স্ট্রিম সম্পাদকীয়

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা আমাদের বিমূঢ় করেছিল। জানা যায়, ঘাতক ছিল মাদকাসক্ত। তার মধ্যে ছিল পাশবিক প্রবণতা। সেই ঘটনায় দ্রুত বিচার হওয়ার কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে মরদেহ কাদায় পুঁতে রাখার খবর মিলল। এদিকে জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে লালমনিরহাটে আদিতমারীতে অপর এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
পল্লবীর ঘটনায় মাত্র ২০ দিনে রায় হওয়ার ঘটনা উৎসাহব্যঞ্জক। কিন্তু এর দাগ না শুকাতেই মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল আরও দুই শিশুর লাশ। একটি ঘটনায় দ্রুত বিচারও দেখা যাচ্ছে একই প্রকৃতির আরও অপরাধ থামাতে পারছে না।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় স্পষ্ট, অপরাধীরা শুধু মাদকসেবী নয়; তারা কখনো প্রতিবেশী, কখনো পরিচিতজন, কখনো এমনকি শিক্ষক। মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে আমরা উদ্বিগ্ন। এমন সিংহভাগ ঘটনা ‘অপরিচিতের বিপদকেন্দ্রিক’ ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং সামাজিক নজরদারির গুরুত্ব আনছে সামনে।
রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে পরিবারই হয় আশ্রয়। পরিবারকে এখন তাই সচেতন হতে হবে। শিশুদের সজাগ করার তাগিদ আর পাশে সরিয়ে রাখা যাবে না। শিশু যদি কারো সম্পর্কে ভীতি বা অস্বস্তি প্রকাশ করে— সেটিও আর অবহেলা করা যাবে না। শিশুর বিচরণ ও খেলার জায়গা এবং সঙ্গীদের বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিবারে এমন পরিবেশও তৈরি করতে হবে, যাতে শিশু তার অস্বস্তির কথা নির্ভয়ে বলতে পারে। সংকটময় সময় যখন উপস্থিত, তখন অভিভাবকদের বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে খবর হয়েছে। বহু মামলা পাঁচ থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ঝুলে থাকে। সাক্ষীরা অনুপস্থিত, তদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে মেলে, আইনি জটিলতায় বিচার থেমে যায়। অন্যদিকে এখনও সালিশে ধর্ষণের বিচার হয় অভিযুক্তকে জরিমানা কিংবা অপমান করে। এমন পরিবেশে অপরাধী স্বভাবতই আতঙ্ক অনুভব করে না। কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা না থাকলে অপরাধ রোধ হবে কীভাবে?
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন এবং এর বার্ষিক অডিট বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া মাত্র যথাযথ পদক্ষেপের বিধান রাখতে হবে। তৃতীয়ত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং মামলাজট দূর করতে সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন নির্ধারণ করা চাই। চতুর্থত, বিদ্যালয়ে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাও জরুরি মনে হচ্ছে।
সমাজকেও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিবেশী, মহল্লার মুরব্বি, শিক্ষক, ইমাম—সবাই মিলে একটি সজাগ সামাজিক বলয় তৈরি করতে পারলে অনেক অঘটনই ঠেকানো সম্ভব। শিশু নির্যাতনকে ‘লজ্জার বিষয়’ না ভেবে তার ওপর সংঘটিত অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে। গণমাধ্যমের পরিপূর্ণ সজাগ ভূমিকাও কাম্য। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম গণসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পল্লবীর লোমহর্ক ঘটনায় দ্রুত বিচার হলেও যতক্ষণ না একই ধরনের ঘটনা থামছে, ততক্ষণ সব ফ্রন্টে শিশু সুরক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একটি সমাজের পরিমাপ হয় সে তার দুর্বলতম মানুষকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে—সেটা দিয়ে। বাংলাদেশকে এ মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা আমাদের বিমূঢ় করেছিল। জানা যায়, ঘাতক ছিল মাদকাসক্ত। তার মধ্যে ছিল পাশবিক প্রবণতা। সেই ঘটনায় দ্রুত বিচার হওয়ার কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে মরদেহ কাদায় পুঁতে রাখার খবর মিলল। এদিকে জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে লালমনিরহাটে আদিতমারীতে অপর এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
পল্লবীর ঘটনায় মাত্র ২০ দিনে রায় হওয়ার ঘটনা উৎসাহব্যঞ্জক। কিন্তু এর দাগ না শুকাতেই মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল আরও দুই শিশুর লাশ। একটি ঘটনায় দ্রুত বিচারও দেখা যাচ্ছে একই প্রকৃতির আরও অপরাধ থামাতে পারছে না।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় স্পষ্ট, অপরাধীরা শুধু মাদকসেবী নয়; তারা কখনো প্রতিবেশী, কখনো পরিচিতজন, কখনো এমনকি শিক্ষক। মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে আমরা উদ্বিগ্ন। এমন সিংহভাগ ঘটনা ‘অপরিচিতের বিপদকেন্দ্রিক’ ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং সামাজিক নজরদারির গুরুত্ব আনছে সামনে।
রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে পরিবারই হয় আশ্রয়। পরিবারকে এখন তাই সচেতন হতে হবে। শিশুদের সজাগ করার তাগিদ আর পাশে সরিয়ে রাখা যাবে না। শিশু যদি কারো সম্পর্কে ভীতি বা অস্বস্তি প্রকাশ করে— সেটিও আর অবহেলা করা যাবে না। শিশুর বিচরণ ও খেলার জায়গা এবং সঙ্গীদের বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিবারে এমন পরিবেশও তৈরি করতে হবে, যাতে শিশু তার অস্বস্তির কথা নির্ভয়ে বলতে পারে। সংকটময় সময় যখন উপস্থিত, তখন অভিভাবকদের বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে খবর হয়েছে। বহু মামলা পাঁচ থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ঝুলে থাকে। সাক্ষীরা অনুপস্থিত, তদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে মেলে, আইনি জটিলতায় বিচার থেমে যায়। অন্যদিকে এখনও সালিশে ধর্ষণের বিচার হয় অভিযুক্তকে জরিমানা কিংবা অপমান করে। এমন পরিবেশে অপরাধী স্বভাবতই আতঙ্ক অনুভব করে না। কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা না থাকলে অপরাধ রোধ হবে কীভাবে?
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন এবং এর বার্ষিক অডিট বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া মাত্র যথাযথ পদক্ষেপের বিধান রাখতে হবে। তৃতীয়ত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং মামলাজট দূর করতে সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন নির্ধারণ করা চাই। চতুর্থত, বিদ্যালয়ে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাও জরুরি মনে হচ্ছে।
সমাজকেও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিবেশী, মহল্লার মুরব্বি, শিক্ষক, ইমাম—সবাই মিলে একটি সজাগ সামাজিক বলয় তৈরি করতে পারলে অনেক অঘটনই ঠেকানো সম্ভব। শিশু নির্যাতনকে ‘লজ্জার বিষয়’ না ভেবে তার ওপর সংঘটিত অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে। গণমাধ্যমের পরিপূর্ণ সজাগ ভূমিকাও কাম্য। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম গণসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পল্লবীর লোমহর্ক ঘটনায় দ্রুত বিচার হলেও যতক্ষণ না একই ধরনের ঘটনা থামছে, ততক্ষণ সব ফ্রন্টে শিশু সুরক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একটি সমাজের পরিমাপ হয় সে তার দুর্বলতম মানুষকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে—সেটা দিয়ে। বাংলাদেশকে এ মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
৮ ঘণ্টা আগে
৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তিপত্রে উপনীত হয়েছে, সেটা অগ্রাহ্য করা ইসরায়েলের পক্ষে কঠিন হবে। অনেকের সঙ্গে আমরাও আশা করব, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটিকে সংযত রাখবে।
১ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা তাৎক্ষণিক ক্ষতি কিছুটা লাঘব করবে, কিন্তু কাঠামোগত ভঙ্গুরতার কোনো চিকিৎসা এই সমঝোতায় নেই। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এখন সময়ের দাবি। একটি প্রণালি বন্ধ হলে যেন পুরো অর্থনী
১ দিন আগে
ইরানিদের সামনে এখনও দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণের কাছেও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবর্তনমুখী রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর একটি, সরকার যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন।
১ দিন আগে