স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে সফল ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কী ঘটেছিল, সেটা সবার জানা। অন্তর্বর্তী শাসনামলে ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংক রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে খাতটিতে আস্থা জাগানোর পদক্ষেপ আরও জোরালো করা হবে। তবে বাস্তবে সেটি ঘটেছে বলে দাবি করা যাবে না। সবশেষ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংককে যেসব পদক্ষেপ নিতে হলো, তাতেও বিষয়টি স্পষ্ট।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন নিয়োগ ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতেও দেখা গিয়েছে, যা নজিরবিহীন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চয় রাজপথ থেকে আসবে না। তবে ব্যাংকটি ঘিরে কেন রাজপথ উত্তপ্ত হলো, সে প্রশ্ন এড়ানো কঠিন। ইসলামী ব্যাংক থেকে মাত্র কয়েক দিনে বিপুল অর্থ উত্তোলনের ঘটনায় গোটা ব্যাংক খাতেই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠনও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানালে সেটা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ এ ইস্যুতে উত্তপ্ত হলে তারও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অথচ ইসলামী ব্যাংকের নাজুক পরিস্থিতিতে এসব না ঘটাই ছিল কাঙ্ক্ষিত। আমানত, বিনিয়োগ ও প্রবাসী আয় আনাসহ অর্থনীতিতে ব্যাংকটির ভূমিকা এখনো বিরাট। অবশেষে সেই উপলব্ধি থেকেই সম্ভবত নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে ব্যাংকটির সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অচিরেই নাকি পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হবে। সেটা হলেই ভালো।
সরকার বদলের পর খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। সেই প্রতিষ্ঠান আবার কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে ‘বিতর্কিত’ নিয়োগ দিলে সেটা অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ হবে বৈকি। লুটপাটের শিকার হয়ে ব্যাংক খাতের সিংহভাগই যখন কমবেশি সংকটে, তখন এ খাতে নতুন যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে শতভাগ রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্তই নিতে হবে। ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারের সদিচ্ছাটিও করতে হবে দৃশ্যমান। অন্তর্বর্তী শাসনামলে সূচিত সংস্কার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হলে এ ক্ষেত্রে সেটা এগিয়ে নেওয়াটাই কাম্য। তাতে কোনো গলদ থাকলে অংশীজনদের সঙ্গে বসে সংশোধনীও আনা যেতে পারে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ যেন বিশেষত আমানতকারীদের অনাস্থা নতুন করে না বাড়ায়, সে বিষয়ে অতিসতর্ক থাকাটাও জরুরি এখন।
আস্থা ধসে গেলে অত্যন্ত সফল ব্যাংকের পক্ষেও টিকে থাকা অসম্ভব। সেটিই সম্ভবত ঘটতে শুরু করেছিল ইসলামী ব্যাংকে। এতে যে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে, তা ব্যাংকটিতে না ফিরলেও ব্যাংক খাতে যেন ফিরে আসে। সিংহভাগ ব্যাংকে তারল্য সংকটের কথা কার না জানা। এর প্রধান কারণ উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ; যার বড় অংশের পুনরুদ্ধার অসম্ভব বলে মনে করেন খোদ গভর্নর। এ অবস্থায় তাদের দায়িত্ব হলো, যে ব্যাংকে যেমন সহায়তা প্রয়োজন, তা জোগানো। ইসলামী ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় যে অর্থ চেয়েছিল, তার অর্ধেক ইতোমধ্যে জুগিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কাজে তার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সেটা মেনে চলতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। তবে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি না হলে হয়তো এভাবে সহায়তা জোগাতেও হতো না। এতে অবশ্য আমানতকারীদের মনে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরবে।
আরও কিছু ব্যাংক ও নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংকট মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ ব্যাংককে ভূমিকা রাখতে হবে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে তার ভূমিকায় যেন সবাই পুরো আস্থা রাখতে পারে, সেটা সৃষ্টির দায়িত্বও নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে সফল ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কী ঘটেছিল, সেটা সবার জানা। অন্তর্বর্তী শাসনামলে ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংক রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে খাতটিতে আস্থা জাগানোর পদক্ষেপ আরও জোরালো করা হবে। তবে বাস্তবে সেটি ঘটেছে বলে দাবি করা যাবে না। সবশেষ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংককে যেসব পদক্ষেপ নিতে হলো, তাতেও বিষয়টি স্পষ্ট।
ইসলামী ব্যাংকে নতুন নিয়োগ ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতেও দেখা গিয়েছে, যা নজিরবিহীন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চয় রাজপথ থেকে আসবে না। তবে ব্যাংকটি ঘিরে কেন রাজপথ উত্তপ্ত হলো, সে প্রশ্ন এড়ানো কঠিন। ইসলামী ব্যাংক থেকে মাত্র কয়েক দিনে বিপুল অর্থ উত্তোলনের ঘটনায় গোটা ব্যাংক খাতেই অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠনও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানালে সেটা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ এ ইস্যুতে উত্তপ্ত হলে তারও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অথচ ইসলামী ব্যাংকের নাজুক পরিস্থিতিতে এসব না ঘটাই ছিল কাঙ্ক্ষিত। আমানত, বিনিয়োগ ও প্রবাসী আয় আনাসহ অর্থনীতিতে ব্যাংকটির ভূমিকা এখনো বিরাট। অবশেষে সেই উপলব্ধি থেকেই সম্ভবত নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে ব্যাংকটির সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অচিরেই নাকি পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হবে। সেটা হলেই ভালো।
সরকার বদলের পর খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। সেই প্রতিষ্ঠান আবার কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে ‘বিতর্কিত’ নিয়োগ দিলে সেটা অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ হবে বৈকি। লুটপাটের শিকার হয়ে ব্যাংক খাতের সিংহভাগই যখন কমবেশি সংকটে, তখন এ খাতে নতুন যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে শতভাগ রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্তই নিতে হবে। ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারের সদিচ্ছাটিও করতে হবে দৃশ্যমান। অন্তর্বর্তী শাসনামলে সূচিত সংস্কার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হলে এ ক্ষেত্রে সেটা এগিয়ে নেওয়াটাই কাম্য। তাতে কোনো গলদ থাকলে অংশীজনদের সঙ্গে বসে সংশোধনীও আনা যেতে পারে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ যেন বিশেষত আমানতকারীদের অনাস্থা নতুন করে না বাড়ায়, সে বিষয়ে অতিসতর্ক থাকাটাও জরুরি এখন।
আস্থা ধসে গেলে অত্যন্ত সফল ব্যাংকের পক্ষেও টিকে থাকা অসম্ভব। সেটিই সম্ভবত ঘটতে শুরু করেছিল ইসলামী ব্যাংকে। এতে যে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে, তা ব্যাংকটিতে না ফিরলেও ব্যাংক খাতে যেন ফিরে আসে। সিংহভাগ ব্যাংকে তারল্য সংকটের কথা কার না জানা। এর প্রধান কারণ উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ; যার বড় অংশের পুনরুদ্ধার অসম্ভব বলে মনে করেন খোদ গভর্নর। এ অবস্থায় তাদের দায়িত্ব হলো, যে ব্যাংকে যেমন সহায়তা প্রয়োজন, তা জোগানো। ইসলামী ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় যে অর্থ চেয়েছিল, তার অর্ধেক ইতোমধ্যে জুগিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কাজে তার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সেটা মেনে চলতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। তবে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি না হলে হয়তো এভাবে সহায়তা জোগাতেও হতো না। এতে অবশ্য আমানতকারীদের মনে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরবে।
আরও কিছু ব্যাংক ও নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংকট মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ ব্যাংককে ভূমিকা রাখতে হবে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে তার ভূমিকায় যেন সবাই পুরো আস্থা রাখতে পারে, সেটা সৃষ্টির দায়িত্বও নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আধুনিক যুদ্ধগুলো কেবল ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার এক দীর্ঘমেয়াদি ও নির্মম খেলা। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সম্প্রতি দেড় হাজারতম দিন অতিক্রম করেছে—যা স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মোট সময়সীমাকেও ছাড়
৪ ঘণ্টা আগে
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকারের উচিত যথাযথ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ভারতের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করা।
৭ ঘণ্টা আগে
গত বছরের ১.৩৯ শতাংশ থেকে শিক্ষাবাজেট ২ শতাংশে উন্নীত হওয়াকে প্রথম দেখায় একটি বৈপ্লবিক লাফ মনে হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বৈশ্বিক সূচকের দিকে তাকালে এই উজ্জ্বল অঙ্কের পেছনের রূঢ় বাস্তবতা ধরা পড়ে।
৭ ঘণ্টা আগে
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শক্তিশালী বিনিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিনিয়োগে খরা চলছে। এটা হঠাৎ শুরু হয়েছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই বিনিয়োগে নাজুক পরিস্থিতি ছিল। তখন যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হতো, সেটির সঙ্গে বিনিয়োগ পরিস্থিতির সংযোগ ছিল না বলেও অর্থনীতিবিদদের ধারণা।
১ দিন আগে