রাজপথে আগুনসন্ত্রাস, বিপর্যস্ত গণতন্ত্র, কোন দিকে বাংলাদেশদেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সহিংসতার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হলেও, নির্বাচন বানচালের নেপথ্যে তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রবল।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন: ঐকমত্যহীন রাজনীতির বন্দিত্বে বাংলাদেশবাংলাদেশ এখন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশায় জাতি উল্লসিত হয়েছিল, সেই আশাই এখন অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা। জুলাই জাতীয় সনদ—যে দলিল একসময় নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল—আজ তা-ই হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ
মামদানির বড় বাজিনিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়ে সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের উল্লসিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই জয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, আজকের জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থার (পপুলিস্ট রাইটউইং) হাতেই শুধু জনতাকে সংঘবদ্ধ করার কিংবা নতুন ভোটারদের আকর্ষণ করার একচেটিয়া ক্ষমতা নেই।
নতুন পে–স্কেল: সুখবরের আড়ালে অর্থনৈতিক সতর্কবার্তাবর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার যৌথ পরীক্ষা।
তাকাইচি কেন জাপানের ‘লৌহমানবী’জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পুরুষ নেতাদের চেয়েও কঠোর হতে পারেন। অভিবাসন ও প্রতিরক্ষা নীতিতে তার কড়া অবস্থানের কারণে এমন ধারণা প্রকট হচ্ছে।
রুশ বিপ্লব, মার্ক্স ও আল্লামা ইকবালরাশিয়াতে যখন ১৯১৭ সালে বিপ্লব ঘটল, তখন বহির্বিশ্ব তাৎক্ষণিকভাবে এর গভীরতা অনুধাবন করতে পারেনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপক ডামাডোলের মধ্যে এটিকে অনেকেই আরেকটি সাধারণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করেছিল। তবে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামে লিপ্ত দরিদ্র দেশগুলোর কাছে এই বিপ্লব এক নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়।
১৯১৭-র রুশ বিপ্লব১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মতো কিছু মানবজাতির ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদের আপাত বিজয় ঘটছে। সেই ডামাডোলে একটি ঘটনা যেন ভুলেই গেছে সবাই। আমি এমন একটি বিষয়ের উপর জোর দিতে চাই। আর তা হোল ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব। এই বিপ্লব ছিল মানবজাতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর: সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও তার তাৎপর্য৭ নভেম্বরের তাৎপর্য বুঝতে হলে এর পূর্ববর্তী ঘটনাবলি অনুধাবন করা জরুরি। ১৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর জাতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় একটি পাল্টা অভ্যুত্থান, যার নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ।
৭ নভেম্বর: রাষ্ট্রচিন্তার পুনর্জাগরণবাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হলো ৭ নভেম্বর ১৯৭৫। এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মোড়-ফেরানো দিন। দিনটিকে কেউ বলেন ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’। বিরোধীরা বলেন, ‘রাষ্ট্রবিপর্যয়ের সূচনা’।
সর্বমিত্রের ‘লাঠির শাসন’, ডাকসুর ভূমিকা কি বদলে যাচ্ছেহেমন্তের রাত। হালকা হিম পড়ছে আকাশ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জাতীয় বার্ন ইউনিটের ১ নম্বর গেটের বিপরীতের ফুটপাতে পোটলা বিছিয়ে শুয়ে পড়লেন এক বৃদ্ধ। কিন্তু নিরপরাধ ঘুমের স্পর্শ পাওয়ার আগেই উদ্ধত লাঠির দেখা পেলেন তিনি। কয়েকজন তরুণ লাঠি হাতে বৃদ্ধকে শাসাতে লাগলেন সেখান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য।
মামদানির জয় কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীকনিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয় আসলে প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে এক নৈতিক জবাব। যে প্রাতিষ্ঠানিকতা আমাদের এতদিন বলে এসেছে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাই পূন্য ও টাকা থাকাই যোগ্যতা, সেই প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে মামদানির বিজয় যেন এক সাক্ষাৎ চপেটাঘাত।
আমেরিকার পুঁজিবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সমাজতান্ত্রিক মনবহু বছর ধরে সারা বিশ্বের কাছে আমেরিকা মানেই পুঁজিবাদের চূড়ান্ত প্রতীক। এই দুনিয়া চলে ওয়াল স্ট্রিট, সিলিকন ভ্যালির ইশারাতে। ব্যক্তির ইচ্ছাই এখানে শেষ কথা। এখানে ‘সমাজতন্ত্রী’ শব্দটি আজও রাজনৈতিক আক্রমণ বা গালাগাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ: নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যার মূলে রয়েছে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন ৮৪ দফা সুপারিশ পেশ করেছে।
গণভোটের পরেও কেন প্রয়োজন সংবিধান সংস্কার পরিষদ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাত ধরে সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে।
আমেরিকার প্রথম ‘সৎ’ প্রেসিডেন্টক্ষোভ এখন এক ধরনের জীবনধারা, নৈরাশ্য এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশন। রাজনৈতিক সমালোচনা এখন পণ্য—মিডিয়া ও প্রকাশনা শিল্প মানুষের ক্ষোভকে বই, ডকুমেন্টারি, বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রূপ দিচ্ছে।
বাজেট সংশোধন: অর্থনীতির চাপ সামাল না ভোটের প্রস্তুতি?চলতি অর্থবছরে ডিসেম্বরে সরকারের বাজেট সংশোধনের ঘোষণা গভীর অর্থনৈতিক সংকট নির্দেশ করে। ক্রমবর্ধমান ব্যয়, রাজস্ব ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে এই পদক্ষেপ কি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা, নাকি আসন্ন নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা অর্জনের রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আনু মুহাম্মদের কলাম /শিক্ষার সংকটে ভবিষ্যৎ: এক নৈরাজ্যিক ব্যবস্থার ব্যবচ্ছেদবাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটি বহুধা বিভক্ত ও বৈষম্যমূলক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। নীতিগত পঙ্গুত্ব, শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সংযোগহীনতা এর মূল কারণ, যা একটি জ্ঞানহীন প্রজন্ম ও সামাজিক বিভাজন তৈরি করছে।