স্ট্রিম সম্পাদকীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত। আশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তাতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে; বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও পড়বে সুপ্রভাব।
বিপুলভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চার মাস পেরোলেও আইনশৃঙ্খলার বড় রকম উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা যাবে না। অনেকের মতে, অবনতির ধারাই চলমান। তথ্য-উপাত্তও অনেক সময় প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করে না। শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে স্বস্তি আসাটা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে না যদি তারা দেখে, আইনশৃঙ্খলায় প্রত্যাশিত উন্নতি নেই। বাস্তবে তাদের আরও কিছু উপাদান বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দৃশ্যমান না হলে সাধারণ মানুষও নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকে। সেটা উপলব্ধি করে তাদের মনে সাহস জোগাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সরকারের।
হালে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির অভিযোগে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের পুত্রকে আটকের পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হবে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ পদক্ষেপই রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। এ ক্ষেত্রে নমনীয় কিছু করা হলে সম্ভাব্য অপরাধীরাও উৎসাহিত হতে পারে। অভিযোগকারীরাও পেতে পারে নেতিবাচক সংকেত। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হতে পারে নিরুৎসাহিত।
গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশ এখনো মনোবলহীন বলা যায়। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি সম্পন্ন হতে পারত অন্তর্বর্তী শাসনামলেই। এর বদলে তখন অব্যাহতভাবে চলেছে ‘মব’। নির্বাচিত সরকারের আমলে এলিট ফোর্স র্যাবকেও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা র্যাবের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। আর পুলিশকে তো রাজধানীতেও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রান্ত হলে মানুষ কীভাবে তার নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হবে? এ অবস্থায় আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখে সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলায় কাজের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের খবরও মিলল। তারা সে ক্ষেত্রে পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে মোটের ওপর সংযতভাবে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয়েছিল সেনাবাহিনী। তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচনও হয় শান্তিপূর্ণভাবে। কথা ছিল, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। দ্রুত ব্যারাকে ফেরার বিষয়ে সেনাপ্রধানও বাহিনীর আগ্রহের কথা জানাচ্ছিলেন। এখন তাদের নতুন করে নিয়মিত বাহিনীগুলোর সহায়তায় মাঠে নামতে হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির একশ্রেণির কর্মী-সমর্থক স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা, সন্দেহ নেই। তবে তারা মাঠে অনুপস্থিত থাকার সময় থেকে আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি চলছে, সেটাকেও বিপরীতমুখী করা যায়নি।
এ ক্ষেত্রে পুলিশেরই কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তাদেরই বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের কাছে থাকার কথা সব ধরনের অপরাধীদের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য। দায়িত্ব পালনের সেই জায়গায় পুলিশকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সেনাবাহিনীকে যখন নতুন করে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে; তখন তাদের সাফল্যও আমরা দেখতে চাইব। সেনারা মাঠে থাকাকালে পুলিশও যেন নিজ সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত পরিপূরণ করে নেয়। তার কাজ শুধু সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তোলা নয়; অতি জরুরি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব রাখা। আইনশৃঙ্খলায় প্রত্যাশিত উন্নতি হলে সরকারও স্বস্তির সঙ্গে অন্যান্য জরুরি কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার বিষয়টি ছিল বহুল আলোচিত। আশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তাতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে; বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও পড়বে সুপ্রভাব।
বিপুলভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চার মাস পেরোলেও আইনশৃঙ্খলার বড় রকম উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা যাবে না। অনেকের মতে, অবনতির ধারাই চলমান। তথ্য-উপাত্তও অনেক সময় প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করে না। শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে স্বস্তি আসাটা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে না যদি তারা দেখে, আইনশৃঙ্খলায় প্রত্যাশিত উন্নতি নেই। বাস্তবে তাদের আরও কিছু উপাদান বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দৃশ্যমান না হলে সাধারণ মানুষও নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকে। সেটা উপলব্ধি করে তাদের মনে সাহস জোগাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সরকারের।
হালে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির অভিযোগে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের পুত্রকে আটকের পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হবে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ পদক্ষেপই রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। এ ক্ষেত্রে নমনীয় কিছু করা হলে সম্ভাব্য অপরাধীরাও উৎসাহিত হতে পারে। অভিযোগকারীরাও পেতে পারে নেতিবাচক সংকেত। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হতে পারে নিরুৎসাহিত।
গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশ এখনো মনোবলহীন বলা যায়। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি সম্পন্ন হতে পারত অন্তর্বর্তী শাসনামলেই। এর বদলে তখন অব্যাহতভাবে চলেছে ‘মব’। নির্বাচিত সরকারের আমলে এলিট ফোর্স র্যাবকেও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা র্যাবের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। আর পুলিশকে তো রাজধানীতেও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রান্ত হলে মানুষ কীভাবে তার নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হবে? এ অবস্থায় আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখে সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলায় কাজের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের খবরও মিলল। তারা সে ক্ষেত্রে পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে মোটের ওপর সংযতভাবে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয়েছিল সেনাবাহিনী। তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচনও হয় শান্তিপূর্ণভাবে। কথা ছিল, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। দ্রুত ব্যারাকে ফেরার বিষয়ে সেনাপ্রধানও বাহিনীর আগ্রহের কথা জানাচ্ছিলেন। এখন তাদের নতুন করে নিয়মিত বাহিনীগুলোর সহায়তায় মাঠে নামতে হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির একশ্রেণির কর্মী-সমর্থক স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা, সন্দেহ নেই। তবে তারা মাঠে অনুপস্থিত থাকার সময় থেকে আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি চলছে, সেটাকেও বিপরীতমুখী করা যায়নি।
এ ক্ষেত্রে পুলিশেরই কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তাদেরই বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের কাছে থাকার কথা সব ধরনের অপরাধীদের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য। দায়িত্ব পালনের সেই জায়গায় পুলিশকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সেনাবাহিনীকে যখন নতুন করে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে; তখন তাদের সাফল্যও আমরা দেখতে চাইব। সেনারা মাঠে থাকাকালে পুলিশও যেন নিজ সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত পরিপূরণ করে নেয়। তার কাজ শুধু সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তোলা নয়; অতি জরুরি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব রাখা। আইনশৃঙ্খলায় প্রত্যাশিত উন্নতি হলে সরকারও স্বস্তির সঙ্গে অন্যান্য জরুরি কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে।
.png)

নামকরণের ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে অনেক উজির-নাজির মারতে হবে। সেদিকে যেতে চাই না। কারণটা এই না যে, ভাসুরের নাম নেওয়া পাপ। কারণ এই যে, বর্তমানটা তাতে লঘু হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু ইতিহাস যেহেতু বলছি, সেহেতু বলাবাহুল্য বটে, ঘটনার একটা পারম্পর্য তো আছেই।
৬ ঘণ্টা আগে
প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দুটি প্রধান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত প্রয়াস।
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য মালয়েশিয়া, একটি বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। এটি নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়; বরং নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক প্রয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
১১ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়া ও জাপানের বাজারে আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির খবর উৎসাহব্যঞ্জক। ঢাকা স্ট্রিমে এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আমচাষীরাও খুশি হবেন। মালয়েশিয়ার বাজারে আম রপ্তানির সম্ভাবনা নাকি বেশি জোরালো।
১ দিন আগে