leadT1ad

ভোলা-১

এবার আর ফাঁকা বুলি নয়, ‘সেতু ও মেডিকেল কলেজ’ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চান ভোটাররা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪৬
সন্ধ্যার পর নদীপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম অবহেলার শিকার দ্বীপ জেলা ভোলা। এই জেলার ভোলা-১ (সদর) আসনের ভোটাররা এবার শুধু মুখের আশ্বাসে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ, তারা সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ‘রোডম্যাপ’ চাচ্ছেন ত্রয়োদম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের কাছে।

প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই জেলায় সরকারি চিকিৎসার একমাত্র বড় ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের প্রায়ই বরিশাল বা ঢাকায় স্থানান্তর (রেফার) করা হয়। সন্ধ্যার পর নদীপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।

চরসামাইয়া ইউনিয়নের গৃহবধূ রাশিদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটা ভালা হাসপাতাল না থাকায় পোলাপাইন জন্ম দিতে গিয়া কত মায়েরা মইরা যায়। আমগো বরিশাল, নয়তো ঢাকায় যাইতে হয়। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না। হুদাই কথায় কাম হইবো না, আমরা এবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চাই।’

ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি দুটি—ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ। এই দুই মেগা প্রকল্প ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘ভোট আইলেই সবাই কয় সেতু হইবো। কিন্তু ভোট শেষ হইলে আর কেউ খোঁজ লয় না। এইবার হিসাব কইরা ভোট দিমু।’

ভোলা-১ আসনে এবারের লড়াই বেশ বৈচিত্র্যময়। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তাঁর বিপরীতে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়েদুর রহমান এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘সেতু নির্মাণ ও মেডিকেল কলেজসহ নানা উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি আমাদের রয়েছে। তবে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বিশ্বাস করে সেটাই বড় কথা। আমার বিশ্বাস ভোটাররা আমার ওপর আস্থা রাখবেন।’

অন্যদিকে মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা নির্বাচিত হলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজ ও যাতায়াতের জন্য সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ওবায়েদ জানান, তাঁরা স্রেফ বাগাড়ম্বর নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের দুয়ারে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

ভোলা পৌরসভার ভোটার হারু-অর রশিদ ও আকলিমা বেগমের সাফ কথা—প্রার্থীর কাছে যদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকে, তবে তাঁদের পক্ষে রায় পাওয়া কঠিন হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত