leadT1ad

বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ বনাম পরিবর্তনের ডাক: সিরাজগঞ্জ-২ আসনে কার পালে হাওয়া?

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জ

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ১১
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। স্ট্রিম কোলাজ

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ জেলা সিরাজগঞ্জ এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, রজনীকান্ত সেন ও মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনটি। বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে নির্বাচন কমিশন এবার ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ জন এবং নারী ২ লাখ ১ হাজার ৭৮৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। আসনটিতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকলেও তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাসদ-এর এস.এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণ অধিকার পরিষদের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. মুহিবুল্লাহ।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনটি মূলত বিএনপির দখলে ছিল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এখান থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে নির্বাচিত হন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ২০০৮ সালে তাঁর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ জয়লাভ করেন। তবে ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে এখান থেকে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম বিজয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে রাখলেও এবার তাদের অনুপস্থিতিতে ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া অন্য দলগুলো।

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি

বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আমার বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কাটাখালি নদী খনন করে বিনোদনের ব্যবস্থা করব এবং বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলে বেকারত্ব দূর করব।’

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম নারী ও তরুণ ভোটারদের ওপর ভরসা রাখছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। বেকারত্ব দূর করা, নদী ভাঙন রোধ এবং শিল্পায়নে আমরা কাজ করব। সুষ্ঠু ভোট হলে ইনশাআল্লাহ আমরাই জয়ী হব।’

গণ অধিকার পরিষদের তরুণ প্রার্থী মাহফুজুর রহমান জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘তরুণরা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ চায়। আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, এবার দেশ পরিবর্তনের অংশ হতে চাই।’

মুজিব সড়কের শাহীন আলম ও মাছুমপুরের প্রথম ভোটার জাহিদ হোসেনের কণ্ঠে একই সুর। তাঁরা বলেন, গত ১৫ বছর তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। এবার সৎ ও যোগ্য মানুষকে ভোট দিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা এবার ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হয় নাকি নতুনের আবাহন সফল হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত