স্ট্রিম সম্পাদকীয়

এখন কেবল সংবাদপত্র আর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভির যুগ নয়। কালক্রমে একগুচ্ছ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্ম হয়েছে বেসরকারি খাতে। বেড়েছে সংবাদপত্রের সংখ্যাও। অনলাইন আর ডিজিটাল মিডিয়ার উপস্থিতিও গণমাধ্যমের দিগন্ত বদলে দিচ্ছে। এর সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেড়েছে নাগরিকদের মত প্রকাশ।
পরিবর্তিত এ সময়ে দাঁড়িয়ে আজ স্মরণ করতে হয় চারটি সংবাদপত্র আর সরকারনিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভি রেখে বাকি সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের সময়টি। একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই সেটা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-সাধ জলাঞ্জলি দিয়ে। সেই অধ্যায় অবশ্য দীর্ঘায়িত হয়নি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে নানান মত-পথের সংবাদপত্রও বাজারে ফিরে আসে দ্রুত। আমরা নিশ্চিতভাবেই চাই না অন্ধকার সেই সময়টায় ফিরে যেতে। বিপুল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়ে সেটা অসম্ভবও বটে।
অনেক সংবাদমাধ্যম থাকলেই তথ্য ও মতের প্রকাশ অবারিত থাকবে, বিষয়টা অবশ্য এমন সরল নয়। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে এর প্রমাণ মিলেছে। দীর্ঘ সেই শাসনামলে সব সংবাদমাধ্যমের ওপরই ঝুলছিল পুরনো ও নতুন কালাকানুনের খড়গ। সংবাদকর্মীদের কঠোর সেলফ সেন্সরশিপের আওতায়ও থাকতে হয়েছে। দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। নিপীড়নমূলক আইন সংশোধনের নামে করা হয়েছে প্রতারণা।
১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবসে নিকট অতীতের এই সময়টাও আমরা স্মরণ করি। গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকারের আমলে এই আশাও পোষণ করি– অতীতের কোনো কালো অধ্যায়ই আর গ্রাস করবে না আমাদের। ‘আমাদের’ বলতে অবশ্য সর্বস্তরের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাই বোঝাই এবং বলতে চাই, সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতা এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংবাদকর্মীদের কাজ মূলত তথ্য নিয়ে। তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ তার পবিত্র দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমে মতও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তথ্য হবে সঠিক এবং মত থাকবে মুক্ত– এটাই সংবাদমাধ্যমের মূল কথা। আর সরকার এটা অনুধাবন করে চললেই সমস্যার অনেকখানি সমাধান হয়ে যায়। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ শাসকদের কাছে সংবাদকর্মীদের দাবি, তারা হস্তক্ষেপ না করে বরং এর বিকাশে সহায়ক হবেন। এতেই গণতন্ত্র সফল হওয়ার সম্ভাবনা। সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কোনো দেশে গণতন্ত্র জোরদার হয়নি। কম গণতন্ত্র আর অধিক উন্নয়নের স্লোগানও ব্যর্থ হয়েছে। ‘কম গণতন্ত্র’ তথা নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের জমানায় উন্নয়নের নামে লুটপাটতন্ত্র বরং কায়েম হয়েছিল। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের জন্যও তাই মুক্ত গণমাধ্যম প্রয়োজন।
গণমাধ্যম জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকবে না, এটাও স্বতঃসিদ্ধ। তার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। রাজনৈতিক পক্ষপাতও সঠিক তথ্য প্রদানে একজন সংবাদকর্মীকে নিরুৎসাহিত করবে না। অপতথ্য ছড়ানো তার কাছে অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে থাকতে হবে নিজস্ব নজরদারি। বাইরে থেকেও নজরদারি কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রয়োজন কেউ অস্বীকার করে না। সেটা আবার হতে হবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত মর্যাদাপূর্ণ কমিশনের মাধ্যমে; যেটা কোনোভাবেই সরকারের হাতিয়ার হবে না। তেমন কমিশন সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশে বরং সহায়ক হবে।
অন্তর্বর্তী শাসনামল থেকে এ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার সুন্দর পরিসমাপ্তি প্রয়োজন। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সেটি ঘটলে তা উদাহরণ হয়ে থাকবে। কমিশনের কাজ হবে স্বাধীন ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকতার পথে সৃষ্ট বাধাবিঘ্ন দূর করা। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাও গণমাধ্যমের বিকাশ নিশ্চিত করবে। আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত সময়ের অপেক্ষায় থাকলাম।

এখন কেবল সংবাদপত্র আর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভির যুগ নয়। কালক্রমে একগুচ্ছ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্ম হয়েছে বেসরকারি খাতে। বেড়েছে সংবাদপত্রের সংখ্যাও। অনলাইন আর ডিজিটাল মিডিয়ার উপস্থিতিও গণমাধ্যমের দিগন্ত বদলে দিচ্ছে। এর সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেড়েছে নাগরিকদের মত প্রকাশ।
পরিবর্তিত এ সময়ে দাঁড়িয়ে আজ স্মরণ করতে হয় চারটি সংবাদপত্র আর সরকারনিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভি রেখে বাকি সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের সময়টি। একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই সেটা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-সাধ জলাঞ্জলি দিয়ে। সেই অধ্যায় অবশ্য দীর্ঘায়িত হয়নি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে নানান মত-পথের সংবাদপত্রও বাজারে ফিরে আসে দ্রুত। আমরা নিশ্চিতভাবেই চাই না অন্ধকার সেই সময়টায় ফিরে যেতে। বিপুল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়ে সেটা অসম্ভবও বটে।
অনেক সংবাদমাধ্যম থাকলেই তথ্য ও মতের প্রকাশ অবারিত থাকবে, বিষয়টা অবশ্য এমন সরল নয়। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে এর প্রমাণ মিলেছে। দীর্ঘ সেই শাসনামলে সব সংবাদমাধ্যমের ওপরই ঝুলছিল পুরনো ও নতুন কালাকানুনের খড়গ। সংবাদকর্মীদের কঠোর সেলফ সেন্সরশিপের আওতায়ও থাকতে হয়েছে। দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। নিপীড়নমূলক আইন সংশোধনের নামে করা হয়েছে প্রতারণা।
১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবসে নিকট অতীতের এই সময়টাও আমরা স্মরণ করি। গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকারের আমলে এই আশাও পোষণ করি– অতীতের কোনো কালো অধ্যায়ই আর গ্রাস করবে না আমাদের। ‘আমাদের’ বলতে অবশ্য সর্বস্তরের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাই বোঝাই এবং বলতে চাই, সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতা এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংবাদকর্মীদের কাজ মূলত তথ্য নিয়ে। তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ তার পবিত্র দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমে মতও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তথ্য হবে সঠিক এবং মত থাকবে মুক্ত– এটাই সংবাদমাধ্যমের মূল কথা। আর সরকার এটা অনুধাবন করে চললেই সমস্যার অনেকখানি সমাধান হয়ে যায়। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ শাসকদের কাছে সংবাদকর্মীদের দাবি, তারা হস্তক্ষেপ না করে বরং এর বিকাশে সহায়ক হবেন। এতেই গণতন্ত্র সফল হওয়ার সম্ভাবনা। সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কোনো দেশে গণতন্ত্র জোরদার হয়নি। কম গণতন্ত্র আর অধিক উন্নয়নের স্লোগানও ব্যর্থ হয়েছে। ‘কম গণতন্ত্র’ তথা নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের জমানায় উন্নয়নের নামে লুটপাটতন্ত্র বরং কায়েম হয়েছিল। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের জন্যও তাই মুক্ত গণমাধ্যম প্রয়োজন।
গণমাধ্যম জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকবে না, এটাও স্বতঃসিদ্ধ। তার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। রাজনৈতিক পক্ষপাতও সঠিক তথ্য প্রদানে একজন সংবাদকর্মীকে নিরুৎসাহিত করবে না। অপতথ্য ছড়ানো তার কাছে অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে থাকতে হবে নিজস্ব নজরদারি। বাইরে থেকেও নজরদারি কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রয়োজন কেউ অস্বীকার করে না। সেটা আবার হতে হবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত মর্যাদাপূর্ণ কমিশনের মাধ্যমে; যেটা কোনোভাবেই সরকারের হাতিয়ার হবে না। তেমন কমিশন সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশে বরং সহায়ক হবে।
অন্তর্বর্তী শাসনামল থেকে এ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার সুন্দর পরিসমাপ্তি প্রয়োজন। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে সেটি ঘটলে তা উদাহরণ হয়ে থাকবে। কমিশনের কাজ হবে স্বাধীন ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকতার পথে সৃষ্ট বাধাবিঘ্ন দূর করা। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাও গণমাধ্যমের বিকাশ নিশ্চিত করবে। আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত সময়ের অপেক্ষায় থাকলাম।

বাংলাদেশের সামনে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সম্ভবত ভারত কতটা শক্তিশালী—তা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, আমরা ভারতকে কতটা শক্তিশালী বলে কল্পনা করি। কারণ ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বাস্তব শক্তির চেয়েও শক্তি সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস কাল্পনিক ধারণা অধিক কার্যকর রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি করতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
ফিফার র্যাঙ্কিংয়ে যে দেশের নামই কখনো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ঠাঁই পায়নি, সেই দেশের ছাদে, অলিগলিতে, এমনকি ধানখেতের পাশের বাঁশের খুঁটিতেও এখন উড়ছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। এই দুটি দূরবর্তী লাতিন আমেরিকান দেশই বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় দল।
৩ ঘণ্টা আগে
শিক্ষাবাজেটের অন্তত ০.৫ শতাংশ জিডিপিকে 'গবেষণা ও উন্নয়ন'-এর জন্য আলাদা উপ-খাত হিসেবে ঘোষণা করুন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে সরাসরি ও স্বাধীন 'থোক বরাদ্দ' নিশ্চিত করুন। একইসঙ্গে, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং মেধার ভিত্তিতে ফান্ডের বণ্টন তদারকি করতে...
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ব্যয়, নীতিগত দুর্বলতা, অস্বচ্ছতা এবং ভোক্তাবিরোধী সিদ্ধান্তের বোঝা বহন করছে। সরকার বদলেছে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার বদলেছে, আইনের ভাষা বদলেছে—কিন্তু সাধারণ ভোক্তার বাস্তবতা খুব একটা বদলায়নি।
৮ ঘণ্টা আগে