সংসদে সরকারের সমালোচনা, রুমিনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বিএনপির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৬
রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। ছবি: সংগৃহীত
রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। ছবি: সংগৃহীত

সংসদে সরকারের কড়া সমালোচনা করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এই মিছিল করেন।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ের সামনে এসে প্রতিবাদ সভা করে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে রুমিন ফারহানা অসংসদীয় ভাষায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর এই বক্তব্য আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্চিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গত ৯ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘ঋণখেলাপির সংসদ’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর আনা বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, সারের দায়িত্বে থাকা গরিব কৃষকরা গিয়ে সার কারখানায় তা লুট করবেন না, এটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, এটাও অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হয়ে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, এটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপি হওয়া, ছয় লাখ কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি।

বিএনপির সাবেক এই নেতার বক্তব্যের সময় থেকে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। সরকারি দলের সদস্যরা তাঁকে এই ধরনের বক্তব্য দিতে বাধা দেন। স্পিকার থামানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা থামেননি।

হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ মনে হয় একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপিকে দিয়ে একই ধরনের আচরণ করছি আমরা। আরও খারাপ আচরণ যদি বলি।’

সরকারি দলের সদস্যদের স্লোগানও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ উল্লেখ করে বলেন, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮ক রাখা হবে না। ১৮ক আছে। কারণ, এই সংসদে বেশির ভাগ সদস্য ঋণখেলাপ হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াহুড়ো করে ঋণখেলাপি থেকে বাদ দেয় আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, অমনি...।

হট্টগোলের এই পর্যায়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে চাইলেও আর কথা বলার সুযোগ পাননি তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত