জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অসম বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের দাবিতে এনপিএর অবস্থান কর্মসূচি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৩
চার দফা দাবিতে এনপিএর অবস্থান কর্মসূচি। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় স্বার্থ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, দেশীয় শিল্প ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (আরটিএ) অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিলের দাবি জানিয়েছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৪টায় অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাতের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য শামীম আরা নীপার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে মূল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য অনিক রায়। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মেঘমাল্লার বসু ও কৌশিক আহমেদ।

অবস্থান কর্মসূচিতে পঠিত ‘একটি ন্যায্য ও সার্বভৌম বাণিজ্য নীতির দাবিতে ইশতেহার’-এ বলা হয়, জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই চরম গোপনীয়তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অসম বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা দেশের শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানকে বিপন্ন করছে।

ইশতেহারে অভিযোগ করা হয়, চুক্তির আওতায় ৬,৭১০টি মার্কিন পণ্য বাংলাদেশে বিনা শুল্কে প্রবেশ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশের মাত্র ২,৫০০টি পণ্য শর্তসাপেক্ষে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তৈরি পোশাক শিল্পে শূন্য শুল্কের প্রলোভন দিয়ে ১০-২০ শতাংশ বেশি দামের মার্কিন তুলা ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, বাংলাদেশকে ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে দেশীয় কৃষকরা ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বেন এবং নিজস্ব শিল্পে বাংলাদেশের ভর্তুকি দেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

বক্তারা বলেন, চুক্তির ভূরাজনৈতিক মাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মার্কিন-চীন দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে আমেরিকার পক্ষ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে ডিজিটাল চুক্তি করলে পুরো বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এনপিএ জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন যে আইনের (আইইইপিএ) আওতায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ভয় দেখিয়ে এই চুক্তি করতে বাধ্য করেছিল, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে তা বাতিল করেছে। ফলে ভয় দেখিয়ে করা এই চুক্তির আইনি ভিত্তি আর নেই। তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পল কাপুর সম্প্রতি ঢাকায় এসে চুক্তির প্রয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।

সমাবেশ থেকে চলতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করে এটি স্থগিতের আহ্বান জানানো হয় এবং নিম্নোক্ত ৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—চুক্তিটির আইনি পর্যালোচনা করতে হবে এবং ৪,৫০০টি মার্কিন পণ্যে তাৎক্ষণিক শূন্য শুল্কের মতো ক্ষতিকর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা; মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে আমেরিকার চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির আনুষ্ঠানিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ সরকারকে প্রকাশ করতে হবে এবং এলডিসি সুবিধা দাবি; খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় ও বহুমেরু বিশ্বে কূটনৈতিক নমনীয়তা বজায় রাখতে বাণিজ্য আলোচনাকে প্রতিরক্ষা চুক্তির (জিএসওএমআইএ এবং এসিএসএ) দাবি থেকে আলাদা রাখা; আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে রাজস্ব ঘাটতি, ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি ও ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং ক্রয়ের যৌক্তিকতা এবং দেশীয় কৃষির ওপর হুমকির মাত্রা মূল্যায়ন ।

বিষয়:

এনপিএ
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত