leadT1ad

নারীবান্ধব সমাজ ও দেশ: প্রগতির বিভ্রম বনাম অন্ধকার বাস্তব

ছবি: সংগৃহীত

২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫। সাভার থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলাম। সেই দিনটি ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তাল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশে ফেরা তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসছিলেন। তাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। গণপরিবহন বলতে গেলে অচল। উপায় না পেয়ে দুজন অপরিচিত নারীর সঙ্গে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাগ করে নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করলাম।

রাস্তার দুই পাশে মানুষের চোখে-মুখে এক ধরনের প্রত্যাশা ও উত্তেজনা। রিকশার ভেতরে আমার সহযাত্রী নারীর মুখে শুনলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বয়ান। তিনি বলছিলেন, ‘তারেককে নিয়ে ওই মানুষগুলো যতই উত্তেজিত হোক না কেন, এইবার জামায়াত জিতবে। আর আমার মতে জামায়াতেরই আসন পাওয়া উচিত। কারণ তারা আমাদের মতো নারীদের কথা ভাবে।’

‘আমাদের মতো’—এই শব্দজোড়া আমার ভেতর এক কৌতূহল জন্ম দিল। আমি খুব সহজভাবে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন তিনি এমনটা ভাবছেন? তাঁর উত্তরটি ছিল, ‘জামায়াত এলে নারীদের আর বাইরে রোদে পুড়ে কাজ করতে হবে না। পুরুষরা নেতৃত্ব দেবে। আমরা তো নারী শাসন দেখলাম। নারী হিসেবে আমাদের আসল ধর্ম হলো ঘরে থাকা আর সন্তানদের মানুষ করা। এর বাইরে যাওয়া মানেই জাহান্নামের পথে পা বাড়ানো।’

একজন নারী যখন নিজের অর্জিত স্বাধীনতাকে ‘জাহান্নাম’ মনে করেন, তখন বুঝতে হবে পিতৃতন্ত্রের শেকড় আমাদের মনোজগতে কত গভীরে প্রোথিত। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম—নারীরা কাজ বন্ধ করে দিলে আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা গার্মেন্টস সেক্টরের কী হবে? তিনি নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাক। ওটা আরেক জাহান্নাম। পুরুষরা কাজ করবে। পুরুষরা রিকশা চালিয়ে যা আয় করবে, তা-ই অনেক বেশি হালাল। এই শাহবাগি নারীরাই সব নষ্ট করছে, এদের কারণেই আজ আজাব নামছে। এরা সবাই জাহান্নামে যাবে।’

হেমায়েতপুরে তারা নেমে যাওয়ায় আমার আর আলাপ লম্বা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু রিকশার সেই চাকা যেন আমার মাথার ভেতর ঘুরতে লাগল। নারী-ক্ষমতায়নের যে রঙিন বয়ান আমরা গত কয়েক দশক ধরে শুনে আসছি, তা আসলে কতটা নড়বড়ে? সামান্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়ায় তা কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে? আমি ভাবতে বাধ্য হলাম: আমরা কি সত্যিই পাল্টাচ্ছি? নাকি নারীদের নিয়ে এই মধ্যযুগীয় ভাবনাগুলো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সবসময়ই ছিল, যা অনুকূল পরিবেশ পেয়ে এখন বিষবৃক্ষের মতো ডালপালা মেলছে?

প্রতিশ্রুতি বনাম রূঢ় বাস্তবতা: ২০২৪-২৫ এর রাজনৈতিক বাঁক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল এক নজিরবিহীন জনবিস্ফোরণ, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অসামান্য। রাজপথে স্লোগান থেকে শুরু করে দেয়াললিখন—সবখানেই নারীদের সরব উপস্থিতি এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে আমরা এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়াশীলতার সম্মুখীন হচ্ছি। দীর্ঘ সময় কোণঠাসা হয়ে থাকা কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো আওয়ামী শাসনের পতনের পর যেন এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতা খুঁজে পেয়েছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে যে পুরুষতান্ত্রিক বয়ান তৈরি করছে, তা মূলত নারীকে গৃহবন্দি করার এক সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।

এর একটি প্রকট উদাহরণ দেখা যায় গত ৬ মার্চ শাহবাগ থানার ঘটনায়। এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা আসিফের মুক্তির দাবিতে একদল উগ্র জনতা থানায় চড়াও হয়। তাদের দাবি ছিল হাস্যকর এবং একই সঙ্গে ভয়ংকর। তারা বলল, অভিযুক্ত যুবক কেবল ‘ইসলামিক নৈতিক দায়িত্ব’ পালন করে ওই ছাত্রীকে শালীন পোশাক পরার ‘পরামর্শ’ দিয়েছিল। সেই মব যখন পবিত্র কুরআন ও পাগড়ি দিয়ে ওই অভিযুক্তকে বীরের বেশে বরণ করে নেয়, তখন বোঝা যায় আমাদের আইনি কাঠামো এবং সামাজিক বিচারবোধ কতটা ভঙ্গুর।

এই মানসিকতা কেবল রাজপথে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন রাজনৈতিক আদর্শের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘পাঁচ ঘণ্টার কর্মদিবস’ প্রস্তাবটি আপাতদৃষ্টিতে নারীবান্ধব মনে হলেও এর গভীরের উদ্দেশ্য হলো নারীকে মূল কর্মধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এটি নারীকে অধিকার দেওয়ার বদলে ‘পুরুষের দয়া’ হিসেবে চিত্রিত করে। অন্যদিকে মিজানুর রহমান আজহারীর মতো জনপ্রিয় বক্তারা যখন প্রকাশ্য সভায় ঘোষণা করেন যে নারীদের নেতৃত্বে থাকা অনুচিত, তখন তা লাখ লাখ মানুষের ডিজিটাল স্ক্রিনে পৌঁছে যায় আর একটি শক্তিশালী সামাজিক সম্মতি তৈরি করে।

ইশতেহারের গোলকধাঁধা: অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির ২৫ বছর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি বড় দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীবান্ধব রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেসব ছিল কেবল ভোট পাওয়ার কৌশল। ২০০১ সালে বিএনপি সংসদীয় আসন ৫০০ করার এবং সরাসরি নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা দিলেও তা সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৮ সালেও তারা সহজ শর্তে ঋণের কথা বলেছিল, যা তৃণমূলের নারীদের ভাগ্যে খুব কমই জুটেছে।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সাল থেকেই জাতিসংঘের সিডও সনদ অনুযায়ী সমান অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০০৮ সালে তারা ‘নারী উন্নয়ন নীতি’ পুনরুজ্জীবিত করা এবং ৩৩ শতাংশ সংরক্ষিত আসনের অঙ্গীকার করলেও ক্ষমতায় থাকাকালীন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। পারিবারিক সুরক্ষা আইন বা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মতো কিছু ভালো আইন হলেও সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।

একজন নারী যখন নিজের অর্জিত স্বাধীনতাকে ‘জাহান্নাম’ মনে করেন, তখন বুঝতে হবে পিতৃতন্ত্রের শেকড় আমাদের মনোজগতে কত গভীরে প্রোথিত। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম—নারীরা কাজ বন্ধ করে দিলে আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা গার্মেন্টস সেক্টরের কী হবে? তিনি নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাক। ওটা আরেক জাহান্নাম।

বর্তমানে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নারী ও অমুসলিমদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দের কথা ভাবছে। কিন্তু তাদের আদর্শিক অবস্থান অনুযায়ী এই বরাদ্দ কি নারীর ক্ষমতায়ন নাকি তাকে সমাজ থেকে আলাদা করার প্রয়াস, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জেন্ডার বাজেট বরাদ্দ হ্রাস পাওয়া আমাদের নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। জিডিপির ৪.৮৬ শতাংশ থেকে ৪.২ শতাংশে এই বাজেট নেমে আসা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য এক বিশাল বড় ধাক্কা।

‘শাহবাগি’: ভিন্নমত দমনের একটি অস্ত্র

বর্তমানে ‘শাহবাগি’ শব্দটি কেবল একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের পরিচায়ক নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী গালিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যে নারী অধিকারের কথা বলে, যে নিজের পোশাকের স্বাধীনতা চায়, অথবা যে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কথা বলে—তাকেই ‘শাহবাগি’ লেবেল দিয়ে সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা চলছে।

এই শব্দের ব্যবহারের পেছনে কাজ করছে এক ধরনের বিকৃত মনোবিজ্ঞান। শাহবাগি মানেই যেন এমন একজন ব্যক্তি যে ধর্মবিরোধী, পশ্চিমা ভাবধারার এবং অনৈতিক। এমনকি এই ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর শরীরী উপস্থিতিকেও আক্রমণ করা হয়—তার টিপ পরা, শাড়ি পরা এমনকি তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কুৎসিত মন্তব্য করা হয়। এটি মূলত চেরিস ক্রামারায়ের ‘মিউটেড গ্রুপ থিওরি-র একটি বাস্তব প্রয়োগ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ভাষার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তখন তারা এমন সব শব্দ বা তকমা তৈরি করে যা দিয়ে প্রান্তিক গোষ্ঠীর (এক্ষেত্রে নারী) কণ্ঠস্বরকে অবৈধ ঘোষণা করা যায়। যখন কোনো নারীকে ‘শাহবাগি’ বলা হয়, তখন সমাজ তার যুক্তি শোনার আগেই তাকে ‘বাতিল’ করে দেয়।

শিক্ষা কি সত্যিই মনকে মুক্ত করতে পারছে

গত ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের ফেসবুক পোস্ট আমাদের স্তম্ভিত করেছে। তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফের’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি যখন রোকেয়ার মতো ব্যক্তিত্বের সংস্কার আন্দোলনকে ‘ধর্মীয় বিচ্যুতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন বুঝতে হবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো গলদ রয়ে গেছে।

রোকেয়া তার ‘সুলতানার স্বপ্ন’-এ যে নারীর কথা বলেছিলেন, যারা ল্যাবরেটরি আর দেশ পরিচালনা করবে, আজ শত বছর পরও সেই স্বপ্ন এই ভূখণ্ডে অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অনেক নারী শিক্ষার্থীও সেই অধ্যাপকের পোস্টের নিচে সমর্থন জানিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় নারীরা নিজেরাই তাদের শৃঙ্খলকে ভালোবেসে ফেলেন। পাকিস্তানের শিক্ষাবিদ পারভেজ হুডভয় যেমন বলেছিলেন, আমরা হয়তো কেবল ‘সাক্ষর মৌলবাদী’ তৈরি করছি। যারা পড়তে ও লিখতে পারে, কিন্তু যাদের চিন্তা করার ক্ষমতা গোঁড়ামির কারাগারে বন্দি।

ডিজিটাল দোজখ এবং পরিকল্পিত হয়রানি

বর্তমান সময়ে সাইবার বুলিং কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্ত্র। বিশেষ করে নারী সাংবাদিক, এক্টিভিস্ট এবং পাবলিক ফিগারদের লক্ষ্য করে যে ধরনের সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়, তার পেছনে কাজ করে এক বিশাল ‘বট আর্মি’।

এই আক্রমণের প্যাটার্ন খুব নির্দিষ্ট: ১. প্রথমে নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা। ২. তাকে যৌন-অনুষঙ্গী করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা। ৩. পরকাল ও দোজখের ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্মবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা। ৪. শেষ পর্যন্ত তাকে শারীরিক সহিংসতার হুমকি দেওয়া।

যখন একটি পোস্টের নিচে হাজার হাজার কুরুচিপূর্ণ কমেন্ট জমা হয়, তখন একটি সাধারণ পাঠক মনে করতে পারেন যে এটিই বোধহয় জনমত। এই ‘ঐকমত্যের বিভ্রম’ তৈরি করার মাধ্যমে একজন সাহসী নারীকে নীরব করে দেওয়া হয়।

নীরবতার সংস্কৃতি বনাম আগামীর পথ

আমি সেই রিকশার কথোপকথনে ফিরে যাই। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে যে গার্মেন্টস সেক্টর থেকে, সেখানে নিয়োজিত ৪০ লাখ নারীর শ্রম যখন কোনো মানুষের কাছে ‘জাহান্নাম’ মনে হয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের প্রগতির গোড়ায় বিশাল গলদ রয়েছে। নারীর শ্রম যখন অর্থনীতির প্রয়োজন হয়, তখন তা ‘হালাল’, আর যখন ক্ষমতার রাজনীতির প্রয়োজন হয়, তখন তা ‘হারাম’—এই দ্বিচারিতাই বাংলাদেশের নারীর বর্তমান অবস্থান।

আজকের বাংলাদেশে যারা ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে বেগম রোকেয়াকে গালি দিচ্ছেন, তারাই আবার নারীর কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছেন। এটি এক নিষ্ঠুর বিদ্রূপ। প্রকৃত প্রগতি কেবল ফ্লাইওভার বা ডিজিটাল বাজেটে নেই, প্রগতি আছে নারীর স্বাধীনতায়, তার সম্মানে এবং তার অস্তিত্বের স্বীকৃতিতে।

সেই দুই নারী যাত্রী যখন হেমায়েতপুরে নেমে যাচ্ছিলেন, আমি তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম—তারা কি সত্যিই নিজেদের মুক্তি চান, নাকি তারা এমন এক অদৃশ্য খাঁচার বাসিন্দা হয়ে গেছেন যা তারা নিজেরাও টের পাচ্ছেন না? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কি সত্যিই একটি নারীবান্ধব দেশ হবে, নাকি আমরা প্রগতির লেবাস পরে মধ্যযুগের দিকেই হেঁটে যাব। একটি সমাজ যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে রাখতে চায়, তবে সেই সমাজ কখনোই মহান হতে পারে না।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত