leadT1ad

৭৭ শতাংশ ভোটারের কাছে উন্নয়ন মানেই রাস্তাঘাট-কালভার্ট: সিপিডি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৩১
মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডির জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান। স্ট্রিম ছবি

দেশের ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন পরিবেশ রক্ষার চেয়ে অবকাঠামো নির্মাণ বেশি জরুরি। আর ৭৭ শতাংশের কাছে উন্নয়ন মানে নতুন রাস্তা, সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এই জরিপের ফল উপস্থাপন করা হয়।

জরিপের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত।

দেশের ১৫৪টি নির্বাচনী এলাকায় ১ হাজার ২০০ ভোটার ও ৪৫০ প্রার্থীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিপিডি বলছে, ভোটাররা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও বায়ুদূষণের ভুক্তভোগী হলেও ভোট দেওয়ার সময় তারা পরিবেশের বদলে গতানুগতিক অবকাঠামো বা ‘ব্রিজ-কালভার্ট’ নির্মাণকে গুরুত্ব দেন। রাজনৈতিক দলগুলোও এ কারণে ইশতেহারে অবকাঠামোর তৈরির অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট আর্থিক রূপরেখা তারা দেয়নি।

জরিপ অনুযায়ী, ৮১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় তাপমাত্রা অসহনীয়ভাবে বাড়ছে এবং বায়ুদূষণ প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র বা খরাপ্রবণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি একটি ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। কিন্তু বরেন্দ্র এলাকার মাত্র ৩১ শতাংশ প্রার্থী তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে স্বীকার করছেন।

সিপিডি দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখেছে, সেখানে সবুজায়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নের অর্থায়ন পদ্ধতি অস্পষ্ট। বিএনপি গাছ লাগানো ও ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বললেও এই বিশাল প্রকল্পের অর্থায়ন ও ফসিল ফুয়েল থেকে সরে আসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেয়নি।

সিপিডি বলছে, এনসিপি ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা এবং ইটভাটা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন ব্যয় ও রূপরেখা স্পষ্ট করেনি। ইসলামী দলগুলো সোলার পাওয়ার বৃদ্ধি ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের কথা বললেও কারিগরি সক্ষমতার অভাব দেখা গেছে।

এই ইশতেহারগুলো অনেকাংশেই ‘পিপল প্লেজিং’ বা সস্তা জনপ্রিয়তার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সিপিডি।

ঢাকার সচিবালয়ে বসে স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় জানিয়ে সিপিডি সুপারিশ করেছে, ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করতে হবে। দূষণকারী শিল্পের পরিবর্তে ‘গ্রিন জবস’ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার বাস্তবায়ন করছেন কিনা, তা যাচাই করতে একটি স্বতন্ত্র থার্ড-পার্টি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকাও জরুরি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত