নুরুল হুদা সাকিব

প্রতি বছর একটি দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের দুর্নীতি ধারণাসূচক প্রকাশ করে, এরপর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ বলেন, বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কেউ বলেন, সূচকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন এর পদ্ধতি নিয়ে। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষণীয়—এই বিতর্কের খুব কম অংশই দুর্নীতি কমানোর উপায় নিয়ে হয়।
সরকার বা রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশই দুর্নীতি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে কোনো নীতি প্রণয়ন বা সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ। আমরা যেন সূচককে পরাজিত করাকেই সাফল্য মনে করি; দুর্নীতিকে নয়।
আসলে একটি সূচক কোনো দেশের সম্মান নষ্ট করে না। দেশের প্রতিষ্ঠান, শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিই একটি দেশের ভাবমূর্তি তৈরি করে। যদি নাগরিক প্রতিদিন ঘুষ, অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং জবাবদিহির অভাবের মুখোমুখি হন, তাহলে আন্তর্জাতিক কোনো সূচক না থাকলেও দেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছিল মালয়েশিয়া। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচক প্রকাশের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথমে সূচকটির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি একে পশ্চিমা বিশ্বের আরেকটি ‘সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—সমালোচনা করেই তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিলেন বার্লিনে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের পদ্ধতি বোঝার জন্য। এরপর প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তারা কীভাবে আমাদের দেখছে’—এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ‘আমাদের কোথায় সমস্যা?’ অর্থাৎ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না র্যাঙ্কিং, ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার।
মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার জায়গাটি এখানেই। কোনো সূচক শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না। সামাজিক বিজ্ঞানেও এমন কোনো পরিমাপ নেই যা গণিতের সূত্রের মতো নির্ভুল। দুর্নীতি এমন একটি অপরাধ, যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রমাণ লুকিয়ে রাখে, নথি গোপন করে, সাক্ষীকে প্রভাবিত করে এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে। ফলে দুর্নীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে সব সময়ই কিছু অনিশ্চয়তা থাকবে।
কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকে অজুহাত বানিয়ে যদি আমরা মূল সমস্যাকে অস্বীকার করি, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে আমাদের নিজেদেরই।
বরং আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত—কেন জনগণ মনে করে দুর্নীতি বেড়েছে? কেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষের আস্থা কমছে? কেন বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি বারবার ঘটছে? কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারছে না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এসে দেবে না। উত্তর খুঁজতে হবে বাংলাদেশকেই।
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন। দুর্নীতিকে আমরা প্রায়ই ঘুষ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি। অথচ আধুনিক রাষ্ট্রে দুর্নীতির প্রকৃতি অনেক বেশি জটিল। নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবসায়িক সুবিধা, ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, কর ফাঁকি, অর্থ পাচার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রভাবিত করা, দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ—এসবই দুর্নীতির অংশ। এগুলোর অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না; আবার অনেক ক্ষেত্রেই আইনগতভাবে প্রমাণ করাও কঠিন। এই কারণেই শুধু ‘ধরা পড়া দুর্নীতি’ দেখে একটি দেশের প্রকৃত দুর্নীতির চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো গবেষণা বা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় গবেষক বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কিন্তু তথ্য, গবেষণা কিংবা সমালোচককে আক্রমণ করলে বাস্তবতা বদলায় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বা টিআইবির সঙ্গে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তাদের পদ্ধতির সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, হওয়াও উচিত। গবেষণার ক্ষেত্রে সমালোচনা অগ্রগতির পূর্বশর্ত। কিন্তু সমালোচনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার উদ্দেশ্য সত্যকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝা; সত্যকে অস্বীকার করা নয়।
বাংলাদেশে দুর্নীতির বাস্তবতা নিয়ে আজ আর খুব বেশি বিতর্ক নেই। বিতর্ক হচ্ছে, সেটি কীভাবে মাপা হবে। অথচ সাধারণ নাগরিকের কাছে পরিমাপের পদ্ধতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি সেবা পাচ্ছেন কি না, ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, ঘুষ ছাড়া কাজ হচ্ছে কি না, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট হচ্ছে কি না। একজন কৃষক, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, একজন চাকরিপ্রার্থী কিংবা একজন রোগীর কাছে সিপিআই স্কোরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতাই যদি বারবার বলে যে দুর্নীতি জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করেছে, তাহলে আন্তর্জাতিক সূচক নিয়ে বিতর্ক করে খুব বেশি লাভ নেই।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন র্যাঙ্কিং নিয়ে আত্মরক্ষামূলক বিতর্ক নয়; প্রয়োজন দুর্নীতির প্রকৃত কাঠামো বোঝা। কেন দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে উঠছে, কেন জবাবদিহি দুর্বল হচ্ছে, কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকের আস্থা হারাচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সূচক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের নিজের প্রতিষ্ঠান, নিজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নিজের সংস্কারের সক্ষমতা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচক ভুলও হতে পারে, অসম্পূর্ণও হতে পারে। কিন্তু যদি সেই অসম্পূর্ণ সূচকও আমাদের রাষ্ট্রে দুর্নীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, তাহলে আমাদের কাজ হওয়া উচিত সেই আয়নার দোষ খোঁজা নয়; বরং আয়নায় যে বাস্তবতা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা। সত্যিকারের প্রশ্ন তাই আর এটি নয়—বাংলাদেশ কত নম্বরে আছে।
প্রশ্নটি হওয়া উচিত—বাংলাদেশ কি এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারছে, যেখানে নাগরিককে তার ন্যায্য অধিকার পেতে ঘুষ, প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না? যেদিন এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিতে পারব, সেদিন আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানও স্বাভাবিকভাবেই বদলে যাবে।

প্রতি বছর একটি দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের দুর্নীতি ধারণাসূচক প্রকাশ করে, এরপর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ বলেন, বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কেউ বলেন, সূচকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন এর পদ্ধতি নিয়ে। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষণীয়—এই বিতর্কের খুব কম অংশই দুর্নীতি কমানোর উপায় নিয়ে হয়।
সরকার বা রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশই দুর্নীতি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে কোনো নীতি প্রণয়ন বা সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ। আমরা যেন সূচককে পরাজিত করাকেই সাফল্য মনে করি; দুর্নীতিকে নয়।
আসলে একটি সূচক কোনো দেশের সম্মান নষ্ট করে না। দেশের প্রতিষ্ঠান, শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিই একটি দেশের ভাবমূর্তি তৈরি করে। যদি নাগরিক প্রতিদিন ঘুষ, অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং জবাবদিহির অভাবের মুখোমুখি হন, তাহলে আন্তর্জাতিক কোনো সূচক না থাকলেও দেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছিল মালয়েশিয়া। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচক প্রকাশের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথমে সূচকটির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি একে পশ্চিমা বিশ্বের আরেকটি ‘সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—সমালোচনা করেই তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিলেন বার্লিনে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের পদ্ধতি বোঝার জন্য। এরপর প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তারা কীভাবে আমাদের দেখছে’—এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ‘আমাদের কোথায় সমস্যা?’ অর্থাৎ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না র্যাঙ্কিং, ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার।
মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার জায়গাটি এখানেই। কোনো সূচক শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না। সামাজিক বিজ্ঞানেও এমন কোনো পরিমাপ নেই যা গণিতের সূত্রের মতো নির্ভুল। দুর্নীতি এমন একটি অপরাধ, যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রমাণ লুকিয়ে রাখে, নথি গোপন করে, সাক্ষীকে প্রভাবিত করে এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে। ফলে দুর্নীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে সব সময়ই কিছু অনিশ্চয়তা থাকবে।
কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকে অজুহাত বানিয়ে যদি আমরা মূল সমস্যাকে অস্বীকার করি, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে আমাদের নিজেদেরই।
বরং আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত—কেন জনগণ মনে করে দুর্নীতি বেড়েছে? কেন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষের আস্থা কমছে? কেন বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি বারবার ঘটছে? কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারছে না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এসে দেবে না। উত্তর খুঁজতে হবে বাংলাদেশকেই।
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন। দুর্নীতিকে আমরা প্রায়ই ঘুষ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি। অথচ আধুনিক রাষ্ট্রে দুর্নীতির প্রকৃতি অনেক বেশি জটিল। নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবসায়িক সুবিধা, ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, কর ফাঁকি, অর্থ পাচার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রভাবিত করা, দলীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ—এসবই দুর্নীতির অংশ। এগুলোর অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না; আবার অনেক ক্ষেত্রেই আইনগতভাবে প্রমাণ করাও কঠিন। এই কারণেই শুধু ‘ধরা পড়া দুর্নীতি’ দেখে একটি দেশের প্রকৃত দুর্নীতির চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো গবেষণা বা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় গবেষক বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কিন্তু তথ্য, গবেষণা কিংবা সমালোচককে আক্রমণ করলে বাস্তবতা বদলায় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বা টিআইবির সঙ্গে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তাদের পদ্ধতির সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, হওয়াও উচিত। গবেষণার ক্ষেত্রে সমালোচনা অগ্রগতির পূর্বশর্ত। কিন্তু সমালোচনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার উদ্দেশ্য সত্যকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝা; সত্যকে অস্বীকার করা নয়।
বাংলাদেশে দুর্নীতির বাস্তবতা নিয়ে আজ আর খুব বেশি বিতর্ক নেই। বিতর্ক হচ্ছে, সেটি কীভাবে মাপা হবে। অথচ সাধারণ নাগরিকের কাছে পরিমাপের পদ্ধতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি সেবা পাচ্ছেন কি না, ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, ঘুষ ছাড়া কাজ হচ্ছে কি না, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট হচ্ছে কি না। একজন কৃষক, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, একজন চাকরিপ্রার্থী কিংবা একজন রোগীর কাছে সিপিআই স্কোরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতাই যদি বারবার বলে যে দুর্নীতি জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করেছে, তাহলে আন্তর্জাতিক সূচক নিয়ে বিতর্ক করে খুব বেশি লাভ নেই।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন র্যাঙ্কিং নিয়ে আত্মরক্ষামূলক বিতর্ক নয়; প্রয়োজন দুর্নীতির প্রকৃত কাঠামো বোঝা। কেন দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে উঠছে, কেন জবাবদিহি দুর্বল হচ্ছে, কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকের আস্থা হারাচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সূচক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের নিজের প্রতিষ্ঠান, নিজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নিজের সংস্কারের সক্ষমতা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচক ভুলও হতে পারে, অসম্পূর্ণও হতে পারে। কিন্তু যদি সেই অসম্পূর্ণ সূচকও আমাদের রাষ্ট্রে দুর্নীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, তাহলে আমাদের কাজ হওয়া উচিত সেই আয়নার দোষ খোঁজা নয়; বরং আয়নায় যে বাস্তবতা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা। সত্যিকারের প্রশ্ন তাই আর এটি নয়—বাংলাদেশ কত নম্বরে আছে।
প্রশ্নটি হওয়া উচিত—বাংলাদেশ কি এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারছে, যেখানে নাগরিককে তার ন্যায্য অধিকার পেতে ঘুষ, প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না? যেদিন এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিতে পারব, সেদিন আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানও স্বাভাবিকভাবেই বদলে যাবে।
.png)

বলতে গেলে পাঁচ দশক ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতি দিশেহারা। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে লাখো আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা দেশটি সেনাশাসনসহ নানা পালাবদলের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ১৩ টি জাতীয় নির্বাচন পেয়েছে। এর মধ্যে গত প্রায় ২০ বছর দেশটি চালিয়েছে বামঘেষা মধ্যমপন্থি দল হিসেবে পরিচিত বাং
১ ঘণ্টা আগে
১৭ বছরের স্বৈরশাসনের পর একটি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন। রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো ১০০ মিটার দৌড় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, গণঅভ্যুত্থান এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে
৩ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনার সম্প্রতি দেশে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। এই অঙ্গীকার বাংলাদেশের জন্য অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে। তেমনি ভারতের জন্যও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লি সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
১ দিন আগে
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬৩টি জেলায় ৪৫৯টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ঘটনাটির দায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) স্বীকার করে এবং পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা জানা যায়। সেই ঘটনার ২১ বছ
১৭ আগস্ট ২০২৬