leadT1ad

পাবনা-২

নতুন সীমানায় বদলেছে ভোটের সমীকরণ; পেঁয়াজ চাষিদের ভাগ্যবদল ও যোগাযোগ উন্নয়নই বড় ইস্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩০
পাবনা-২ আসনের বেশির ভাগ মানুষ পেঁয়াজ চাষী। কিন্তু তাদের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার নেই। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে পাবনা-২ (সুজানগর ও বেড়া) আসনটি বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ আসনে শুধু প্রার্থীদের নিয়ে নয়, বরং নতুন সীমানা বিন্যাস নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সীমানাতেই ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে বেড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাকে পাবনা-১ থেকে সরিয়ে পাবনা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও আইনি লড়াই চললেও আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনায় নতুন সীমানাতেই ভোট হচ্ছে।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. হেসাব উদ্দিন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী হাসান রুবেল, গণফোরামের নাসির উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আফজাল হোসেন খানও নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাবনা-২ আসনের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা পদ্মা ও যমুনার ভাঙন। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হলেও এর স্থায়ী সমাধান পাননি স্থানীয়রা। বিশেষ করে সুজানগরের প্রধান অর্থকরী ফসল পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত হিমাগার নির্মাণ এখন চাষিদের প্রধানতম দাবি। পাশাপাশি গাজনার বিলকে কেন্দ্র করে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, ঢালারচরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাড়ী বন্দরকে ঘিরে বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। হুরাসাগর নদীর নাব্যতা সংকট দূর করে নৌ-যোগাযোগ চাঙ্গা করার দাবিটিও এখন মুখে মুখে।

স্থানীয় ভোটার আব্দুল মালেক বলেন, এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষ পেঁয়াজ চাষী। কিন্তু তাদের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার নেই। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার দশাও বেহাল। যিনি এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেবেন, তাকেই আমরা ভোট দেব।

বিএনপি প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে এই অঞ্চল পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে পেঁয়াজ চাষিদের ভাগ্যবদল করা। সুজানগরে সরকারি উদ্যোগে একটি বিশাল হিমাগার নির্মাণ করা হবে যাতে কৃষকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে না হয়। গাজনার বিলে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলে এলাকার অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেব। ঢালারচরকে উত্তরবঙ্গের ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করব।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. হেসাব উদ্দিন একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন জনপদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘সুজানগরের পেঁয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অবসানে বিশেষায়িত হিমাগার ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান অঙ্গীকার। হুরাসাগর নদী খনন এবং গাজনার বিলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র করা হবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার মাধ্যমে এই জনপদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তন আনা হবে ইনশাআল্লাহ।’

পাবনা-২ আসনের ভোটাররা এখন কেবল আশ্বাসে সন্তুষ্ট থাকতে চান না; বরং ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটের মাধ্যমে এমন এক প্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত