লেখা:

কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এককেন্দ্রিক ধারায় পরিচালিত হয়ে এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষোলো বছরের দীর্ঘ শাসনামলে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
ডিজিটাল সংযোগ, ট্রানজিট সুবিধা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা—এসব ক্ষেত্রে একের পর এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর ভারতের স্বার্থের সঙ্গে বাংলাদেশের এক গভীর ও প্রায় একচেটিয়া ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত যে গণঅভ্যুত্থান হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাল, তা পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।
প্রথমে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নীরবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে।
এ পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বহিঃপ্রকাশ হলো কৌশলগতভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এগারো সদস্যবিশিষ্ট এ জোটের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ঢাকার কূটনৈতিক উদ্যোগ কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া নয়, বরং তা প্রয়োজনের তাগিদেই গৃহীত হয়েছে। যদিও পূর্ণ সদস্যপদ লাভ এখনো অনেক দূরের বিষয়, তবুও ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ বা খাতভিত্তিক সংলাপ-সহযোগী হওয়ার জন্য দেশটির আনুষ্ঠানিক আবেদন তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিসরকে বৈচিত্র্যময় করে তোলার একটি সচেতন প্রচেষ্টাকেই নির্দেশ করে।
বাণিজ্য, জলবায়ু-নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার সুযোগ করে দেওয়া খাতভিত্তিক অংশীদারিগুলো বাস্তবসম্মত ও বিকল্প পথ তৈরি করে দেয়। এ ধরনের অংশীদারি প্রগাঢ় সংহতি ও জোটে চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে এমন বার্তা পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশ নিজেকে আর কেবল দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রান্তসীমা হিসেবে দেখে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগকারী এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচনা করে।
এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পেছনে জোরালো অর্থনৈতিক কারণ আছে। সত্তরের দশকে পশ্চিমা কূটনীতিকরা যে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করতেন, সেই বাংলাদেশই গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি-প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি-পোশাক রপ্তানিকারক এবং সাশ্রয়ী উৎপাদনখাতের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আসিয়ান এমন একটি অর্থনৈতিক জোট, যা বর্তমানে সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতি ও অতিকেন্দ্রীভূত উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খোঁজার বিষয়ে অধিক মনোযোগী; তাদের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথাগত উৎপাদনকেন্দ্রগুলো যখন দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকা জনসংখ্যা ও সংকুচিত হতে থাকা স্থানীয় শ্রমশক্তির সংকটের মোকাবিলা করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ এক বিশাল ও অব্যবহৃত জনমিতিক লভ্যাংশের সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে; যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তরুণ কর্মীবাহিনী ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তাশ্রেণি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ শ্রমশক্তি সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর শুধু স্বল্প-দক্ষ ও কম খরচের অভিবাসী শ্রমিকের উৎস নয়; যদিও মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের নির্মাণ ও কৃষিখাতের মেরুদণ্ড হিসেবে এ দেশের শ্রমিকরা ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতি বছর দেশটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে হাজার হাজার স্নাতক তৈরি করে, যাদের জন্য নিজ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বর্তমানে উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্প ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগ করছে; তাদের কাছে ঢাকা কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির এক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সুসংগঠিত আঞ্চলিক কাঠামোর মাধ্যমে এ দক্ষ জনশক্তির প্রবাহকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলে আসিয়ান যেমন মূল্য-শৃঙ্খলে আরও উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে, তেমনই বাংলাদেশও তার শ্রমশক্তি রপ্তানি-ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের সুযোগ পাবে।
ভৌগোলিক অবস্থানও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দর-অবকাঠামোটি বাংলাদেশেরই নিয়ন্ত্রণে। চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প কেবল জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, বরং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযোগকারী প্রধান নৌপথগুলোর ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়ায় স্থলবেষ্টিত দক্ষিণ এশীয় বাজারগুলোর প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করা সামুদ্রিক পথটি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মেকং অঞ্চল ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের বাইরে নিজেদের কৌশলগত পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে থাকা আসিয়ানের জন্য বাংলাদেশের সাথে প্রগাঢ় সংহতি গড়ে তোলা ভারত মহাসাগরীয় বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে সরাসরি ও কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
তা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বর্তমান চিত্রটি ইঙ্গিত দেয়, এক্ষেত্রে কতটা বিপুল সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সাথে সম্পন্ন হয়; অথচ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে ৪২ শতাংশ এবং ইউরোপের সাথে ৩১ শতাংশ বাণিজ্য হয়ে থাকে।
বাণিজ্যের এ অসম বিন্যাস একটি স্পষ্ট কাঠামোগত অসামঞ্জস্যকে চিহ্নিত করে। পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে কেবল এ ভারসাম্যহীনতাই দূর হবে না, বরং সংরক্ষণবাদ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ক্রমশ ভঙ্গুর বিশ্ব বাণিজ্য-ব্যবস্থার অস্থিরতা থেকেও উভয় পক্ষ সুরক্ষা পাবে।
ঢাকার জন্য আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থ হলো ভবিষ্যতে ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’-এর মতো বিশাল বাণিজ্যকাঠামোর অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়া, যার ফলে দেশের শিল্পখাত বিশ্বব্যাপী উৎপাদন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারবে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভের পথে প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো বেশ কঠিন। আসিয়ান সনদের ৬ নম্বর ধারায় নতুন সদস্যদের জন্য কঠোর শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান।
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে—মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন সীমান্ত এবং মালয় অঞ্চলের সাথে ঐতিহাসিক সামুদ্রিক সম্পর্কের কারণে—বাংলাদেশকে কার্যত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়; অথচ প্রচলিত মানচিত্রে দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই দেখানো হয়।
যে সংস্থাটি কঠোরভাবে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং নিজেদের আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব পোষণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার সাম্প্রতিক প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত ধারণা দেয়; দেশটি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আবেদনকারীর পর্যায় থেকে পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করতে তাদের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তা ছাড়া, আসিয়ান বর্তমানে এমন কিছু অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের সম্মুখীন, যা জোটটির সম্প্রসারণের আগ্রহকে সীমিত করে দিচ্ছে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী অচলাবস্থা নিয়ে জোটের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে; যেখানে সমুদ্র-তীরবর্তী সদস্য দেশগুলো জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, সেখানে স্থলবেষ্টিত প্রতিবেশী দেশগুলো ‘নীরব কূটনীতি’ বা পর্দার আড়ালে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পক্ষপাতী।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে বিতাড়িত প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আসিয়ানের সংবেদনশীল ফোরামগুলোতে এমন এক জটিল ও আবেগঘন দ্বৈত সংকট টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন।
কোনো কোনো সদস্য রাষ্ট্রের আশঙ্কা, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতি এই সংস্থায় প্রবেশ করতে পারে; বিশেষ করে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অথচ সংস্থাটি নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বাইরের জটিলতা থেকে দূরে থাকার জন্য গর্ববোধ করে।
এ উদ্বেগগুলো নিরসনে বাংলাদেশকে আবেগময় আবেদনের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে; ২০২৪ সালের শেষভাগে ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সমর্থনের আশ্বাস আদায় করেছেন। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অংশীদার এবং দেশটি আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।
তা ছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি-এর মাধ্যমে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধের সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাধান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ঢাকার সুচিন্তিত দায়বদ্ধতারই প্রমাণ দেয়। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা আসিয়ানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে, কারণ সংস্থাটিকে প্রতিনিয়ত নিজেদের অঞ্চলেই সামুদ্রিক বিরোধ সামাল দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আসিয়ানের দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক মানচিত্রকে নতুন করে গড়ে তোলারই একটি প্রয়াস। সদস্যপদ লাভের আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে যদি ঢাকাকে বিনয়ের সাথে অপেক্ষমাণ রাখা হয়, তবে বিষয়টিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
শুরুতেই ‘সেক্টরাল ডায়ালগ স্ট্যাটাস’ অর্জন, কাস্টমস ও বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন দেশের রাজধানীর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ওপর মনোযোগ দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে অপরিহার্য করে তুলতে পারে।
(এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন নাঈমুল আলম মিশু)

কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এককেন্দ্রিক ধারায় পরিচালিত হয়ে এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষোলো বছরের দীর্ঘ শাসনামলে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
ডিজিটাল সংযোগ, ট্রানজিট সুবিধা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা—এসব ক্ষেত্রে একের পর এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর ভারতের স্বার্থের সঙ্গে বাংলাদেশের এক গভীর ও প্রায় একচেটিয়া ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত যে গণঅভ্যুত্থান হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাল, তা পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।
প্রথমে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নীরবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে।
এ পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বহিঃপ্রকাশ হলো কৌশলগতভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এগারো সদস্যবিশিষ্ট এ জোটের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ঢাকার কূটনৈতিক উদ্যোগ কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া নয়, বরং তা প্রয়োজনের তাগিদেই গৃহীত হয়েছে। যদিও পূর্ণ সদস্যপদ লাভ এখনো অনেক দূরের বিষয়, তবুও ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ বা খাতভিত্তিক সংলাপ-সহযোগী হওয়ার জন্য দেশটির আনুষ্ঠানিক আবেদন তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিসরকে বৈচিত্র্যময় করে তোলার একটি সচেতন প্রচেষ্টাকেই নির্দেশ করে।
বাণিজ্য, জলবায়ু-নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার সুযোগ করে দেওয়া খাতভিত্তিক অংশীদারিগুলো বাস্তবসম্মত ও বিকল্প পথ তৈরি করে দেয়। এ ধরনের অংশীদারি প্রগাঢ় সংহতি ও জোটে চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে এমন বার্তা পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশ নিজেকে আর কেবল দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রান্তসীমা হিসেবে দেখে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগকারী এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচনা করে।
এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পেছনে জোরালো অর্থনৈতিক কারণ আছে। সত্তরের দশকে পশ্চিমা কূটনীতিকরা যে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করতেন, সেই বাংলাদেশই গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি-প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি-পোশাক রপ্তানিকারক এবং সাশ্রয়ী উৎপাদনখাতের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আসিয়ান এমন একটি অর্থনৈতিক জোট, যা বর্তমানে সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতি ও অতিকেন্দ্রীভূত উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খোঁজার বিষয়ে অধিক মনোযোগী; তাদের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথাগত উৎপাদনকেন্দ্রগুলো যখন দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকা জনসংখ্যা ও সংকুচিত হতে থাকা স্থানীয় শ্রমশক্তির সংকটের মোকাবিলা করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ এক বিশাল ও অব্যবহৃত জনমিতিক লভ্যাংশের সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে; যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তরুণ কর্মীবাহিনী ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তাশ্রেণি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ শ্রমশক্তি সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর শুধু স্বল্প-দক্ষ ও কম খরচের অভিবাসী শ্রমিকের উৎস নয়; যদিও মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের নির্মাণ ও কৃষিখাতের মেরুদণ্ড হিসেবে এ দেশের শ্রমিকরা ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতি বছর দেশটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে হাজার হাজার স্নাতক তৈরি করে, যাদের জন্য নিজ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বর্তমানে উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্প ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগ করছে; তাদের কাছে ঢাকা কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির এক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সুসংগঠিত আঞ্চলিক কাঠামোর মাধ্যমে এ দক্ষ জনশক্তির প্রবাহকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলে আসিয়ান যেমন মূল্য-শৃঙ্খলে আরও উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে, তেমনই বাংলাদেশও তার শ্রমশক্তি রপ্তানি-ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের সুযোগ পাবে।
ভৌগোলিক অবস্থানও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দর-অবকাঠামোটি বাংলাদেশেরই নিয়ন্ত্রণে। চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প কেবল জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, বরং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযোগকারী প্রধান নৌপথগুলোর ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়ায় স্থলবেষ্টিত দক্ষিণ এশীয় বাজারগুলোর প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করা সামুদ্রিক পথটি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মেকং অঞ্চল ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের বাইরে নিজেদের কৌশলগত পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে থাকা আসিয়ানের জন্য বাংলাদেশের সাথে প্রগাঢ় সংহতি গড়ে তোলা ভারত মহাসাগরীয় বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে সরাসরি ও কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
তা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বর্তমান চিত্রটি ইঙ্গিত দেয়, এক্ষেত্রে কতটা বিপুল সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সাথে সম্পন্ন হয়; অথচ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে ৪২ শতাংশ এবং ইউরোপের সাথে ৩১ শতাংশ বাণিজ্য হয়ে থাকে।
বাণিজ্যের এ অসম বিন্যাস একটি স্পষ্ট কাঠামোগত অসামঞ্জস্যকে চিহ্নিত করে। পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে কেবল এ ভারসাম্যহীনতাই দূর হবে না, বরং সংরক্ষণবাদ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ক্রমশ ভঙ্গুর বিশ্ব বাণিজ্য-ব্যবস্থার অস্থিরতা থেকেও উভয় পক্ষ সুরক্ষা পাবে।
ঢাকার জন্য আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থ হলো ভবিষ্যতে ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’-এর মতো বিশাল বাণিজ্যকাঠামোর অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়া, যার ফলে দেশের শিল্পখাত বিশ্বব্যাপী উৎপাদন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারবে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভের পথে প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো বেশ কঠিন। আসিয়ান সনদের ৬ নম্বর ধারায় নতুন সদস্যদের জন্য কঠোর শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান।
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের বিচারে—মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন সীমান্ত এবং মালয় অঞ্চলের সাথে ঐতিহাসিক সামুদ্রিক সম্পর্কের কারণে—বাংলাদেশকে কার্যত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়; অথচ প্রচলিত মানচিত্রে দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই দেখানো হয়।
যে সংস্থাটি কঠোরভাবে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং নিজেদের আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব পোষণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার সাম্প্রতিক প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত ধারণা দেয়; দেশটি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও আবেদনকারীর পর্যায় থেকে পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করতে তাদের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তা ছাড়া, আসিয়ান বর্তমানে এমন কিছু অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের সম্মুখীন, যা জোটটির সম্প্রসারণের আগ্রহকে সীমিত করে দিচ্ছে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী অচলাবস্থা নিয়ে জোটের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে; যেখানে সমুদ্র-তীরবর্তী সদস্য দেশগুলো জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, সেখানে স্থলবেষ্টিত প্রতিবেশী দেশগুলো ‘নীরব কূটনীতি’ বা পর্দার আড়ালে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পক্ষপাতী।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে বিতাড়িত প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আসিয়ানের সংবেদনশীল ফোরামগুলোতে এমন এক জটিল ও আবেগঘন দ্বৈত সংকট টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন।
কোনো কোনো সদস্য রাষ্ট্রের আশঙ্কা, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতি এই সংস্থায় প্রবেশ করতে পারে; বিশেষ করে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অথচ সংস্থাটি নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বাইরের জটিলতা থেকে দূরে থাকার জন্য গর্ববোধ করে।
এ উদ্বেগগুলো নিরসনে বাংলাদেশকে আবেগময় আবেদনের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে; ২০২৪ সালের শেষভাগে ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সমর্থনের আশ্বাস আদায় করেছেন। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অংশীদার এবং দেশটি আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।
তা ছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি-এর মাধ্যমে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধের সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাধান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ঢাকার সুচিন্তিত দায়বদ্ধতারই প্রমাণ দেয়। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যা আসিয়ানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে, কারণ সংস্থাটিকে প্রতিনিয়ত নিজেদের অঞ্চলেই সামুদ্রিক বিরোধ সামাল দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আসিয়ানের দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক মানচিত্রকে নতুন করে গড়ে তোলারই একটি প্রয়াস। সদস্যপদ লাভের আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে যদি ঢাকাকে বিনয়ের সাথে অপেক্ষমাণ রাখা হয়, তবে বিষয়টিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
শুরুতেই ‘সেক্টরাল ডায়ালগ স্ট্যাটাস’ অর্জন, কাস্টমস ও বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন দেশের রাজধানীর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ওপর মনোযোগ দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে অপরিহার্য করে তুলতে পারে।
(এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন নাঈমুল আলম মিশু)
.png)

ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম এক ধাক্কায় ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩৫৭ টাকা কমানো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশের বাজারে ঘটবে—এটাই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নীতি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই স্বাভাবিক ঘটনাই অনেক সময় অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
২ ঘণ্টা আগে
পর্যায়ক্রমিক সরকারগুলোর অধীনে বাংলাদেশের চীন নীতিতে কি মৌলিক কোনো পরিবর্তন এসেছে? নাকি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ধারাবাহিক একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে?
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের একটা গ্রামের ছেলে ব্রাজিলের জার্সি পরে উল্লাস করে, পতাকা ওড়ায় ছাদে, দেয়ালে আঁকে মেসি বা নেইমারের ছবি। এই ভালোবাসার পেছনে যুক্তি খুঁজতে যাওয়াই বৃথা—এটা নিছক আবেগ, আর সেই আবেগই ফুটবলকে বানিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক ঘটনা।
৯ ঘণ্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলের হামলা তিন বছর গড়াতে চলেছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব জেরুজালেম, সিরিয়া ও লেবাননেও। অথচ আরব দেশগুলো শুধু উদ্বেগ প্রকাশ, প্রতীকী ত্রাণ সহায়তা পাঠানো এবং জাতিসংঘে বৈঠকের আহ্বান জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
১১ ঘণ্টা আগে