আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন কোটিপতি রয়েছেন। প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সর্বশেষ অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন প্রার্থীরা।
এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির সাবেক তিন সংসদ সদস্যই কোটিপতি। সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলামের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপিপ্রার্থী অধ্যাপক শাহাজাহান মিঞা হলফনামায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৪ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৫ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন কৃষিখাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ও সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ। তাঁর নামে একটি গাড়িও রয়েছে। তবে শাহাজাহান মিঞার নামে কোনো ঋণ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপিরপ্রার্থী আমিনুল ইসলামের সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩৩৮ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন কৃষিখাত ও ব্যবসা। তাঁর নামে একটি গাড়ি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপিপ্রার্থী হারুনুর রশীদের বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৯২২ টাকা। তাঁর নামে সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজার ৪৩১ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন বাড়ি ও ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে আয়। তিনি সবচেয়ে বেশি আয় করেন ব্যবসা থেকে। আয়ের পরিমাণ ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। হারুনুর রশীদের নামে তিনটি বাড়ি, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আব্দুল হালিমও রয়েছেন কোটিপতির তালিকায়। হলফনামায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা। তার আয়ের পুরো অর্থই আসে কৃষিখাত থেকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর খুরশিদ আলমের সম্পদও কোটির ঘরে। হলফনামায় তিনি তাঁর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৫০ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১ হাজার ৩৫০ টাকা। আয়ের উৎস ব্যবসা এবং বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া।
এদিকে তিনটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের কেউ-ই কোটিপতি নন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর ড. কেরামত আলীর সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন কৃষি খাত, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ও অন্যান্য। কেরামত আলীর নিজের নামে কোনো গাড়ী নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৫ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন কৃষিখাত, ব্যবসা ও শিক্ষকতা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের নামে সম্পদ রয়েছে ৪৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৪ টাকার। তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৪১ হাজার ৩২২ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসা ও পরামর্শক হিসেবে আয়। ব্যবসায়ীর চেয়ে তিনি পরামর্শক হিসেবে বেশি আয় করেন।