মাদক—সবই এখন তাদের হাতের নাগালে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, মাদক এখন আর ব্যক্তিগত কোনো অভ্যাস হিসেবে নেই; এটি এখন একটি সামাজিক বাস্তবতা। গ্রামের চায়ের দোকান, স্কুল-কলেজ, ক্ষেত-খামার, মাঠ, বাজার, আড্ডার জায়গা—সবখানেই মাদকের ছায়া।
মাদক সিন্ডিকেট এখন গ্রামীণ ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রও বটে। গ্রামে এখন এমন সব সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যারা মাদক সরবরাহ, বিতরণ, বিক্রি—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অনেকেই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ফলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সিন্ডিকেটগুলো বেকার তরুণদের ব্যবহার করছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা সহজ সুবিধা দিয়ে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। মাদকের নেটওয়ার্ক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা’ তৈরি করে তার বিস্তার ঘটিয়েই যাচ্ছে। এরা স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য ওলটপালট করে দিয়েছে। ফলে মাদক এখন গ্রামীণ সমাজের এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক শক্তি। গ্রামের মানুষ জানে, দেখে, বোঝে—কিন্তু ভয় বা অসহায়ত্বের কারণে কিছু বলতে পারে না।
সরকার মাঝে মাঝে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করে। কিন্তু সেই যুদ্ধের কোনো ধারাবাহিকতা নেই। বড় সরবরাহকারী বা সিন্ডিকেট নেতারা অক্ষত থাকে, আর ধরা পড়ে ছোটোখাটো ব্যবহারকারী। এতে জনগণের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র কি সত্যিই এই সংকট মোকাবিলায় আন্তরিক? নাকি এটি কেবল ঘোষণাবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ?
মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় সিন্ডিকেটগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তারা জানে, বড় কোনো ঝুঁকি নেই। ফলে মাদক ব্যবসা এখন গ্রামীণ অর্থনীতির এক লাভজনক, কিন্তু ধ্বংসাত্মক অংশে পরিণত হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজের ভাঙন: আমরা কি প্রস্তুত
মাদক শুধু একজন তরুণকে ধ্বংস করে না; এটি পরিবার, সামাজিক আস্থা, শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশসহ মানুষের কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে। মাদক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে পারে, এমন উদাহরণ আছে। একজন মাদকাসক্ত তরুণ মানে একটি পরিবারে অনন্ত অস্থিরতা, আর্থিক চাপ ও পরিবারের সবার মানসিক যন্ত্রণার কারণ। গ্রামের অভিভাবকরা এখন অসহায়; তারা জানে না কীভাবে তাদের সন্তানকে বাঁচাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। কৃষিকাজে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি বাড়ছে এবং অন্যায় বেআইনি কর্মকাণ্ড বাড়ছে। এসব অবক্ষয়ের সবকিছুই মাদকের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দশকে গ্রামীণ বাংলাদেশ এমন এক সংকটে পড়বে, যার পরিণতি কল্পনারও বাইরে।
এর সমাধানও একদিনে আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশি অভিযান পরিচালনা কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত, তথ্যভিত্তিক, সমন্বিত নীতির সঠিক বাস্তবায়ন।
শক্তিশালী আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বড় বড় সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেট ভাঙা সবচেয়ে জরুরি কাজ। তাছাড়া গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিতে হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যুবক-তরুণদের যোগ্যতার বিচারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গ্রাম উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত। তরুণ-যুবকদের হাতে কাজ না থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।
এদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ শিল্প ও কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার বিষয়কেও সমানভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সব ধরনের সংগঠনের মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করা দরকার যাতে মাদক বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি নেওয়া, সবার জন্য নিরাপদ বিনোদন ও ক্রীড়া সুবিধার ব্যবস্থা করা অর্থবহ হতে পারে।
গ্রামীণ এলাকায় সুলভ চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করে সেখান থেকে সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যত তাড়াতাড়ি হবে; তত তাড়াতাড়ি মাদকের গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে।
গ্রামীণ বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা যদি এখনই চোখ খুলে না দেখি, যদি এখনই পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এই নীরব মহামারী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রাস করবে।
মাদক সমস্যাকে কারোরই আর উপেক্ষা করার সময় ও সুযোগ নেই। এখনই সময় রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তি সবাইকে একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। গ্রামকে বাঁচাতে হলে গ্রামের তরুণ-যুবকদের বাঁচাতে হবে। আর তরুণ-যুবকদের বাঁচাতে হলে যেকোনো মুল্যেই হোক, মাদককে থামাতে হবে। আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও গবেষক

গ্রাম নিয়ে আমাদের মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করে—সবুজ ধানক্ষেত, পাখির ডাক, খোলা আকাশ, আর সহজ-সরল মানুষের জীবন। কিন্তু এই রোমান্টিক ছবির আড়ালে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা অনেক বেশি জটিল আর উদ্বেগজনক। গ্রাম এখন আর সেই শান্ত, নির্ভার জায়গা নয়; বরং নানা সামাজিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো মাদক। একটি নীরব, কিন্তু দ্রুত বিস্তারমান মহামারী, যা গ্রামীণ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে।
একটি গ্রামের চিত্র মানেই বহু গ্রামের প্রতিচ্ছবি। আজকের বাংলাদেশে গ্রাম আর শহরের মধ্যে আগের মতো দূরত্ব নেই। সড়ক যোগাযোগ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট—সব মিলিয়ে গ্রাম এখন শহরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে একটি গ্রামের সামাজিক অবস্থা প্রায়ই অন্য গ্রামের অবস্থার প্রতিফলন।
যে সমস্যাটি এক গ্রামে দেখা যায়, তা খুব দ্রুত পাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই দেশের সব গ্রামে গিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। একটি গ্রামের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, গ্রামীণ বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে। এই আন্তঃসংযোগের কারণে আজ দেশের অধিকাংশ গ্রামে একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে—তরুণদের বেকারত্ব, হতাশা, অর্থনৈতিক চাপ, এবং তার সুযোগে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার।
তরুণদের হাতে স্মার্টফোন আছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নেই। গ্রামীণ তরুণদের হাতে এখন ইন্টারনেট আছে, কিন্তু নেই সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরাপদ সুযোগ। নেই কর্মসংস্থান, নেই দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ, নেই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নেই তরুণ যুবকদের জন্য নিরাপদ কোনো মেন্টরিং ব্যবস্থা। ফলে তারা খুব সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, ঘুমের ওষুধসহ নতুন নতুন নামে ও ফর্মের মাদক—সবই এখন তাদের হাতের নাগালে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, মাদক এখন আর ব্যক্তিগত কোনো অভ্যাস হিসেবে নেই; এটি এখন একটি সামাজিক বাস্তবতা। গ্রামের চায়ের দোকান, স্কুল-কলেজ, ক্ষেত-খামার, মাঠ, বাজার, আড্ডার জায়গা—সবখানেই মাদকের ছায়া।
মাদক সিন্ডিকেট এখন গ্রামীণ ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রও বটে। গ্রামে এখন এমন সব সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যারা মাদক সরবরাহ, বিতরণ, বিক্রি—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অনেকেই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ফলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সিন্ডিকেটগুলো বেকার তরুণদের ব্যবহার করছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা সহজ সুবিধা দিয়ে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। মাদকের নেটওয়ার্ক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা’ তৈরি করে তার বিস্তার ঘটিয়েই যাচ্ছে। এরা স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য ওলটপালট করে দিয়েছে। ফলে মাদক এখন গ্রামীণ সমাজের এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক শক্তি। গ্রামের মানুষ জানে, দেখে, বোঝে—কিন্তু ভয় বা অসহায়ত্বের কারণে কিছু বলতে পারে না।
সরকার মাঝে মাঝে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করে। কিন্তু সেই যুদ্ধের কোনো ধারাবাহিকতা নেই। বড় সরবরাহকারী বা সিন্ডিকেট নেতারা অক্ষত থাকে, আর ধরা পড়ে ছোটোখাটো ব্যবহারকারী। এতে জনগণের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র কি সত্যিই এই সংকট মোকাবিলায় আন্তরিক? নাকি এটি কেবল ঘোষণাবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ?
মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় সিন্ডিকেটগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তারা জানে, বড় কোনো ঝুঁকি নেই। ফলে মাদক ব্যবসা এখন গ্রামীণ অর্থনীতির এক লাভজনক, কিন্তু ধ্বংসাত্মক অংশে পরিণত হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজের ভাঙন: আমরা কি প্রস্তুত
মাদক শুধু একজন তরুণকে ধ্বংস করে না; এটি পরিবার, সামাজিক আস্থা, শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশসহ মানুষের কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে। মাদক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিতে পারে, এমন উদাহরণ আছে। একজন মাদকাসক্ত তরুণ মানে একটি পরিবারে অনন্ত অস্থিরতা, আর্থিক চাপ ও পরিবারের সবার মানসিক যন্ত্রণার কারণ। গ্রামের অভিভাবকরা এখন অসহায়; তারা জানে না কীভাবে তাদের সন্তানকে বাঁচাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। কৃষিকাজে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি বাড়ছে এবং অন্যায় বেআইনি কর্মকাণ্ড বাড়ছে। এসব অবক্ষয়ের সবকিছুই মাদকের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দশকে গ্রামীণ বাংলাদেশ এমন এক সংকটে পড়বে, যার পরিণতি কল্পনারও বাইরে।
এর সমাধানও একদিনে আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশি অভিযান পরিচালনা কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত, তথ্যভিত্তিক, সমন্বিত নীতির সঠিক বাস্তবায়ন।
শক্তিশালী আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বড় বড় সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেট ভাঙা সবচেয়ে জরুরি কাজ। তাছাড়া গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিতে হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যুবক-তরুণদের যোগ্যতার বিচারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গ্রাম উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত। তরুণ-যুবকদের হাতে কাজ না থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।
এদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ শিল্প ও কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার বিষয়কেও সমানভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সব ধরনের সংগঠনের মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করা দরকার যাতে মাদক বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি নেওয়া, সবার জন্য নিরাপদ বিনোদন ও ক্রীড়া সুবিধার ব্যবস্থা করা অর্থবহ হতে পারে।
গ্রামীণ এলাকায় সুলভ চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করে সেখান থেকে সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যত তাড়াতাড়ি হবে; তত তাড়াতাড়ি মাদকের গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে।
গ্রামীণ বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা যদি এখনই চোখ খুলে না দেখি, যদি এখনই পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এই নীরব মহামারী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রাস করবে।
মাদক সমস্যাকে কারোরই আর উপেক্ষা করার সময় ও সুযোগ নেই। এখনই সময় রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তি সবাইকে একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। গ্রামকে বাঁচাতে হলে গ্রামের তরুণ-যুবকদের বাঁচাতে হবে। আর তরুণ-যুবকদের বাঁচাতে হলে যেকোনো মুল্যেই হোক, মাদককে থামাতে হবে। আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও গবেষক
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।