ড. মো. শহিদুল ইসলাম

গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের কৃষি খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। আমাদের চালের উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। কৃষকরা আধুনিক জাতের ফসল এবং উন্নত চাষের প্রযুক্তি সাদরে গ্রহণ করেছেন। নিঃসন্দেহে এই সাফল্যের পেছনে রাসায়নিক সারের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এখানে একটি বড় ধরনের আক্ষেপের জায়গাও তৈরি হয়েছে।
আমরা জমিতে যে পরিমাণ সার দিচ্ছি, ফসল তার খুব সামান্যই কাজে লাগাতে পারছে। সারের এই অপচয় বা পুষ্টি ব্যবহারের নিম্ন কার্যকারিতা বর্তমানে বাংলাদেশের টেকসই কৃষির পথে অন্যতম বড় বাধা।
কৃষকরা জমিতে যে নাইট্রোজেন সার (যেমন- ইউরিয়া) প্রয়োগ করেন, তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ গাছ গ্রহণ করতে পারে। বাকি বিশাল অংশ বাতাসে অ্যামোনিয়া গ্যাস হয়ে উড়ে যায়, পানির সাথে ধুয়ে মাটির নিচে চলে যায় কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভেসে যায়। এর ফলে কৃষকের আর্থিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে এবং সরকারের সার ভর্তুকির বিশাল অংশ অপচয় হচ্ছে।
পরিবেশের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। ধুয়ে যাওয়া সার নদীর পানিকে দূষিত করছে। এছাড়া নাইট্রাস অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশছে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে প্রায় ৩০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।
ফসফরাস এবং পটাশ সারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অম্লীয় মাটিতে ফসফরাস আটকে যায়। ফলে গাছ তা নিতে পারে না। আবার বেলে মাটিতে পটাশিয়াম দ্রুত ধুয়ে যায়। ক্রমাগত ফসল উৎপাদনের কারণে আমাদের মাটির নিজস্ব পটাশিয়ামের ভাণ্ডারও আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, অসময়ের বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সারের এই অপচয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বিজ্ঞানী ও গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে গুটি ইউরিয়া, সুষম সার প্রয়োগ বা কয়েক কিস্তিতে সার দেওয়ার মতো ভালো কিছু পদ্ধতি কৃষকদের শিখিয়েছেন। এগুলো অবশ্যই উপকারী এবং চালিয়ে যেতে হবে। তবে এই পদ্ধতিগুলো দিয়ে সারের শতভাগ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
খুশির খবর হলো, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং ন্যানো টেকনোলজির হাত ধরে বিশ্বে সারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের সারগুলো শুধু গাছের খাবারই জোগাবে না, বরং কখন, কোথায় এবং কীভাবে গাছের খাবার দরকার, তা নিজে থেকেই ঠিক করবে। এগুলোকে আমরা বলতে পারি ‘স্মার্ট সার’।
বিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কারগুলো সারের জগৎকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
পুষ্টি ধরে রাখার উপাদান: বায়োচার, জিওলাইট, ফাংশনাল পলিমারের মতো উপাদানগুলো সার বা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এগুলো স্পঞ্জের মতো সারের পুষ্টি ধরে রাখে। গাছের যখন যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই পুষ্টি ধীরে ধীরে সরবরাহ করে।
বহুমুখী ও স্মার্ট প্রলেপ: সাধারণ সারের গায়ে এমন কিছু বায়োডিগ্রেডেবল (প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল) প্রলেপ বা কোটিং দেওয়া হচ্ছে, যা বহুমুখী কাজ করে। সবচেয়ে অভাবনীয় হলো ‘ইন্টেলিজেন্ট কোটিং’। এই প্রলেপ মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা বা গাছের শেকড়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলে যায় এবং পুষ্টি ছাড়ে।
ন্যানো প্রযুক্তি ও হাইড্রোজেল: ন্যানো-কণার মাধ্যমে সারের পুষ্টি সরাসরি গাছের শেকড়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে সারের এক বিন্দুও অপচয় হয় না। এছাড়া হাইড্রোজেল প্রযুক্তি খরা মৌসুমে মাটির পানি ও পুষ্টি দুটোই ধরে রাখতে সাহায্য করে।
অণুজীবের মেলবন্ধন: স্মার্ট সারের সাথে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গাছের শেকড় বৃদ্ধি এবং পুষ্টি গ্রহণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, সবুজ বিপ্লব, বায়োটেকনোলজি এবং প্রিসিশন কৃষির পর এবার আসতে চলেছে ‘পঞ্চম কৃষি বিপ্লব’। আর এই বিপ্লবের মূলে থাকবে স্মার্ট সার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল কৃষির সমন্বয়।
ভবিষ্যতের কৃষিতে মাটির নিচে সেন্সর বসানো থাকবে। আকাশে উড়বে ড্রোন এবং মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইট ছবি পাঠাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকের মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেবে— তার কোন জমির কোন অংশে, ঠিক কোন সময়ে, কী পরিমাণ সার লাগবে।
একে বলা হয় ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত বা রিয়েল-টাইম ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম। স্মার্ট সারের সাথে ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ডিজিটাল সয়েল হেলথ কার্ড এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সমন্বয় কৃষিকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। সারের কার্যকারিতা সামান্য বাড়াতে পারলেও আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমবে, বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি বাঁচবে এবং মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তবে বিদেশি প্রযুক্তি সরাসরি মাঠে প্রয়োগ করার আগে আমাদের দেশের মাটি ও জলবায়ুতে এর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইউ), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং বিনা-কে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় গবেষণা সেল গঠন করা জরুরি। এর সাথে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যৌথ কাজ থাকতে হবে।
শুধু সরকারি গবেষণা নয়, দেশের বেসরকারি সার কারখানাগুলোকেও এই উদ্যোগে যুক্ত করতে হবে। স্মার্ট সার উৎপাদন, মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি প্রস্তাব করছি, আগামী এক দশকের জন্য 'বাংলাদেশ স্মার্ট নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ২০২৮-২০৩৮' নামে একটি জাতীয় ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার। এই কর্মসূচির অধীনে স্মার্ট সার, ডিজিটাল কৃষি এবং কার্বন-স্মার্ট কৃষির প্রসার ঘটানো যেতে পারে।
ভবিষ্যতের কৃষি শুধু জমিতে বেশি বেশি সার ছিটানোর ওপর নির্ভর করবে না। বরং প্রতিটি কণা সারকে কত নিখুঁতভাবে, কার্যকরভাবে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যায়—সেটাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।
উন্নত কাঁচামাল বা ফ্রন্টিয়ার ম্যাটেরিয়ালস আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ যেভাবে কৃষিতে বারবার সাফল্য দেখিয়েছে, ঠিক একইভাবে স্মার্ট সার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেশের কৃষিতে আগামী দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাতে পারে। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক নীতি, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ।

গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের কৃষি খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। আমাদের চালের উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। কৃষকরা আধুনিক জাতের ফসল এবং উন্নত চাষের প্রযুক্তি সাদরে গ্রহণ করেছেন। নিঃসন্দেহে এই সাফল্যের পেছনে রাসায়নিক সারের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এখানে একটি বড় ধরনের আক্ষেপের জায়গাও তৈরি হয়েছে।
আমরা জমিতে যে পরিমাণ সার দিচ্ছি, ফসল তার খুব সামান্যই কাজে লাগাতে পারছে। সারের এই অপচয় বা পুষ্টি ব্যবহারের নিম্ন কার্যকারিতা বর্তমানে বাংলাদেশের টেকসই কৃষির পথে অন্যতম বড় বাধা।
কৃষকরা জমিতে যে নাইট্রোজেন সার (যেমন- ইউরিয়া) প্রয়োগ করেন, তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ গাছ গ্রহণ করতে পারে। বাকি বিশাল অংশ বাতাসে অ্যামোনিয়া গ্যাস হয়ে উড়ে যায়, পানির সাথে ধুয়ে মাটির নিচে চলে যায় কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভেসে যায়। এর ফলে কৃষকের আর্থিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে এবং সরকারের সার ভর্তুকির বিশাল অংশ অপচয় হচ্ছে।
পরিবেশের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। ধুয়ে যাওয়া সার নদীর পানিকে দূষিত করছে। এছাড়া নাইট্রাস অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশছে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে প্রায় ৩০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।
ফসফরাস এবং পটাশ সারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অম্লীয় মাটিতে ফসফরাস আটকে যায়। ফলে গাছ তা নিতে পারে না। আবার বেলে মাটিতে পটাশিয়াম দ্রুত ধুয়ে যায়। ক্রমাগত ফসল উৎপাদনের কারণে আমাদের মাটির নিজস্ব পটাশিয়ামের ভাণ্ডারও আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, অসময়ের বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সারের এই অপচয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বিজ্ঞানী ও গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে গুটি ইউরিয়া, সুষম সার প্রয়োগ বা কয়েক কিস্তিতে সার দেওয়ার মতো ভালো কিছু পদ্ধতি কৃষকদের শিখিয়েছেন। এগুলো অবশ্যই উপকারী এবং চালিয়ে যেতে হবে। তবে এই পদ্ধতিগুলো দিয়ে সারের শতভাগ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
খুশির খবর হলো, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং ন্যানো টেকনোলজির হাত ধরে বিশ্বে সারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের সারগুলো শুধু গাছের খাবারই জোগাবে না, বরং কখন, কোথায় এবং কীভাবে গাছের খাবার দরকার, তা নিজে থেকেই ঠিক করবে। এগুলোকে আমরা বলতে পারি ‘স্মার্ট সার’।
বিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কারগুলো সারের জগৎকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
পুষ্টি ধরে রাখার উপাদান: বায়োচার, জিওলাইট, ফাংশনাল পলিমারের মতো উপাদানগুলো সার বা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এগুলো স্পঞ্জের মতো সারের পুষ্টি ধরে রাখে। গাছের যখন যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই পুষ্টি ধীরে ধীরে সরবরাহ করে।
বহুমুখী ও স্মার্ট প্রলেপ: সাধারণ সারের গায়ে এমন কিছু বায়োডিগ্রেডেবল (প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল) প্রলেপ বা কোটিং দেওয়া হচ্ছে, যা বহুমুখী কাজ করে। সবচেয়ে অভাবনীয় হলো ‘ইন্টেলিজেন্ট কোটিং’। এই প্রলেপ মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা বা গাছের শেকড়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলে যায় এবং পুষ্টি ছাড়ে।
ন্যানো প্রযুক্তি ও হাইড্রোজেল: ন্যানো-কণার মাধ্যমে সারের পুষ্টি সরাসরি গাছের শেকড়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে সারের এক বিন্দুও অপচয় হয় না। এছাড়া হাইড্রোজেল প্রযুক্তি খরা মৌসুমে মাটির পানি ও পুষ্টি দুটোই ধরে রাখতে সাহায্য করে।
অণুজীবের মেলবন্ধন: স্মার্ট সারের সাথে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গাছের শেকড় বৃদ্ধি এবং পুষ্টি গ্রহণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, সবুজ বিপ্লব, বায়োটেকনোলজি এবং প্রিসিশন কৃষির পর এবার আসতে চলেছে ‘পঞ্চম কৃষি বিপ্লব’। আর এই বিপ্লবের মূলে থাকবে স্মার্ট সার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল কৃষির সমন্বয়।
ভবিষ্যতের কৃষিতে মাটির নিচে সেন্সর বসানো থাকবে। আকাশে উড়বে ড্রোন এবং মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইট ছবি পাঠাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকের মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেবে— তার কোন জমির কোন অংশে, ঠিক কোন সময়ে, কী পরিমাণ সার লাগবে।
একে বলা হয় ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত বা রিয়েল-টাইম ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম। স্মার্ট সারের সাথে ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ডিজিটাল সয়েল হেলথ কার্ড এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সমন্বয় কৃষিকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। সারের কার্যকারিতা সামান্য বাড়াতে পারলেও আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমবে, বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি বাঁচবে এবং মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তবে বিদেশি প্রযুক্তি সরাসরি মাঠে প্রয়োগ করার আগে আমাদের দেশের মাটি ও জলবায়ুতে এর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইউ), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং বিনা-কে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় গবেষণা সেল গঠন করা জরুরি। এর সাথে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যৌথ কাজ থাকতে হবে।
শুধু সরকারি গবেষণা নয়, দেশের বেসরকারি সার কারখানাগুলোকেও এই উদ্যোগে যুক্ত করতে হবে। স্মার্ট সার উৎপাদন, মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি প্রস্তাব করছি, আগামী এক দশকের জন্য 'বাংলাদেশ স্মার্ট নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ২০২৮-২০৩৮' নামে একটি জাতীয় ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার। এই কর্মসূচির অধীনে স্মার্ট সার, ডিজিটাল কৃষি এবং কার্বন-স্মার্ট কৃষির প্রসার ঘটানো যেতে পারে।
ভবিষ্যতের কৃষি শুধু জমিতে বেশি বেশি সার ছিটানোর ওপর নির্ভর করবে না। বরং প্রতিটি কণা সারকে কত নিখুঁতভাবে, কার্যকরভাবে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যায়—সেটাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।
উন্নত কাঁচামাল বা ফ্রন্টিয়ার ম্যাটেরিয়ালস আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ যেভাবে কৃষিতে বারবার সাফল্য দেখিয়েছে, ঠিক একইভাবে স্মার্ট সার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেশের কৃষিতে আগামী দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাতে পারে। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক নীতি, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ।
.png)
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার এতে আরো বেশ কিছু ওষুধ সংযোজন করেছিল। প্রস্তুতকারীরা ভালোভাবে না নিলেও ওষুধ সেবনকারী বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য পদক্ষেপটি ছিল ইতিবাচক।
১৫ ঘণ্টা আগে
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কিন্তু সংবিধানকে কেবল একটি আইনি দলিল হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যায় না। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন, ক্ষমতার বণ্টন, নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি নির্ধারণ করে।
১৯ ঘণ্টা আগে
হাসিনার পলায়নের দুই বছর পূর্তি হলো ৫ আগস্ট ২০২৬-এ। ২০২৪-এর জুলাইয়ে ছিল ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এর পরের জুলাইগুলো নানান কারণে কিছুটা বিবর্ণ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ রূপ আক্ষরিক অর্থে দেখা না গেলেও ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে সবাই এক সূত্রে গাঁথা।
২০ ঘণ্টা আগে
দুই বছর আগে ৫ আগস্ট ক্ষমতা থেকে ন্যাক্কারজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। সেই দিনটিকে সামনে রেখে নয়াদিল্লিতে তিনি আয়োজন করেছিলেন ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নতুন করে অস্বস্তি যুক্ত হয়েছে।
১ দিন আগে