leadT1ad

বগুড়া-৫

১৭ বছরের অবহেলা কাটাতে চান শেরপুর-ধুনটের ভোটাররা, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

বগুড়া ৫। স্ট্রিম গ্রাফিক

সাড়ে চার শ বছরের প্রাচীন খেরুয়া মসজিদ আর ঐতিহ্যবাহী দইয়ের শহরখ্যাত শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনপদে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন বেশির ভাগ ভোটার। তারা এবার এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান, যিনি মহাসড়কে ওভারব্রিজ নির্মাণ, বেকারত্ব দূরীকরণ ও নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বগুড়া-৫ আসনের মোট ভোটার ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দবিবুর রহমান। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যাপক মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় শ বছরের প্রাচীন শেরপুর পৌরসভায় বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে পানি জমে সড়কে। মির্জাপুর এলাকার স্কুল শিক্ষিকা নাজমীন আরা জানান, চার লেনের মহাসড়কে পর্যাপ্ত ফ্লাইওভার না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের পারাপারে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাটের অবস্থাও জরাজীর্ণ।

ধুনট উপজেলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও শাহারুল হক আক্ষেপ করে বলেন, যমুনার ভাঙনে প্রতি বছর মানুষ ভিটেমাটি হারাচ্ছে, কিন্তু এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অন্যদিকে, শেরপুর ইউনিভার্সাল বিএম কলেজের প্রভাষক সেলিম রেজা বলেন, উন্নয়নের নামে অতীতে অর্থ লোপাট হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, ফলে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চাল ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন দাবি তোলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর চালকল থাকায় চাল ভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসকল নাগরিক সমস্যা সমাধানে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

জামায়াত প্রার্থী দবিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জনগণের মৌলিক অধিকার ও কল্যাণে যা যা প্রয়োজন সবই বাস্তবায়ন করা হবে।’

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘আমি এমপি থাকাকালে যে উন্নয়ন হয়েছে, এরপর মানুষ আর কোনো উন্নয়ন দেখেনি। আমি নির্বাচিত হলে ধুনটের নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান, মহাসড়কে পর্যাপ্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং চালভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করব।’

সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোক।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত