সরকারের ছয় মাস: অর্জনের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের প্রশ্ন

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৭
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া

১৭ বছরের স্বৈরশাসনের পর একটি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন। রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো ১০০ মিটার দৌড় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, গণঅভ্যুত্থান এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তার সামনে প্রত্যাশা যেমন বেশি থাকে, তেমনি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যার ভারও থাকে অনেক বেশি।

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে মূল্যায়ন করতে হলে দুটি বিপরীত বাস্তবতাকে একই সঙ্গে দেখতে হবে। কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনের জায়গায় এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম ১৮০ দিনে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগ, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখানে লক্ষ্য করা যায়—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সরকারি কর্মসূচির মধ্যে একটি দৃশ্যমান সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনী ইশতেহার প্রায়ই নির্বাচনের পর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি, ভোটের পরে প্রশাসনিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বড় বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই জায়গায় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরার উদ্যোগ ইতিবাচক। এর ফলে সরকারকে অন্তত নিজের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে নিজের কার্যক্রমের তুলনা করার অবস্থানে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন। কতগুলো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তা নয়, বরং কতগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, কতটা টেকসই এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব কতটা পড়েছে?

ঘোষণা বনাম বাস্তবায়ন

সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হওয়া উচিত ‘ঘোষিত সাফল্য’ এবং ‘বাস্তব সাফল্য’-এর মধ্যে। একটি প্রকল্প অনুমোদন, একটি কার্ড চালু, একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত কিংবা একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা নিজে কোনো উন্নয়ন নয়। উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয় যখন তার প্রভাব নাগরিকের জীবনে পৌঁছায়। উদাহরণ হিসেবে কৃষকদের ঋণ মওকুফের উদ্যোগের কথা বলা যায়। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। কিন্তু কৃষকের মূল সমস্যা শুধু ঋণ নয়। উৎপাদন ব্যয়, সার-বীজের মূল্য, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণব্যবস্থা, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি—সবকিছু মিলিয়ে কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নির্ধারিত হয়। ফলে ঋণ মওকুফকে যদি কৃষি সংস্কারের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এর সঙ্গে বাজারব্যবস্থা সংস্কার ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রশ্নও যুক্ত করতে হবে।

একইভাবে ফ্যামিলি কার্ড বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বণ্টন এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর। অতীতে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় সমস্যা ছিল টার্গেটিং, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। পুরোনো কাঠামোর ওপর নতুন কর্মসূচি বসিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।

অর্থনীতি: সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

সরকারের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা সম্ভবত অর্থনীতি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ—এসব কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এগুলোর জন্য প্রয়োজন একটি সুসংহত অর্থনৈতিক কৌশল। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে শুধু প্রবৃদ্ধির প্রশ্নে আটকে নেই; বরং আস্থার সংকটও একটি বড় বিষয়। ব্যবসায়ী জানতে চান নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে কি না। বিদেশি বিনিয়োগকারী জানতে চান, চুক্তি ও সম্পত্তির অধিকার কতটা নিরাপদ। ব্যাংক জানতে চায় আর্থিক খাতের সংস্কার কতটা কঠোর হবে। সাধারণ মানুষ জানতে চায়, বাজারদর কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে। তরুণরা জানতে চায়, নতুন কর্মসংস্থান কোথায় তৈরি হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আইনের শাসন, নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা, দক্ষ আমলাতন্ত্র, দ্রুত অনুমোদন, কার্যকর অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। ফলে বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্নটি আসলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন।

আমলাতন্ত্র: সংস্কারের সবচেয়ে কঠিন ক্ষেত্র

সরকার পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ; রাষ্ট্রযন্ত্র পরিবর্তন করা কঠিন। বাংলাদেশের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়করণ, রাজনৈতিক প্রভাব, পদায়ন-নির্ভর প্রণোদনা এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। নতুন সরকার যদি শুধু কিছু কর্মকর্তাকে বদলি করে এবং নতুন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়, তাহলে সেটিকে প্রশাসনিক সংস্কার বলা যাবে না। প্রকৃত সংস্কার হলো—কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কে সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী থাকবে, নাগরিক কীভাবে সেবা পাবে এবং ব্যর্থতার জন্য কী ধরনের জবাবদিহি থাকবে—এই কাঠামো পরিবর্তন করা।

এখানে একটি মৌলিক ঝুঁকি রয়েছে। রাজনৈতিক সরকার প্রায়ই মনে করে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই প্রশাসন কার্যকর হবে। বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ কিন্তু নীতিগতভাবে জবাবদিহিমূলক পেশাদার আমলাতন্ত্র। সরকারের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত সাংবিধানিক দায়িত্বের, আনুগত্যের নয়।

রাজনৈতিক সরকার প্রায়ই মনে করে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই প্রশাসন কার্যকর হবে। বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ কিন্তু নীতিগতভাবে জবাবদিহিমূলক পেশাদার আমলাতন্ত্র। সরকারের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত সাংবিধানিক দায়িত্বের, আনুগত্যের নয়।

জবাবদিহির সংস্কৃতি: ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জবাবদিহির প্রশ্নটি জনপরিসরে আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারকে এখন নিয়মিত তার প্রতিশ্রুতি, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। মিডিয়া, নাগরিক সমাজ এবং জনগণ সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির তুলনা করছে। সরকারি কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক পার্থক্য করা প্রয়োজন—জবাবদিহির সংস্কৃতি এবং জবাবদিহির প্রতিষ্ঠান এক জিনিস নয়। একজন মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরকারের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করতে পারে। সংবাদমাধ্যম সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরতে পারে। কিন্তু এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির বিকল্প নয়। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্বাধীন ও কার্যকর সংসদীয় কমিটি, শক্তিশালী নিরীক্ষা ব্যবস্থা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কাঠামো, কার্যকর তথ্য অধিকার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, পেশাদার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।

সবচেয়ে বড় ঘাটতি: প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার দৃশ্যমান রোডম্যাপ কোথায়

সরকারের ছয় মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনাটি এখানেই। সরকার ব্যক্তি ও কর্মসূচি নিয়ে অনেক কথা বলেছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠান নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার অর্থ শুধু নতুন চেয়ারম্যান বা নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নয়। বরং প্রশ্ন হলো—প্রতিষ্ঠানটির আইনগত স্বাধীনতা কতটা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা কতটা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কতটা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সেটি কতটা সুরক্ষিত? দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার, বিচারব্যবস্থা, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান—প্রতিটির ক্ষেত্রেই প্রয়োজন ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার। বিশেষ করে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে কেবল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়। দুর্নীতি উৎপাদনকারী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভাঙতে হবে। সরকারি ক্রয়, ভূমি প্রশাসন, কর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং, নিয়োগ, লাইসেন্স প্রদান—যেসব জায়গায় ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ বেশি এবং নাগরিকের ওপর প্রশাসনের নির্ভরতা বেশি, সেখানেই দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। সুতরাং, কতজন দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দেওয়া হলো এই প্রশ্ন হচ্ছে বেশি জরুরী। কতগুলো দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করা হলো?

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বনাম রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি

সরকারের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটি নির্বাচিত সরকার স্বাভাবিকভাবেই তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাইবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা, বিরোধী মতের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিয়মের ওপর। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো দলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়। আজ একটি দল ক্ষমতায়, আগামীকাল অন্য দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাই যে প্রতিষ্ঠান আজ ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দেয়, ভবিষ্যতে সেটিই তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। এই উপলব্ধি থেকেই প্রতিষ্ঠানকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়া প্রয়োজন।

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ব্যর্থ বলা যেমন অযৌক্তিক, তেমনি একে বড় ধরনের সফলতা হিসেবেও চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার সময় এখনো আসেনি। কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে, কিছু সামাজিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং জবাবদিহির একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি হচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের সংকট মূলত কর্মসূচির সংকট নয়; এটি প্রতিষ্ঠান ও সক্ষমতার সংকট।

একটি সরকার কৃষকের ঋণ মওকুফ করতে পারে, পরিবারকে কার্ড দিতে পারে, রাস্তা নির্মাণ করতে পারে, নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তৈরি করতে হলে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যা সরকার পরিবর্তনের পরও কার্যকর থাকবে। সুতরাং আগামী ছয় মাসের আসল প্রশ্ন হবে না—‘সরকার আর কী কী করেছে?’ প্রশ্ন হবে—‘সরকার এমন কী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে, যা আগামী সরকারও সহজে ধ্বংস করতে পারবে না?’ কারণ রাজনৈতিক সরকার আসে ও যায়; কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান থেকে যায়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠতে পারে তার ওপর। প্রথম ছয় মাসে সরকার জনগণকে দেখিয়েছে যে পরিবর্তন সম্ভব। এখন তাদের দেখাতে হবে, পরিবর্তনটি টেকসই করার মতো প্রতিষ্ঠানও তারা তৈরি করতে পারে।

নূরুল হুদা সাকিব: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত