leadT1ad

নারীকে ঘরে রেখে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব: যশোরে তারেক রহমান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ১৭
সোমবার যশোর সদরের উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এদেশের নারীদেরকে তারা ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। সে কারণে দলটির সব থেকে বড় নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটা নিশ্চিত করতে আবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে লক্ষ-কোটি কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত আবার নিজেদের নারী কর্মীদেরকে গ্রামে গ্রামে মা-বোনেদের কাছে পাঠাচ্ছে তাদের এনআইডি নাম্বার আর বিকাশ নাম্বার নেওয়ার জন্য। এরা হয়তো কাউকে কিছু টাকা বিকাশ করেও দেবে। কিন্তু, এরপর আর তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াত সকাল-বিকাল শুধু মিথ্যাচারে লিপ্ত বলে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এদের কারণে একাত্তরে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে, মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। ফলে তাদেরকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে কি এখন আমরা প্রশ্ন করতে পারি না যে, আপনাদের নেতা আপনাদেরকে নিয়েও এমন কুরুচিপূর্ণ চিন্তা করেন।’

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে “ফ্যামিলি কার্ড” পৌঁছে দেব, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, উন্নয়নের নামে প্রতারণা করে না। সরকার গঠন করলে কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। ’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ হওয়া খালগুলো খনন করে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ করা হবে।’

তারেক রহমান যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘এখানকার ফুল চাষকে আধুনিকায়ন করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে আখ চাষিদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।’

বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ভোট গণনায় দেরি করার উছিলায় কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই শান্তিতে বাস করবে। কারণ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য।’

জনসভায় যশোরসহ সাত জেলার ২২টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট চান বিএনপি চেয়ারম্যান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ ধ্বনি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে, আজ সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার ২২টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার বাইরে থেকে বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আসা নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মিছিল করে তারা মাঠে এসে জড়ো হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ও আশপাশের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

বেলা ২টা ১০ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হন। মঞ্চে উঠেই তিনি হাত নেড়ে জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিবাদন জানান। এ সময় ‘তারেক রহমানকে স্বাগতম’, ‘তারেক রহমান এগিয়ে চলো’—স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। পরে তারেক রহমান বেলা ২টা ১৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন।

নেতাকর্মীদের স্লোগান ও মিছিলে পুরো যশোর শহর উৎসবের নগরীতে রূপ নেয়। নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতি তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে এবং নির্বাচনি মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত