leadT1ad

খাগড়াছড়ি-২৯৮

৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ঝরে পড়ে: খাগড়াছড়ির শিক্ষা সংকট মোকাবিলায় প্রার্থীদের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ি

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৪৭
স্ট্রিম কোলাজ

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ের শিক্ষা সংকট এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পার্বত্য এই জনপদে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া এবং প্রকট শিক্ষক সংকট নিরসনে ১৩ জন প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণায় শিক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৫৯৪টি। দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট এখানে তীব্র। অনেক স্কুল চলছে মাত্র ১-২ জন শিক্ষক দিয়ে। ভৌগোলিক দূরত্ব, দারিদ্র্য এবং শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কারণে প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে পা রাখার আগেই প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘শিক্ষা হচ্ছে সমাজের ভিত্তি। আমি অতীতেও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষক নিয়োগে ভূমিকা রেখেছি। নির্বাচিত হলে দুর্গম এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করে পাহাড়ের শিক্ষাকে এগিয়ে নেব।’

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান দুর্গম এলাকায় ঝরে পড়া রোধে ‘আবাসিক শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং স্থানীয় শিক্ষকদের আবাসিক সুবিধা ও বিশেষ প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলেই টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাউসার শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের বৈষম্য দূর করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী ইয়াকুব আলী চৌধুরী এবং জেলা সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল মৃধা জানান, শিক্ষক সংকট ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষকদের বদলির প্রবণতা একটি বড় বাধা। শিক্ষকদের জন্য আবাসন ও প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ঝরে পড়া রোধে আবাসিক বিদ্যালয়ের বিকল্প দেখেন না।

দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম বদিউজ্জামান জীবন এবং কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি হেমব্রত কারবারী বলেন, পাহাড়ি শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি। লম্বাছড়া জেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষার্থী কমল ত্রিপুরা জানায়, ঝড়-বৃষ্টির দিনে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শিক্ষা বিভাগ জানায়, ই-লার্নিং ও ডিজিটাল ক্লাস চালুর পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় পাঠদানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা পূর্ণরূপে কার্যকর হচ্ছে না। এনজিও কর্মীরা মনে করেন, সরকার ও স্থানীয়দের সমন্বিত অংশগ্রহণই পারে পাহাড়ের শিক্ষায় গতি ফেরাতে।

ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর জয়ী প্রার্থী যেন শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পাহাড়ের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত