আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক-মুখপাত্রসহ এনসিপিতে যোগ দিলেন ৪৫ জন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এনসিপির সংবাদ সম্মেলন

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্ল্যাটফর্মটির মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা ও প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ দলটির অন্তত ৩০ জন নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আরও অন্তত ১৫ জন নেতা দলটিতে যুক্ত হয়েছেন।

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মের শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এসময় তাদের মালা পরিয়ে দলে স্বাগত জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একীভূত হচ্ছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধারা আজকে সাংগঠনিকভাবে একটি পতাকাতলে একত্রিত হচ্ছি। এটি এনসিপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা শুধু দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না, বরং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী বিলোপ ঘটিয়ে ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করতে চাই।’

নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচনের নামে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস আবারও জেঁকে বসছে। আওয়ামী লীগের জায়গায় অন্য একটি দলের প্রতিস্থাপনই আমাদের লক্ষ্য ছিল না। আমরা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে আপ বাংলাদেশ-এর সাবেক আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ‘১৬-১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর আমরা একটি মুক্ত বাংলাদেশে নিশ্বাস নিচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘ লড়াইকে সফল করতে এনসিপির সঙ্গে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।’

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র বিনির্মাণ। এবি পার্টি থেকে এনসিপিতে আসাটা কেবল প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, কিন্তু লক্ষ্য অভিন্ন। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ ‘লাঠির আঁটি’র গল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন থাকলে আমাদের ভেঙে ফেলা সহজ, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকলে তরুণদের কেউ পরাজিত করতে পারবে না। জুলাই যোদ্ধাদের সর্বশেষ গন্তব্য হলো এনসিপি।’

এদিন এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও যুক্ত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম, আইমান রাহাত, শাহাদাত হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ছাত্র নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ে আপ বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোও পর্যায়ক্রমে এনসিপির সঙ্গে একীভূত হবে। আজ বিকেলেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া নেতাদের দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াই চলমান থাকবে এবং এনসিপি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।’

সম্পর্কিত