শাহ শামীম আহমেদ

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, মাত্র ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এই হার অনেক কম। ফলে অনেকেই বলছেন, পাসের হারে যেন ধস নেমেছে। কিন্তু আমি একে কোনোভাবেই ধস বলতে চাই না। বরং এটাকে দেখা উচিত একটি আত্মসমালোচনার সময় হিসেবে। আমরা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে—এটাই এখন নতুন করে ভাবার সময়।
পাস না করা বা ফেল করা মানেই যে ব্যর্থতা, তা নয়। একটি পরীক্ষার উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীর শেখা, জ্ঞান এবং দক্ষতার যাচাই। যে শিক্ষার্থী সেই যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তার ফেল করা স্বাভাবিক। অর্থাৎ ফেল করাও এক ধরনের তথ্য, যা আমাদের জানায়—শিক্ষার্থীর শেখার প্রক্রিয়ায় কোথাও ঘাটতি ছিল। তাই এই ফলাফলে শুধু ব্যর্থতার দৃষ্টিভঙ্গি নয়, শেখার সুযোগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখা দরকার।
আমরা জানি, বিগত বছরগুলোতে ফলাফলের মান কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল। অনেক সময় বোর্ডের রেজাল্টে নানা উপায়ে ‘টেম্পারিং’ করে অস্বাভাবিক ভালো ফলাফল দেখানো হয়েছে। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে। বোর্ড চেয়ারম্যানরা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এবার পাস করে দেওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্য হলে পাস করবে, না হলে ফেল করবে।’ এটি আসলে একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে বাস্তবভাবে, কোনো কৃত্রিমতার আশ্রয় না নিয়ে। যদি যাচাই প্রক্রিয়া সঠিক হয়, তবে এই ফলাফলই আমাদের শিক্ষব্যবস্থার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।
তবে এই ফলাফলের আরেকটি দিকও আছে। সব শিক্ষার্থী একই বোর্ডের অধীনে, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। তাহলে এত বড় অংশ কেন ফেল করল? এর মানে দাঁড়ায়, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার মানে ঘাটতি আছে। অনেক কলেজে ক্লাস নেওয়া হয় না, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে পারেন না, কিংবা শিক্ষার্থীরাও একাডেমিকভাবে সিরিয়াস থাকে না। ফলে ফলাফল খারাপ হওয়া অবশ্যম্ভাবী। এ দিক থেকে এই ফলাফল আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতারই প্রতিফলন।
গত কয়েক বছরে অটো পাস, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, সহজ প্রশ্নের মাধ্যমে পাস করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন ভয়াবহভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মানসিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। অনেকের ভেতর এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে—পড়াশোনার গভীরে না গিয়েও যেভাবেই হোক পাস করা সম্ভব। এই অলস মানসিকতা এখন বাস্তব ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি আন্তরিকতা এবং কৌতূহল হারিয়ে ফেলছে একাংশের শিক্ষার্থী।
আমাদের দেশে শিক্ষা বরাবরই রাজনীতির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক সময় সরকারগুলো মনে করেছে, ভালো রেজাল্ট দেখালে জনসমর্থন বাড়বে। তাই কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটি শিক্ষাকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এক দৃষ্টান্ত। শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণ হতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটাই করেছি বারবার। আজকের এই ফলাফল সেই রাজনীতিকরণের ফল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফেল করেছে, তাদের জন্য পথ কী? আমার মনে হয়, তাদের জন্য সবচেয়ে দরকার নিজেদের দিকে ফিরে তাকানো। একবার ব্যর্থতা মানেই জীবনের সবকিছু ব্যর্থ হয়ে গেছে, বিষয়টা এমন নয়। বরং এটি হতে পারে নতুন করে শেখার, ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। তারা যদি নিজেদের দুর্বলতা শনাক্ত করে সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করা সম্ভব। ফেল করা মানে থেমে যাওয়া নয়; বরং নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে।
অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও এখান থেকে শেখার বিষয় আছে। সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী কি না, তারা একাডেমিক কাজে সময় দিচ্ছে, নাকি মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত—এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার। এখন প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে স্মার্টফোন আছে। রাতে তারা কখনো ‘পড়ছে’ নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটায়। অভিভাবক ভাবছেন সন্তান পড়ছে, কিন্তু সে হয়তো ফেসবুক বা গেমে ডুবে আছে। অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগেরও প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটি যেন পড়াশোনার সময়কে গ্রাস না করে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানকে দোষারোপ না করে বরং বোঝানো, উৎসাহ দেওয়া, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। মানসিকভাবে চাপে না ফেলে পাস দাঁড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
একইভাবে শিক্ষকদেরও নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর নয়, শিক্ষকেরও। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ জাগাতে না পারেন, যদি পাঠ্য বিষয়কে জীবনের সঙ্গে সংযোগ করে তুলতে না পারেন, তাহলে শেখা পূর্ণতা পায় না। একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করা, চিন্তা করতে শেখানোও তার কাজ।
এখন সময় এসেছে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মান নিয়ে নতুনভাবে ভাবার। কেন এত বড় অংশের শিক্ষার্থী ফেল করছে, কেন আমাদের পাঠ্যক্রমে শেখার গভীরতা তৈরি হচ্ছে না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে গবেষণার মাধ্যমে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এখনও উদ্বেগজনক। এসএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত অনেকেই বাদ পড়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা ভাঙতে হলে আমাদের পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
সবশেষে বলতে চাই, এইচএসসি পরীক্ষার এই ফলাফল কোনো ধস নয়। এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আয়না। দীর্ঘদিনের মুখোশ খুলে এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোথায় আমাদের ঘাটতি, কোথায় দুর্বলতা। এখন দুটি পথ খোলা আছে—আমরা চাইলে পুরোনো অভ্যাসের মতো ফলাফলকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখাতে পারি, আবার চাইলে এটাকে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে নিতে পারি।
আমি দ্বিতীয় পথের পক্ষে। কারণ, একটি জাতি তখনই পরিণত হয়, যখন তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে পারে, নিজেদের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস রাখে। তাই এবার ফলাফল দেখে হতাশ হওয়ার সময় নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার সময় এসেছে।

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, মাত্র ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এই হার অনেক কম। ফলে অনেকেই বলছেন, পাসের হারে যেন ধস নেমেছে। কিন্তু আমি একে কোনোভাবেই ধস বলতে চাই না। বরং এটাকে দেখা উচিত একটি আত্মসমালোচনার সময় হিসেবে। আমরা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে—এটাই এখন নতুন করে ভাবার সময়।
পাস না করা বা ফেল করা মানেই যে ব্যর্থতা, তা নয়। একটি পরীক্ষার উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীর শেখা, জ্ঞান এবং দক্ষতার যাচাই। যে শিক্ষার্থী সেই যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তার ফেল করা স্বাভাবিক। অর্থাৎ ফেল করাও এক ধরনের তথ্য, যা আমাদের জানায়—শিক্ষার্থীর শেখার প্রক্রিয়ায় কোথাও ঘাটতি ছিল। তাই এই ফলাফলে শুধু ব্যর্থতার দৃষ্টিভঙ্গি নয়, শেখার সুযোগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখা দরকার।
আমরা জানি, বিগত বছরগুলোতে ফলাফলের মান কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল। অনেক সময় বোর্ডের রেজাল্টে নানা উপায়ে ‘টেম্পারিং’ করে অস্বাভাবিক ভালো ফলাফল দেখানো হয়েছে। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে। বোর্ড চেয়ারম্যানরা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এবার পাস করে দেওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্য হলে পাস করবে, না হলে ফেল করবে।’ এটি আসলে একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে বাস্তবভাবে, কোনো কৃত্রিমতার আশ্রয় না নিয়ে। যদি যাচাই প্রক্রিয়া সঠিক হয়, তবে এই ফলাফলই আমাদের শিক্ষব্যবস্থার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।
তবে এই ফলাফলের আরেকটি দিকও আছে। সব শিক্ষার্থী একই বোর্ডের অধীনে, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। তাহলে এত বড় অংশ কেন ফেল করল? এর মানে দাঁড়ায়, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার মানে ঘাটতি আছে। অনেক কলেজে ক্লাস নেওয়া হয় না, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে পারেন না, কিংবা শিক্ষার্থীরাও একাডেমিকভাবে সিরিয়াস থাকে না। ফলে ফলাফল খারাপ হওয়া অবশ্যম্ভাবী। এ দিক থেকে এই ফলাফল আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতারই প্রতিফলন।
গত কয়েক বছরে অটো পাস, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, সহজ প্রশ্নের মাধ্যমে পাস করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন ভয়াবহভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মানসিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। অনেকের ভেতর এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে—পড়াশোনার গভীরে না গিয়েও যেভাবেই হোক পাস করা সম্ভব। এই অলস মানসিকতা এখন বাস্তব ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি আন্তরিকতা এবং কৌতূহল হারিয়ে ফেলছে একাংশের শিক্ষার্থী।
আমাদের দেশে শিক্ষা বরাবরই রাজনীতির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক সময় সরকারগুলো মনে করেছে, ভালো রেজাল্ট দেখালে জনসমর্থন বাড়বে। তাই কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটি শিক্ষাকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এক দৃষ্টান্ত। শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার উপকরণ হতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটাই করেছি বারবার। আজকের এই ফলাফল সেই রাজনীতিকরণের ফল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফেল করেছে, তাদের জন্য পথ কী? আমার মনে হয়, তাদের জন্য সবচেয়ে দরকার নিজেদের দিকে ফিরে তাকানো। একবার ব্যর্থতা মানেই জীবনের সবকিছু ব্যর্থ হয়ে গেছে, বিষয়টা এমন নয়। বরং এটি হতে পারে নতুন করে শেখার, ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। তারা যদি নিজেদের দুর্বলতা শনাক্ত করে সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করা সম্ভব। ফেল করা মানে থেমে যাওয়া নয়; বরং নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে।
অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও এখান থেকে শেখার বিষয় আছে। সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী কি না, তারা একাডেমিক কাজে সময় দিচ্ছে, নাকি মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত—এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার। এখন প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে স্মার্টফোন আছে। রাতে তারা কখনো ‘পড়ছে’ নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটায়। অভিভাবক ভাবছেন সন্তান পড়ছে, কিন্তু সে হয়তো ফেসবুক বা গেমে ডুবে আছে। অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগেরও প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটি যেন পড়াশোনার সময়কে গ্রাস না করে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানকে দোষারোপ না করে বরং বোঝানো, উৎসাহ দেওয়া, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। মানসিকভাবে চাপে না ফেলে পাস দাঁড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
একইভাবে শিক্ষকদেরও নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর নয়, শিক্ষকেরও। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ জাগাতে না পারেন, যদি পাঠ্য বিষয়কে জীবনের সঙ্গে সংযোগ করে তুলতে না পারেন, তাহলে শেখা পূর্ণতা পায় না। একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করা, চিন্তা করতে শেখানোও তার কাজ।
এখন সময় এসেছে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মান নিয়ে নতুনভাবে ভাবার। কেন এত বড় অংশের শিক্ষার্থী ফেল করছে, কেন আমাদের পাঠ্যক্রমে শেখার গভীরতা তৈরি হচ্ছে না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে গবেষণার মাধ্যমে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এখনও উদ্বেগজনক। এসএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত অনেকেই বাদ পড়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা ভাঙতে হলে আমাদের পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।
সবশেষে বলতে চাই, এইচএসসি পরীক্ষার এই ফলাফল কোনো ধস নয়। এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আয়না। দীর্ঘদিনের মুখোশ খুলে এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোথায় আমাদের ঘাটতি, কোথায় দুর্বলতা। এখন দুটি পথ খোলা আছে—আমরা চাইলে পুরোনো অভ্যাসের মতো ফলাফলকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখাতে পারি, আবার চাইলে এটাকে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে নিতে পারি।
আমি দ্বিতীয় পথের পক্ষে। কারণ, একটি জাতি তখনই পরিণত হয়, যখন তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে পারে, নিজেদের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস রাখে। তাই এবার ফলাফল দেখে হতাশ হওয়ার সময় নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার সময় এসেছে।

ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
৫ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
৮ ঘণ্টা আগে
গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রতিক্রিয়াশীল ও খণ্ডিত নিরাপত্তা কাঠামো থেকে সুসংগঠিত আইন-ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের ইঙ্গিত—যা ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্
১০ ঘণ্টা আগে