স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের অগ্নিপরীক্ষা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)—মোট ৫১টি দলের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে গত ১৫ বছরের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া। ১১৯টি প্রতীকের এই লড়াই কেবল সংখ্যায় বড় নয়, এটি দীর্ঘদিনের ‘একপাক্ষিক’ নির্বাচনী ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বহুত্ববাদী রাজনীতির ইঙ্গিত।
আওয়ামী লীগ-বিহীন নির্বাচনের প্রভাব
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে দেশের আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকা এবং ১৪ দলীয় জোটের বর্জন নির্বাচনী মাঠকে এক নতুন মেরুকরণে নিয়ে এসেছে। আগে যেখানে লড়াই ছিল ‘নৌকা বনাম ধানের শীষ’, সেখানে এবার লড়াইটা হচ্ছে ‘বিএনপি বনাম অন্যান্য’দের। ইসির তালিকায় জাসদের প্রার্থীদের নাম আছে। যদিও জাসদ বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করছে। ৩১ জানুয়ারি জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের দলের পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কাকে কোথায় থেকে এনে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা জানি না। আমরা ভোট বর্জন করছি।
সংস্কারের ওপর গণভোট: ব্যালট পেপারের নতুন মাত্রা
এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হলো সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট। এটি স্রেফ কোনো সাধারণ ভোট নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কারের যে ম্যান্ডেট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে, তার সরাসরি গণ-অনুমোদন। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্রথমবারের মতো দ্বৈত ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন—তারা যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছেন, তেমনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামোর স্থপতি হিসেবেও রায় দিচ্ছেন।
ঐতিহাসিক বিবর্তন: প্রথম থেকে দ্বাদশ সংসদ
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি নির্বাচন কোনো না কোনো সংকটের জন্ম দিয়েছে অথবা সমাধান করেছে। নিচে পরিসংখ্যানের আলোকে সেই পরিক্রমা বিশ্লেষণ করা হলো:
১৯৭৩-১৯৮৮ আধিপত্যবাদ ও সামরিক বলয়: স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে আওয়ামী লীগের জয় ছিল মূলত যুদ্ধের পরবর্তী জাতীয় আবেগের প্রতিফলন। তবে ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া ছিল ভবিষ্যতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার এক প্রচ্ছন্ন সংকেত।
পরবর্তীতে জিয়ার আমলে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয় এবং বিএনপি ২০৭টি আসন পায়। এটি ছিল সামরিক শাসন থেকে বেসামরিক শাসনে উত্তরণের একটি প্রচেষ্টা। এরশাদের আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনগুলো (তৃতীয় ও চতুর্থ) ছিল মূলত জনবিচ্ছিন্ন। ১৯৮৬ সালে বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল, কিন্তু ১৯৮৮ সালে উভয় দল বর্জন করায় সেটি ছিল সম্পূর্ণ একপাক্ষিক। এই সময়ের ইনসাইট হলো—জনগণ ও প্রধান বিরোধী দল যখনই বর্জন করেছে, সংসদ তার বৈধতা হারিয়েছে এবং দ্রুত ভেঙে গেছে।
১৯৯১-২০০৮ দ্বিদলীয় রাজনীতির স্বর্ণযুগ ও আস্থার সংকট: ১৯৯১ সালের পঞ্চম নির্বাচনকে বলা হয় আধুনিক গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। ৭৫টি দলের অংশগ্রহণ এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের তীব্র লড়াই প্রমাণ করেছিল যে মানুষ সুষ্ঠু ভোট চায়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ৬ষ্ঠ নির্বাচন (বিএনপি এককভাবে ২৭৮ আসন পায়) ১২ দিনের মাথায় ভেঙে পড়া প্রমাণ করে যে বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচন বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনটি ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এটি ছিল প্রথম ভোট। রেকর্ড ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়া ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ স্থিতিশীলতা চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে যে বিশাল ম্যান্ডেট পায়, পরবর্তী সময়ে সেই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতাই দলটিকে একচ্ছত্র ক্ষমতার দিকে ধাবিত করে।
২০১৪-২০২৪ ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ থেকে ‘ডামি’ নির্বাচনের অন্ধকার যুগ: ২০১৪ সালের দশম নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ১৫৩ জন সদস্যের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া ছিল ভোটাধিকারের সবচেয়ে বড় অবমাননা। ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনগুলো মূলত সংখ্যাতাত্ত্বিক কারসাজি ছিল। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মাস ৭ দিন, যা ইঙ্গিত দেয় যে জোরপূর্বক ক্ষমতায় থাকা আধুনিক যুগে আর সম্ভব নয়। ইতিহাসে আওয়ামী লীগই প্রথম দল হিসেবে ক্ষমতা হারিয়ে গণহারে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়ে, যা রাজনীতির চরম নৈতিক পরাজয় নির্দেশ করে।
ত্রয়োদশ নির্বাচনের শক্তিমত্তা ও প্রার্থীর পরিসংখ্যান
এবারের নির্বাচনে দলগুলোর অংশগ্রহণ ও প্রার্থী সংখ্যা কেবল সংখ্যা নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেয়:
ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে যখন মানুষের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। ৫১টি দলের অংশগ্রহণ এবং ১১৯টি প্রতীকের এই কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ ভোটকেন্দ্রে ফিরতে চায়। তবে চ্যালেঞ্জটি হলো—বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর জঞ্জাল সরিয়ে এই বৃহৎ কর্মকাণ্ডকে কতটা স্বচ্ছ রাখা যাবে।
ইতিহাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে সংসদই জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ধারণ করেনি, তা স্থায়িত্ব পায়নি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি জয়ের উৎসব নয়, এটি গত ১৫ বছরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। ১১৯টি প্রতীকের ভিড়ে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন সংস্কারকে এবং কোন নেতৃত্বকে বেছে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী অর্ধশতাব্দীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের অগ্নিপরীক্ষা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)—মোট ৫১টি দলের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে গত ১৫ বছরের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া। ১১৯টি প্রতীকের এই লড়াই কেবল সংখ্যায় বড় নয়, এটি দীর্ঘদিনের ‘একপাক্ষিক’ নির্বাচনী ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বহুত্ববাদী রাজনীতির ইঙ্গিত।
আওয়ামী লীগ-বিহীন নির্বাচনের প্রভাব
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে দেশের আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকা এবং ১৪ দলীয় জোটের বর্জন নির্বাচনী মাঠকে এক নতুন মেরুকরণে নিয়ে এসেছে। আগে যেখানে লড়াই ছিল ‘নৌকা বনাম ধানের শীষ’, সেখানে এবার লড়াইটা হচ্ছে ‘বিএনপি বনাম অন্যান্য’দের। ইসির তালিকায় জাসদের প্রার্থীদের নাম আছে। যদিও জাসদ বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করছে। ৩১ জানুয়ারি জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের দলের পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কাকে কোথায় থেকে এনে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা জানি না। আমরা ভোট বর্জন করছি।
সংস্কারের ওপর গণভোট: ব্যালট পেপারের নতুন মাত্রা
এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হলো সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট। এটি স্রেফ কোনো সাধারণ ভোট নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কারের যে ম্যান্ডেট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে, তার সরাসরি গণ-অনুমোদন। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্রথমবারের মতো দ্বৈত ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন—তারা যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছেন, তেমনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামোর স্থপতি হিসেবেও রায় দিচ্ছেন।
ঐতিহাসিক বিবর্তন: প্রথম থেকে দ্বাদশ সংসদ
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি নির্বাচন কোনো না কোনো সংকটের জন্ম দিয়েছে অথবা সমাধান করেছে। নিচে পরিসংখ্যানের আলোকে সেই পরিক্রমা বিশ্লেষণ করা হলো:
১৯৭৩-১৯৮৮ আধিপত্যবাদ ও সামরিক বলয়: স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে আওয়ামী লীগের জয় ছিল মূলত যুদ্ধের পরবর্তী জাতীয় আবেগের প্রতিফলন। তবে ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া ছিল ভবিষ্যতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার এক প্রচ্ছন্ন সংকেত।
পরবর্তীতে জিয়ার আমলে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয় এবং বিএনপি ২০৭টি আসন পায়। এটি ছিল সামরিক শাসন থেকে বেসামরিক শাসনে উত্তরণের একটি প্রচেষ্টা। এরশাদের আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনগুলো (তৃতীয় ও চতুর্থ) ছিল মূলত জনবিচ্ছিন্ন। ১৯৮৬ সালে বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল, কিন্তু ১৯৮৮ সালে উভয় দল বর্জন করায় সেটি ছিল সম্পূর্ণ একপাক্ষিক। এই সময়ের ইনসাইট হলো—জনগণ ও প্রধান বিরোধী দল যখনই বর্জন করেছে, সংসদ তার বৈধতা হারিয়েছে এবং দ্রুত ভেঙে গেছে।
১৯৯১-২০০৮ দ্বিদলীয় রাজনীতির স্বর্ণযুগ ও আস্থার সংকট: ১৯৯১ সালের পঞ্চম নির্বাচনকে বলা হয় আধুনিক গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। ৭৫টি দলের অংশগ্রহণ এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের তীব্র লড়াই প্রমাণ করেছিল যে মানুষ সুষ্ঠু ভোট চায়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ৬ষ্ঠ নির্বাচন (বিএনপি এককভাবে ২৭৮ আসন পায়) ১২ দিনের মাথায় ভেঙে পড়া প্রমাণ করে যে বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচন বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনটি ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এটি ছিল প্রথম ভোট। রেকর্ড ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়া ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ স্থিতিশীলতা চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে যে বিশাল ম্যান্ডেট পায়, পরবর্তী সময়ে সেই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতাই দলটিকে একচ্ছত্র ক্ষমতার দিকে ধাবিত করে।
২০১৪-২০২৪ ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ থেকে ‘ডামি’ নির্বাচনের অন্ধকার যুগ: ২০১৪ সালের দশম নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ১৫৩ জন সদস্যের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া ছিল ভোটাধিকারের সবচেয়ে বড় অবমাননা। ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনগুলো মূলত সংখ্যাতাত্ত্বিক কারসাজি ছিল। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মাস ৭ দিন, যা ইঙ্গিত দেয় যে জোরপূর্বক ক্ষমতায় থাকা আধুনিক যুগে আর সম্ভব নয়। ইতিহাসে আওয়ামী লীগই প্রথম দল হিসেবে ক্ষমতা হারিয়ে গণহারে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়ে, যা রাজনীতির চরম নৈতিক পরাজয় নির্দেশ করে।
ত্রয়োদশ নির্বাচনের শক্তিমত্তা ও প্রার্থীর পরিসংখ্যান
এবারের নির্বাচনে দলগুলোর অংশগ্রহণ ও প্রার্থী সংখ্যা কেবল সংখ্যা নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেয়:
ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে যখন মানুষের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। ৫১টি দলের অংশগ্রহণ এবং ১১৯টি প্রতীকের এই কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ ভোটকেন্দ্রে ফিরতে চায়। তবে চ্যালেঞ্জটি হলো—বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর জঞ্জাল সরিয়ে এই বৃহৎ কর্মকাণ্ডকে কতটা স্বচ্ছ রাখা যাবে।
ইতিহাস থেকে দেখা যাচ্ছে যে ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে সংসদই জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ধারণ করেনি, তা স্থায়িত্ব পায়নি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি জয়ের উৎসব নয়, এটি গত ১৫ বছরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। ১১৯টি প্রতীকের ভিড়ে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন সংস্কারকে এবং কোন নেতৃত্বকে বেছে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী অর্ধশতাব্দীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে নিজেকে পরিবর্তনের দূত হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু তিনি এবং বিএনপির অতীত রেকর্ড প্রশ্নবিদ্ধ। এই বিষয়গুলো নিয়েই আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরকে।
৭ ঘণ্টা আগে
জানুয়ারির শেষ দিকের এক দুপুর। ঢাকার ব্যস্ত যানজটের ভেতর দিয়ে অটোরিকশা চালাতে চালাতে রুবেল চাকলাদারের কণ্ঠে ক্ষোভের চেয়ে যেন এক ধরনের অসহায়ত্বই বেশি ঝরে পড়ছিল। ৫০ বছর বয়সী রুবেল বলছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হঠানোর পর বাংলাদেশিরা বিরল সুযোগ পেয়েছিল। এই সুযোগ তারা হেলায় হারিয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ষোল বছর ধরে বাংলাদেশে যে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা জেঁকে বসেছিল, তা ছিল মূলত জনগণের সম্মতিবিহীন এক শাসন। এই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে সেই বদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোনো নতুন বিষয় নয়।
১ দিন আগে