স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন পর্যায় শুরু করেছে। এই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রের মেরামত বা পুনর্গঠন স্লোগান থেকে বাস্তব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এর ছাপ পড়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারের শব্দগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় থাকছে রাষ্ট্রের সেই মৌলিক কাঠামো নিয়ে, যা একটি দেশের শাসনব্যবস্থার মেরুদণ্ড।
‘রাষ্ট্র মেরামত’ কোনো সাধারণ সংস্কার নয়। রাষ্ট্রের কিছু প্রধান অঙ্গ থাকে, যেমন—বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র মেরামত বলতে এমন একটি প্রক্রিয়া বোঝানো হয়, যেখানে উল্লিখিত অঙ্গগুলোর মৌলিক ত্রুটিগুলো দূর করে সেগুলোকে পুনরায় সচল ও জনবান্ধব করা হয়।
ধরুন একটি পুরনো ভবনের পাইপলাইন ফেটে গেছে এবং ইলেকট্রিক লাইনে শক লাগছে। আপনি কেবল দেয়ালে রং করলে সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাকে দেয়াল ভেঙে পাইপ এবং তার বদলাতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের ধারণাটিও ঠিক তেমনই। এটি কেবল সরকার বদল নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে দলীয়করণের ফলে পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। রাষ্ট্র মেরামত মানে এমন একটি আইনগত কাঠামো তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন পুলিশ বা আদালতকে নিজের দলের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। তরুণ ভোটারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা একটি ‘সুস্থ সিস্টেম’ চায়, যেখানে তদবির বা স্বজনপ্রীতি ছাড়াই সেবা পাওয়া যাবে।
গণভোট হলো সরাসরি গণতন্ত্রের ভালো উদাহরণ। যখন জাতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদ সদস্যদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়, তখন তাকে গণভোট বলে।
ব্রিটেনের ‘ব্রেক্সিট’ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়া) ছিল একটি ঐতিহাসিক গণভোট। সেখানে সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করেছিল তাদের দেশ কোন পথে চলবে।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের সংবিধানে একসময় গণভোটের বিধান ছিল, যা পরে বাতিল করা হয়। বর্তমানে এটি ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে যদি সংবিধানের কোনো মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় বা রাষ্ট্রের স্বরূপ পরিবর্তনের প্রশ্ন ওঠে, তবে সংসদ সদস্যদের ৩৫০টি ভোটের চেয়ে কোটি কোটি ভোটারের সরাসরি রায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও বৈধ। ১৭ বছর ভোট দিতে না পারা তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি এমন একটি অধিকার, যা তাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি অংশীদার বানাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে কেবল একটি জাতীয় সংসদ রয়েছে (এককক্ষ) । দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদে এই কক্ষের পাশাপাশি একটি ‘উচ্চকক্ষ’ বা ‘সিনেট’ থাকবে। সেখানে মূলত বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক, বিজ্ঞানী, শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিনেট’ ও ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’ কিংবা ভারতের ‘লোকসভা’ ও ‘রাজ্যসভা’ হলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের আদর্শ উদাহরণ।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায়, সংসদের ৩০০ আসনে জয়ী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এক রকম স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয়। যদি একটি উচ্চকক্ষ থাকে, তবে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া কোনো বিতর্কিত বা ক্ষতিকর আইন উচ্চকক্ষে আটকে যেতে পারে বা পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ পায়। মেধাবী এবং বিশেষজ্ঞ যারা সরাসরি নির্বাচনে লড়াই করতে চান না বা করতে পারেন না, তারাও এই উচ্চকক্ষের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। এটি রাজনীতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শাসনবিভাগের প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হন না। এখানে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগ এবং সংসদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়।
যদি প্রধানমন্ত্রীর হাতেই বিচারক নিয়োগ, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সংসদের সব ক্ষমতা থাকে, তবে তিনি চাইলেই স্বৈরশাসক হয়ে উঠতে পারেন। ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে একজন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি আরেকজনের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রায় অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। ক্ষমতার ভারসাম্য আনলে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ক্ষমতা সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া এবং বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি দেশ পাওয়া যেতে পারে যেখানে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি নিজেও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না।
একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি নির্দলীয় প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করাকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বলা হয়।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: এটি বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিভাষা। গত তিনটি নির্বাচনে জনগণের বড় অংশের অভিযোগ ছিল যে, দলীয় সরকারের অধীনে ভোট সুষ্ঠু হয়নি। তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ একটি স্থায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের আইনি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণ ভোটার যারা জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত হওয়া জরুর।
এটি একটি বিশেষায়িত আদালত যা কেবল সংবিধান সংক্রান্ত বিবাদ, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি না তা বিচার করে।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টই এই কাজগুলো করে থাকে। তবে একটি আলাদা সাংবিধানিক আদালত থাকলে সরকারের কোনো স্বৈরাচারী আইন বা ডিক্রিকে দ্রুত চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। এটি সাধারণ মানুষের মানবাধিকার রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ পৃথকীকরণ
বিচার বিভাগকে শাসনবিভাগ বা মন্ত্রিপরিষদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা। অর্থাৎ বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো হাত থাকবে না।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে বিচার বিভাগ কাগজে-কলমে আলাদা হলেও বাস্তবে সচিবালয়ের অনেক নিয়ন্ত্রণ থাকে। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে যদি একটি আলাদা সচিবালয় থাকে যা বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে তাহলে সাধারণ মানুষ আদালতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ন্যায়বিচার পাবে।
সব সিদ্ধান্ত ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ও বাজেট প্রদান করা।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: একজন মানুষকে ছোট একটি কাগজের জন্য বা কাজের জন্য কেন ঢাকায় আসতে হবে? বিকেন্দ্রীকরণ মানে হলো জেলা পরিষদ বা স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষ পায়। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করবে তাদের নিজ এলাকায় কাজ করার।
রাষ্ট্র মেরামতের এই প্রথম পর্বের পরিভাষাগুলো আমাদের একটি শক্তিশালী এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই গালভরা শব্দগুলো কি বাস্তবে রূপ পাবে? রাজনীতির ভাষায় যখন 'প্যারাডাইম শিফট' বা 'কাঠামোগত পরিবর্তন' বলা হয়, তখন বুঝতে হবে এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা।
নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই শব্দগুলোর মানে বোঝা এবং প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন করা—‘আপনি কীভাবে এই ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবেন?’ বা ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ কেন আমাদের জন্য প্রয়োজন?’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন পর্যায় শুরু করেছে। এই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রের মেরামত বা পুনর্গঠন স্লোগান থেকে বাস্তব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এর ছাপ পড়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারের শব্দগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় থাকছে রাষ্ট্রের সেই মৌলিক কাঠামো নিয়ে, যা একটি দেশের শাসনব্যবস্থার মেরুদণ্ড।
‘রাষ্ট্র মেরামত’ কোনো সাধারণ সংস্কার নয়। রাষ্ট্রের কিছু প্রধান অঙ্গ থাকে, যেমন—বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র মেরামত বলতে এমন একটি প্রক্রিয়া বোঝানো হয়, যেখানে উল্লিখিত অঙ্গগুলোর মৌলিক ত্রুটিগুলো দূর করে সেগুলোকে পুনরায় সচল ও জনবান্ধব করা হয়।
ধরুন একটি পুরনো ভবনের পাইপলাইন ফেটে গেছে এবং ইলেকট্রিক লাইনে শক লাগছে। আপনি কেবল দেয়ালে রং করলে সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাকে দেয়াল ভেঙে পাইপ এবং তার বদলাতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের ধারণাটিও ঠিক তেমনই। এটি কেবল সরকার বদল নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে দলীয়করণের ফলে পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। রাষ্ট্র মেরামত মানে এমন একটি আইনগত কাঠামো তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন পুলিশ বা আদালতকে নিজের দলের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। তরুণ ভোটারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা একটি ‘সুস্থ সিস্টেম’ চায়, যেখানে তদবির বা স্বজনপ্রীতি ছাড়াই সেবা পাওয়া যাবে।
গণভোট হলো সরাসরি গণতন্ত্রের ভালো উদাহরণ। যখন জাতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদ সদস্যদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়, তখন তাকে গণভোট বলে।
ব্রিটেনের ‘ব্রেক্সিট’ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়া) ছিল একটি ঐতিহাসিক গণভোট। সেখানে সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করেছিল তাদের দেশ কোন পথে চলবে।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের সংবিধানে একসময় গণভোটের বিধান ছিল, যা পরে বাতিল করা হয়। বর্তমানে এটি ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে যদি সংবিধানের কোনো মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় বা রাষ্ট্রের স্বরূপ পরিবর্তনের প্রশ্ন ওঠে, তবে সংসদ সদস্যদের ৩৫০টি ভোটের চেয়ে কোটি কোটি ভোটারের সরাসরি রায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও বৈধ। ১৭ বছর ভোট দিতে না পারা তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি এমন একটি অধিকার, যা তাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি অংশীদার বানাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে কেবল একটি জাতীয় সংসদ রয়েছে (এককক্ষ) । দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদে এই কক্ষের পাশাপাশি একটি ‘উচ্চকক্ষ’ বা ‘সিনেট’ থাকবে। সেখানে মূলত বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক, বিজ্ঞানী, শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিনেট’ ও ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’ কিংবা ভারতের ‘লোকসভা’ ও ‘রাজ্যসভা’ হলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের আদর্শ উদাহরণ।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায়, সংসদের ৩০০ আসনে জয়ী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এক রকম স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয়। যদি একটি উচ্চকক্ষ থাকে, তবে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া কোনো বিতর্কিত বা ক্ষতিকর আইন উচ্চকক্ষে আটকে যেতে পারে বা পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ পায়। মেধাবী এবং বিশেষজ্ঞ যারা সরাসরি নির্বাচনে লড়াই করতে চান না বা করতে পারেন না, তারাও এই উচ্চকক্ষের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। এটি রাজনীতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শাসনবিভাগের প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হন না। এখানে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগ এবং সংসদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়।
যদি প্রধানমন্ত্রীর হাতেই বিচারক নিয়োগ, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সংসদের সব ক্ষমতা থাকে, তবে তিনি চাইলেই স্বৈরশাসক হয়ে উঠতে পারেন। ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে একজন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি আরেকজনের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রায় অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। ক্ষমতার ভারসাম্য আনলে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ক্ষমতা সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া এবং বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি দেশ পাওয়া যেতে পারে যেখানে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি নিজেও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না।
একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি নির্দলীয় প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করাকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বলা হয়।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: এটি বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিভাষা। গত তিনটি নির্বাচনে জনগণের বড় অংশের অভিযোগ ছিল যে, দলীয় সরকারের অধীনে ভোট সুষ্ঠু হয়নি। তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ একটি স্থায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের আইনি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণ ভোটার যারা জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত হওয়া জরুর।
এটি একটি বিশেষায়িত আদালত যা কেবল সংবিধান সংক্রান্ত বিবাদ, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি না তা বিচার করে।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টই এই কাজগুলো করে থাকে। তবে একটি আলাদা সাংবিধানিক আদালত থাকলে সরকারের কোনো স্বৈরাচারী আইন বা ডিক্রিকে দ্রুত চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। এটি সাধারণ মানুষের মানবাধিকার রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ পৃথকীকরণ
বিচার বিভাগকে শাসনবিভাগ বা মন্ত্রিপরিষদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা। অর্থাৎ বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো হাত থাকবে না।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশে বিচার বিভাগ কাগজে-কলমে আলাদা হলেও বাস্তবে সচিবালয়ের অনেক নিয়ন্ত্রণ থাকে। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে যদি একটি আলাদা সচিবালয় থাকে যা বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে তাহলে সাধারণ মানুষ আদালতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ন্যায়বিচার পাবে।
সব সিদ্ধান্ত ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ও বাজেট প্রদান করা।
বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা: একজন মানুষকে ছোট একটি কাগজের জন্য বা কাজের জন্য কেন ঢাকায় আসতে হবে? বিকেন্দ্রীকরণ মানে হলো জেলা পরিষদ বা স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষ পায়। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করবে তাদের নিজ এলাকায় কাজ করার।
রাষ্ট্র মেরামতের এই প্রথম পর্বের পরিভাষাগুলো আমাদের একটি শক্তিশালী এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই গালভরা শব্দগুলো কি বাস্তবে রূপ পাবে? রাজনীতির ভাষায় যখন 'প্যারাডাইম শিফট' বা 'কাঠামোগত পরিবর্তন' বলা হয়, তখন বুঝতে হবে এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা।
নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই শব্দগুলোর মানে বোঝা এবং প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন করা—‘আপনি কীভাবে এই ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবেন?’ বা ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ কেন আমাদের জন্য প্রয়োজন?’

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনের ভোটের সমীকরণ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক এবারের ব্যালটে না থাকায় নির্বাচনী মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা।
১ ঘণ্টা আগে
সামাজিক বৈষম্য দূর করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভেঙে নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
১ ঘণ্টা আগে
প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম অবহেলার শিকার দ্বীপ জেলা ভোলা। এই জেলার ভোলা-১ (সদর) আসনের ভোটাররা এবার শুধু মুখের আশ্বাসে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ, তারা সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ‘রোডম্যাপ’ চাচ্ছেন ত্রয়োদম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদে
১ ঘণ্টা আগে
প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সম্পদে সমৃদ্ধ ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই আসনে এবার ১৭ হাজারের বেশি তরুণ ও নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২ ঘণ্টা আগে