leadT1ad

নির্বাচনী সমঝোতা, শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ-অব্যাহতি: কী চলছে গণঅধিকার পরিষদে

গণঅধিকার পরিষদের লোগো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শীর্ষ নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। বিএনপির সঙ্গে মাত্র একটি আসনে সমঝোতা হয়েছে দলটির। এতে দলের ভেতরেই দুই পক্ষে অবস্থান এখন স্পষ্ট। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির ভেতরে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ।

গত কয়েকদিনে এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত, দলের শীর্ষ নেতার পদত্যাগ, বিএনপির সঙ্গে মাত্র একটি আসন সমঝোতা, দল থেকে শীর্ষ নেতাকে অব্যাহতি—এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে ২০১৯ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা গণঅধিকার পরিষদ।

দলের ভেতরে কী ঘটেছে গত কয়েক দিন

গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২২ তারিখ দলটি এককভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির নেতারা গণমাধ্যমকে জানায়, যুগপৎ আন্দোলনে এক কাতারে থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতায় যাচ্ছে না দলটি। সংসদ নির্বাচনে এককভাবে দলীয় ট্রাক প্রতীকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ ডিসেম্বর দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এ দিকে একই মাসের ২৭ ডিসেম্বর দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন দল থেকে পদত্যাগ করেন। যোগ দেন বিএনপিতে। বিএনপি ধানের শীষে রাশেদ খাঁনকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের জন্য মনোনীতও করে।

ওইদিন রাতেই গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান হাসান আল মামুন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে মামুন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বৃহস্পতিবার যা ঘটেছে

গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা রাশেদ খাঁন।

একইদিন দলের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি আসে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদ কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেনি। তাঁরা এককভাবে নির্বাচন করছে, কারও ব্যক্তিগত সমঝোতা থাকলে সেটা দলের সমঝোতা নয়।

এরপর ফেসবুক পোস্টে দলটির সভাপতি নুরুল হক লেখেন, ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। গণঅধিকার পরিষদ ফ্যাসিবাদের কঠিন সময় থেকেই যুগপৎ আন্দোলন থেকেই বিএনপির সঙ্গে ছিল, আছে, আগামীর জাতীয় সরকারেও থাকবে।

একইদিন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক শাকিলকে বহিষ্কার করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনমনে বিভ্রান্তি, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দুই পক্ষই নিয়েছে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ
দুই পক্ষই নিয়েছে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ

কী বলছেন দলটির নেতারা

দলটির মুখপাত্র ফারুক হাসান বলছেন, দলের ভেতরে ৯৯ শতাংশ নেতা-কর্মী শাকিল উজ্জামানের পক্ষে। কোনো অব্যাহতি বা বহিষ্কার কিছুই হয়নি।

ফারুক হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘শাকিল উজ্জামান দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য। তাকে অব্যাহতি দিতে হলে হাইকমান্ডের সভা হতে হবে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একা একা বিজ্ঞপ্তি দিলে সেটা হবে না। শাকিল বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সবার সম্মতি নিয়ে। ২২ ডিসেম্বরের সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।’

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাকিলকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার কার আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ীও কারও একক ক্ষমতা নাই কাউকে বহিষ্কার করার। সবকিছু হবে আলোচনার ভিত্তিতে, এখানে আলোচনা হয়নি। আমরা সবাই শাকিলের পক্ষে আছি।’

দলের আরেক উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান খানও একই কথা বলছেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘শাকিল ভাইকে অব্যাহতি দেওয়াটা ছিল আমাদের গঠনতন্ত্রের নিয়ম বহির্ভূত। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে শাকিল ভাই যেই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, সেটা ঠিক ছিল। কারণ, সেটা ছিল আলোচনার ভিত্তিতে।’

অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের কোন পথ দেখছেন কী না জিজ্ঞেস করলে এই নেতা বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছি। আলোচনার ভিত্তিতে আশা করছি সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আগামীকাল এই বিষয়ে বৈঠক রয়েছে আমাদের।’

এদিকে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন স্ট্রিমকে বলেন, ‘শাকিল উজ্জামানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে। তাঁকে উচ্চতর পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। যেকোন সম্পাদকীয় পদ থেকে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাইলে অব্যাহতি দিতে পারে।’

তবে সম্পাদকীয় পদও এককভাবে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক রাখেন না বলে মনে করেন মাহফুজুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘শুধু উচ্চতর পরিষদ না কোন সম্পাদকীয় পদেই এককভাবে অব্যাহতি দিতে পারে না। এটা হতে হবে আলোচনার ভিত্তিতে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত