জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চট্টগ্রামে ১১৪ প্রার্থীর ১০৯ জনেরই নেই সংসদের অভিজ্ঞতা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৫৯
ভোটের প্রচার। পুরোনো ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বিএনপির প্রার্থী তরুণ সাঈদ আল নোমান। তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তবে সাঈদ এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাঈদ আল নোমানের মতো নতুন মুখরাই এবার চট্টগ্রামের বেশির ভাগ আসনে লড়ছেন। জেলার ১৬টি আসনে ১১৪ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। আসনের হিসাবে ১১টিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন প্রার্থীরা, যারা আগে কখনও সংসদ সদস্য ছিলেন না।

চট্টগ্রামের আসনগুলোতে আগে নির্বাচিতদের বেশির ভাগই ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রভাবশালী। তাদের ভালো-মন্দও অনেকটাই ছিল জানা। তারা না থাকায় ভেবেচিন্তেই প্রার্থী বাছাই করবেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। তাদের কেউ নতুনদের মধ্য থেকে অধিকতর যোগ্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। আর অভিজ্ঞ প্রার্থীদের আসনে কেউ আছেন পরিবর্তনের পক্ষে, বাকিরা আস্থা রাখছেন অভিজ্ঞতায়।

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার মাহমুদুল আলম বলেন, ‘আমি এই এলাকার নতুন ভোটার। যাদের কথা শুনে বড় হয়েছি, তাদের কেউই এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। আগে যারা ছিলেন, তাদের কাজের বিষয়ে মুরব্বিদের মুখে শুনেছি। এখান যেহেতু তারা নেই, তাই ভেবেচিন্তেই ভোট দেব।’

পাঁচ আসনে অভিজ্ঞ প্রার্থী

চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যে চারজন বিএনপির ও একজন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে ছিলেন চার দলীয় জোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির হয়ে মাঠে রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য বিএনপির সারোয়ার জামাল নিজাম এবারও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।

অপরদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১১ আসনে কারও নেই সংসদের অভিজ্ঞতা

জেলার বাকি ১১টি আসনে কোনো প্রার্থীরই নেই সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। এলাকাতেও তুলনামূলক ‘অপরিচিত’ তারা। ভোটের প্রচারে তাই এসব প্রার্থীদের ছিল সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপরও ছিল জোর। বয়সে তরুণ প্রার্থীরা মাঠের প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট, গ্রাফিক্স ও ভিডিও শেয়ার করে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তরুণ ভোটারদের টানতে অনেকেই জোর দেন ছোট ভিডিও, আবেগঘন বার্তা ও ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিয়াজ উদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘যারা আগে সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা অভিজ্ঞতা ভালোভাবে কাজে লাগতে পারবেন। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড ইতিবাচক-নেতিবাচক যাই হোক ব্যালটে তার ফল পাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুনদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। তারা নিশ্চয়ই এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইবেন না।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত