leadT1ad

নাটোর-২

ভোটের সমীকরণে দুলু ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’, নতুন ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং অধ্যাপক ইউনুস আলী। স্ট্রিম গ্রাফিক

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এই আসনে লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক ইউনুস আলী।

মাঠ দখলে মরিয়া বিএনপি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়ন এই আসনে অনেকটাই অবধারিত ছিল। ২০০১ সালের পর আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও নাটোরের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব কমেনি বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নাটোর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক নাসিম উদ্দিন নাসিম। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দুলু কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।’

নাটোর-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু জানান, দুলু নাটোর বিএনপির প্রাণভোমরা। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি সদর ও নলডাঙ্গার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন। তাঁর বিপরীতে দলে কোনো শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী নেই, যা তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু স্ট্রিমকে বলেন, ‘নাটোরের মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। বিগত বছরগুলোতে নাটোরবাসী যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তার অবসান ঘটবে এবার। আমার বিশ্বাস, জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ধানের শীষ এই আসনে জয়ী হবে।’

জামায়াতের ভরসা ‘ক্লিন ইমেজ’ ও নতুন ভোটার

বিএনপির দাপুটে প্রচারণার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী এগোচ্ছে ভিন্ন কৌশলে। অধ্যাপক ইউনুস আলী এই আসনে দলটির দীর্ঘদিনের আস্থার প্রতীক। নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগের কিংবদন্তি নেতা শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

জামায়াত সূত্র বলছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য এবার নতুন ও তরুণ ভোটার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ এবং ছোট ছোট বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন অধ্যাপক ইউনুস। বিশেষ করে যারা গত এক দশকে ভোট দিতে পারেননি, তাদের কাছে জামায়াত বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে।

অধ্যাপক ইউনুস আলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা এবার চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব ঘটাবে। জামায়াতের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ছে। ইনশাআল্লাহ, আমাদের বিজয়ের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পাবে।’

লড়াই যখন দ্বিমুখী: অন্য প্রার্থীরা কোথায়

এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরেও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রকিব উদ্দিন কমল। যদিও তাঁরা গণসংযোগ করছেন, তবে স্থানীয় শিক্ষক ও সমাজসেবক মোমিন বিশ্বাসের মতে, লড়াই হবে মূলত ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লার। মূলত দুই মেরুর দুই নেতার ব্যক্তিগত ইমেজ আর সাংগঠনিক শক্তির লড়াই দেখবে নাটোরবাসী।

ভোটাররা কী বলছেন

নাটোর সদর উপজেলার বড়গাছা মহল্লার ভোটার রানা আহমেদ ও রিংকু ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এবার তারা সচেতনভাবে ও ভেবেচিন্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রানা আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা—এমন একজন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন, যাঁর নেতৃত্বে এলাকায় টেকসই উন্নয়ন হবে, শিক্ষার মান বাড়বে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে।’

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন পাওয়া নাটোরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সাথী’র পরিচালক শিবলী সাদিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা আসনের সার্বিক পরিস্থিতি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মানুষের মুখে নির্বাচনি আলাপ শোনা যাচ্ছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত