চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ছিল এক দানবীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। যেটি মেগা প্রকল্প দিয়ে বছরের পর বছর উন্নয়নের ফাঁকা বুলিকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে, ভেতরে ভেতরে সমাজ থেকে, সাধারণ নাগরিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শাসক। সমাজের সুনির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী ছিল তাঁর সুবিধাভোগী। সেই গোষ্ঠী আর শাসক মিলে তৈরি করেছিল এমন এক শাসন ব্যবস্থা, যেই ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিককে আড়াল করতে কথিত উন্নয়নের কল্পকাহিনি ব্যবহার হয়েছিল ‘লুপ হোলে’র মতো। উন্নয়ন যখন কেবল দালানকোঠার হিসেবে আটকে যায়, তখন তা নাগরিকের মানবিক মর্যাদাকে গ্রাস করে নেয়। এই আড়াল করা উন্নয়নের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছিল সাধারণের হাহাকার।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই শাসনব্যবস্থা ও শাসকের বিরুদ্ধে নৈতিকতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার লড়াইও। যার শুরুটা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিল বৈষম্য। সাধারণ নাগরিকের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল না। ছিল না মমত্ববোধ। সমাজের প্রকৃত শক্তি যে তার দালানকোঠা, প্রবৃদ্ধির হার কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নয়; বরং মানুষের প্রতি কতটা দায়শীল ও দরদি তার মধ্যে নিহিত—সেটাই ভুলে গিয়েছিল সেই শাসকশ্রেণি। সেই দরদহীন শাসনব্যবস্থা ভেঙে যায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে। স্বপ্ন তৈরি হয় নতুন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার।
অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরাও স্বপ্ন দেখান—নতুন এক রাষ্ট্রব্যবস্থার, সমাজের, শাসন ব্যবস্থার—যেখানে শাসক হবে দায়িত্বশীল ও দরদি। নাগরিকের বিপদের, দুর্দিনে রাষ্ট্র তার মমত্ববোধের শান্ত নিবিড় ছায়াতলে আশ্রয় দেবে। শাসনব্যবস্থা দাঁড়াবে দায় নেওয়ার মানসিকতা নির্ভর হয়ে। নৈতিকতা, সততার, বৈষম্যহীন নাগরিক দৃষ্টিকোণ হবে শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। জনগণ ভেবেছিল, রাষ্ট্র এবার কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে তার প্রতিটি সদস্যের ব্যথায় সাড়া দেবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর এমন দায় ও দরদের অনেক কথা শোনাও গিয়েছিল। সেজন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার নানান জায়গায় হাতও দিয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নানান কমিশন, কমিটি ও বিভিন্ন উপদেষ্টাদের উদ্যোগও চোখে পড়েছে। কিন্তু আজ প্রায় দেড় বছরে রাষ্ট্রের চরিত্র কতটুকু দরদি হয়েছে? কতটা দায়িত্বশীল হয়েছে এই প্রশ্ন করাটা অমূলক হবে না এখন। রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের চেয়েও বড় প্রয়োজন ছিল তার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, যার প্রতিফলন এখনও ধূসর।
দায় ও দরদের সমাজের কথা গণঅভ্যুত্থানের পরপরই এর নেতাদের মুখে শোনা যায়। বিশেষত নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও উমামা ফাতেমারা দায় ও দরদের রাজনীতির কথা বলেছিলেন। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী জায়গায় থেকে ঘৃণা, বিভাজন, হিংসা, বৈষম্য এসবের ঊর্ধ্বে দেশের নীতি গঠনের কথা তাঁরা বলেছিলেন। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর তার সিকিভাগও দৃশ্যমান হয়নি। আবার গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতারা যে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছিলেন তাও দৃশ্যমান হয়নি। বরং আদর্শিক বয়ান আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা জনমনে হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরাও নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলেন। যে বাংলাদেশে নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা, নৈতিকতা ও মানবিকতা গুরুত্ব পাবে সেটাও চোখে পড়ছে না। তার নজির পাওয়া যায় চলতি বছরের দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া খুনের মামলার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যানেও। সেই পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৯৩০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে খুন হন ২৯৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে খুনের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০০। পরের মাসে খুনের সংখ্যা আরও বাড়ে। মার্চে সারা দেশে ৩১৬ জন খুন হয়েছেন। এপ্রিলে ৩৩৬ জন, মে মাসে ৩৪১ জন খুন হন। জুনে চলতি বছরের সর্বোচ্চ খুনের ঘটনা ঘটে। এ মাসে সারা দেশে মোট ৩৪৩ জন খুন হয়েছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রতি মাসেই খুনের ঘটনা বাড়ছে। বেশি খুন হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন, ঢাকা রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে। অনেক খুনের পেছনে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনা কাজ করেছে। বিগত শাসনের এই রক্তাক্ত উত্তরাধিকার বন্ধ করতেই জনগণ অভ্যুত্থান করেছিল; কিন্তু দেড় বছর পর এসেও যখন সেই একই পরিসংখ্যানের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তখন রাষ্ট্রের 'পরিবর্তিত চরিত্র' নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রাষ্ট্র কি তবে কেবল শাসক বদলেছে, নাকি তার ভেতরের সেই নিষ্ঠুর প্রাণহীন যন্ত্রটি অপরিবর্তিতই থেকে গেছে?
দায় ও দরদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন মাহফুজ আলম। সম্প্রতি তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। এই কমিশনের লক্ষ্য ছিল মিডিয়া মালিকানার নিয়ন্ত্রণ, একটি স্বাধীন জাতীয় মিডিয়া কাউন্সিল গঠন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কঠোর আইন সংস্কার এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ বিষয়ে সুপারিশ। মানে পুরোনো যে ব্যবস্থা তার সংস্কার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মাহফুজের পদত্যাগের মাত্র দিন চারেক পর এই কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ‘আমরা ১০০টির বেশি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এর একটিও গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করেনি সরকার।’
দায় ও দরদের সমাজ কোনো আবেগী স্লোগান নয়। রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক আচরণের সম্মিলিত চর্চা। রাষ্ট্রকে কেবল উন্নয়ন প্রদর্শনে নয়, মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে হয়। সমাজকে কেবল দর্শক নয়, নৈতিক অংশীদার করতে হয়। আর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয় এবং সমাজ দরদ দেখায়।
কামাল আহমেদ সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ করেছেন তা হলো—গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা থাকলেও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে তথ্য পেতে কমিশনকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। গোপনীয়তার অজুহাতে কমিশনের প্রতিবেদনের কিছু অংশ, বিশেষ করে, টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়া সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই আমলাতান্ত্রিক অসহযোগিতা প্রমাণ করে যে, সংস্কারের সদিচ্ছা কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ, আমলাতন্ত্রের গভীরে সেই পুরোনো 'গোপন শাসনে'র দরদহীন সংস্কৃতি আজও অটুট।
আবার কমিশন এ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে দিলেও সরকার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তা বাদ দিয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে অকার্যকর ও সরকারনির্ভর প্রেস কাউন্সিলকেই পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কামাল আহমেদের কথা যদি সত্যি হয়, তবে খোদ মাহফুজ আলমের মন্ত্রণালয়ের নমুনা এমন হলে অন্যদের অবস্থা কেমন হবে তা কিছুটা হলেও অনুমেয়। বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা যখন গতানুগতিক সরকারি ফাইলের নিচে চাপা পড়ে, তখন তাকে আর 'নতুন বন্দোবস্ত' বলা যায় না।
আর দরদের ঘাটতির তো ভূরি ভূরি উদাহরণ দেওয়া যায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর (সেখানে ছাত্র উপদেষ্টাও তো ছিল) টানা কয়েক মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙা শুরু হলো। এমনকি কবর থেকে লাশ তুলে আগুনে পোড়ানোর ঘটনাও ঘটল। মব তৈরি করে যা ইচ্ছে তাই করা শুরু করল এক শ্রেণির লোক। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল কেউ কেউ মবকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা না করে; উল্টো এটিকে প্রেসার গ্রুপ বললেন। যখন রাষ্ট্র মব বা উন্মত্ত জনতাকে আইনি ব্যবস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখন তা নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার ওপর থেকে তার আইনি রক্ষাকবচ কেড়ে নেয়।
ছাত্র উপদেষ্টারাও এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করলেন না। গণঅভ্যুত্থানের নেতারাও না। এর জের কতদূর গড়াল তার নজির হয়ে থাকল প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং উদীচী ও ছায়ানটে হামলায়। দেশের নানান প্রান্তে একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটছে এখনো। গত মাসেই দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে মারা হলো, বিএনপি নেতার ঘরে আগুন দিয়ে দুটো মেয়ে শিশুকে পুড়িয়ে মারা হলো। এসব নিয়ে সরকারের, বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের নেতারা কোনো আলাপ দিয়েছেন এমনটা চোখে পড়েনি। তাদের দরদে এসব ঘটনা যেন কোনো আবেদনই তৈরি করল না। দরদ যখন কেবল সমমনা গোষ্ঠীর জন্য সীমিত হয়ে পড়ে, তখন তা আর 'মানবিকতা' থাকে না, বরং এক নতুন ধরনের 'রাজনৈতিক সংকীর্ণতা'য় রূপ নেয়।
মোদ্দকথা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশেও দায়িত্ব, জবাবদিহি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আবার সরকারের দায় এড়ানোর মানসিকতাও নানাভাবে ও নানান ঘটনায় উপদেষ্টাদের কথাবার্তার ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্তে ছোটখাটো ঘটনার জেরে খুন-খারাবি হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি, সরকারের প্রতি নাগরিকদের আস্থার সংকট কাটেনি।
বাংলাদেশে আগেও উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেবাপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা ছিল অপমানজনক ও হয়রানিমূলক। হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে হতো পরিচয় আর তদবির দিয়ে, বিচার পেতে সময় লাগত বছরের পর বছর, প্রশাসনের মুখোমুখি হলে সাধারণ মানুষ নিজেকে অসহায় মনে করত। এসব কেবল ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়; এগুলোই ছিল রাষ্ট্রীয় দরদের অভাবের লক্ষণ। সেই ব্যবস্থা ভাঙতেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু নতুন বন্দোবস্ত, সংস্কার, রাষ্ট্র মেরামত বা কোনো উদ্যোগই প্রকৃতপক্ষে এসবের অবসান ঘটাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। বরং আগের মতোই এখনো রাষ্ট্রীয় দরদের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্র আজও সাধারণ নাগরিকের অসহায়ত্বকে তার মূল সংকট হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
রাষ্ট্র যখন দরদহীন হয়েছিল, সমাজ প্রশ্ন তোলে প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু তার ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি। বরং অন্যায় দেখে এখন আবার চুপ থাকা, দুর্বলকে দায়ী করা, ক্ষমতাবানকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সমাজে একসময় পারিবারিক ও সামাজিক সহমর্মিতা ছিল শক্তিশালী। বিপদে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াত। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ভোগবাদ ও রাজনৈতিক বিভাজনে সেই দরদ সংকুচিত হয়েছে। রাস্তায় দুর্ঘটনায় আহত মানুষ পড়ে থাকে, শ্রমিকের মৃত্যু সংবাদ হয়ে দ্রুত হারিয়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও অবমাননা সহজ বিনোদনে পরিণত হয়েছে। এটা কেবল ব্যক্তিগত আচরণ নয়; এগুলো সামাজিক নৈতিকতার প্রতিফলন। কিন্তু চব্বিশ গণঅভ্যুত্থানের পর তার পরিবর্তন আশা করেছিল মানুষ। বলা যায়, জন-আকাঙ্ক্ষা সেভাবেই তৈরি হয়েছিল।
দায় ও দরদের সমাজ কোনো আবেগী স্লোগান নয়। রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক আচরণের সম্মিলিত চর্চা। রাষ্ট্রকে কেবল উন্নয়ন প্রদর্শনে নয়, মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে হয়। সমাজকে কেবল দর্শক নয়, নৈতিক অংশীদার করতে হয়। আর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয় এবং সমাজ দরদ দেখায়। নতুন বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনে যারাই ক্ষমতায় আসুক, মানুষের প্রতি বিশেষ করে, সব শ্রেণির নাগরিকের প্রতি সাম্যের ভিত্তি নীতি ঠিক করাই হবে প্রধান কাজ।
এই নীতি কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, একে শাসকের মজ্জাগত মানসিকতায় রূপান্তর করতে হবে। যেই নীতিতে কোনো বিভেদ থাকবে না, বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্ভব হবে না, সমাজে নিচুতলা, উঁচুতলা বলে কিছু থাকবে না। শাসকশ্রেণির আলাদা কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হবে না। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্বশীল ও মমত্ববোধ থাকবে এবং পিছিয়ে পড়াদের দিকে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা থাকবে। সমাজে ঘৃণা, বিভেদ আর হিংসার সংস্কৃতি পাল্টাতে হলে অবশ্যই মানুষের প্রতি, নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের; ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষের দরদি হতে হবে। অন্যথায় কেবল ক্ষমতার হাতবদল হবে, রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক চরিত্র আর 'দরদহীন' কাঠামোর কোনো মুক্তি ঘটবে না।