স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরুর খবরে বিশেষত জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করায় এর আমদানিকারক হিসেবে বাংলাদেশও স্বস্তি বোধ করছে। ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামের জাহাজটি হরমুজ অতিক্রমের খবর উৎসাহের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। জাহাজটি অবশ্য সৌদি আরব থেকে সার বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ইরান যুদ্ধে হরমুজ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যাদের অপরিশোধিত জ্বালানি আনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল।
নৌপথটি দিয়ে সারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও কম পরিবাহিত হয় না। হরমুজ দিয়ে চলাচল বন্ধ হওয়ার সারের বাজারও অস্থির হয়েছিল। এতে করে বোরোর ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও ছড়ায়। তবে সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়ে জ্বালানির অভ্যন্তরীণ বাজারে। আতঙ্ক ছড়ায় জ্বালানি তেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে; ভিড় বাড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোয়। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল হিসেবেও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে একপ্রকার বাধ্য হয় সরকার। তাতে পরিবহনসহ সম্পর্কিত খাতগুলোয় বাড়ে সেবা গ্রহণকারীদের খরচ। মূল্যস্ফীতিতে দ্রুতই এর প্রভাবও লক্ষ করা যায়। এটা নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর সময় অবশ্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তাতেও ভর্তুকি চলে যায় পরিকল্পনার বাইরে।
ইরান যুদ্ধে হওয়া সমঝোতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসায় সরকারের ভর্তুকি ব্যয় এখন কমে আসার কথা। এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, চলতি মাসের শেষে দাম সমন্বয়ে কিছু সুখবর মিলবে কিনা। শুধু বহুল ব্যবহৃত ডিজেল নয়; অকটেনের দাম কমানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীরা অকটেন ব্যবহার করেন। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী ব্যবহার করেন কেরোসিন। আর ফুটপাত থেকে গ্রাম পর্যন্ত এলপিজির ব্যবহার বেড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার রয়েছে ফার্স অয়েলের। জেট ফুয়েলের দামও কমা প্রয়োজন, যাতে আকাশপথে পরিবহন ব্যয় কমে। এগুলো মোটামুটি একযোগে ঘটলে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৈকি।
আসছে অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশে বেঁধে রাখতে চাইছে যখন, তখন জ্বালানির দামে নিম্নমুখি সমন্বয়ের কাজটি জরুরি বলেই বিবেচিত হবে। জ্বালানি পণ্যে উচ্চ মাত্রায় কর ধার্য করা আছে বলেও এগুলোর দাম বেশি কমতে পারছে না। এর সঙ্গে আবার সম্পর্ক রয়েছে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের। মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাবও সরকারের বিবেচনায় থাকা জরুরি; যখন এটিই সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হচ্ছে। হরমুজ থেকে আসা সুখবরে জ্বালানির বিশ্ববাজার সামনে আরও বেশি ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। এও বলা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে থেমে থেমে অস্থিরতা চলবে দীর্ঘদিন। ইসরায়েল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেবে না বলে শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় জ্বালানি আমদানির বিকল্প হিসেবে যেসব উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছিল, সেগুলো পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তাও রয়ে যাচ্ছে। জ্বালানির ‘কৌশলগত মজুত’ না থাকায় আমরা বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছিলাম ইরান যুদ্ধে। এ অবস্থায় চলমান মজুত যতটা বাড়ানো সম্ভব, সেদিকেও রাখতে হবে দৃষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অন্যান্য এজেন্ডার সঙ্গে জ্বালানি সহায়তা জোরদারের কথাও জানা যাচ্ছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক। নতুন পরিস্থিতির সুবাদে মাসের শেষে ডিজেলসহ জ্বালানির দামে কিছুটা হলেও হ্রাসের খবর আমরা শুনতে চাইব। সরকারের তরফ থেকেও এমন প্রতিশ্রুতি ছিল বৈকি।

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরুর খবরে বিশেষত জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করায় এর আমদানিকারক হিসেবে বাংলাদেশও স্বস্তি বোধ করছে। ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামের জাহাজটি হরমুজ অতিক্রমের খবর উৎসাহের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। জাহাজটি অবশ্য সৌদি আরব থেকে সার বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ইরান যুদ্ধে হরমুজ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যাদের অপরিশোধিত জ্বালানি আনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল।
নৌপথটি দিয়ে সারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও কম পরিবাহিত হয় না। হরমুজ দিয়ে চলাচল বন্ধ হওয়ার সারের বাজারও অস্থির হয়েছিল। এতে করে বোরোর ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও ছড়ায়। তবে সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়ে জ্বালানির অভ্যন্তরীণ বাজারে। আতঙ্ক ছড়ায় জ্বালানি তেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে; ভিড় বাড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোয়। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল হিসেবেও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে একপ্রকার বাধ্য হয় সরকার। তাতে পরিবহনসহ সম্পর্কিত খাতগুলোয় বাড়ে সেবা গ্রহণকারীদের খরচ। মূল্যস্ফীতিতে দ্রুতই এর প্রভাবও লক্ষ করা যায়। এটা নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর সময় অবশ্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তাতেও ভর্তুকি চলে যায় পরিকল্পনার বাইরে।
ইরান যুদ্ধে হওয়া সমঝোতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসায় সরকারের ভর্তুকি ব্যয় এখন কমে আসার কথা। এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, চলতি মাসের শেষে দাম সমন্বয়ে কিছু সুখবর মিলবে কিনা। শুধু বহুল ব্যবহৃত ডিজেল নয়; অকটেনের দাম কমানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীরা অকটেন ব্যবহার করেন। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী ব্যবহার করেন কেরোসিন। আর ফুটপাত থেকে গ্রাম পর্যন্ত এলপিজির ব্যবহার বেড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার রয়েছে ফার্স অয়েলের। জেট ফুয়েলের দামও কমা প্রয়োজন, যাতে আকাশপথে পরিবহন ব্যয় কমে। এগুলো মোটামুটি একযোগে ঘটলে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৈকি।
আসছে অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশে বেঁধে রাখতে চাইছে যখন, তখন জ্বালানির দামে নিম্নমুখি সমন্বয়ের কাজটি জরুরি বলেই বিবেচিত হবে। জ্বালানি পণ্যে উচ্চ মাত্রায় কর ধার্য করা আছে বলেও এগুলোর দাম বেশি কমতে পারছে না। এর সঙ্গে আবার সম্পর্ক রয়েছে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের। মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাবও সরকারের বিবেচনায় থাকা জরুরি; যখন এটিই সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হচ্ছে। হরমুজ থেকে আসা সুখবরে জ্বালানির বিশ্ববাজার সামনে আরও বেশি ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। এও বলা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে থেমে থেমে অস্থিরতা চলবে দীর্ঘদিন। ইসরায়েল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেবে না বলে শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় জ্বালানি আমদানির বিকল্প হিসেবে যেসব উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছিল, সেগুলো পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তাও রয়ে যাচ্ছে। জ্বালানির ‘কৌশলগত মজুত’ না থাকায় আমরা বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছিলাম ইরান যুদ্ধে। এ অবস্থায় চলমান মজুত যতটা বাড়ানো সম্ভব, সেদিকেও রাখতে হবে দৃষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অন্যান্য এজেন্ডার সঙ্গে জ্বালানি সহায়তা জোরদারের কথাও জানা যাচ্ছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক। নতুন পরিস্থিতির সুবাদে মাসের শেষে ডিজেলসহ জ্বালানির দামে কিছুটা হলেও হ্রাসের খবর আমরা শুনতে চাইব। সরকারের তরফ থেকেও এমন প্রতিশ্রুতি ছিল বৈকি।
.png)

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে এবার গভীর সমুদ্রের নীল জলরাশি। দীর্ঘদিনের পরিচিত হিমালয়ের উপত্যকা কিংবা কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার আকাশসীমাকে ছাপিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সামরিক প্রতিযোগিতার মূল থিয়েটার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর।
৫ ঘণ্টা আগে
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। প্রায় তিন দশক ধরে চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। তবে বিষয়টি এখন আর শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো অবকাঠামো, বাণিজ্য বা অর্থায়নের পরিসংখ্যান নয়। বরং এই শক্তির মূল ভিত্তি হলো দুই দেশের জনগণের মধ্যে গড়ে ওঠা আস্থা, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্মান। এই ভিত্তি যত বেশি শক্তিশালী হবে, উভয় দেশের ভবিষ্যৎ ততটাই উজ্জ্বল হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
সুইজারল্যান্ডের রিসোর্টে এক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির জটিলতা নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। সেখানে উল্লেখিত হয়েছিল, ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী এবং পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের কথা।
৭ ঘণ্টা আগে