আয়তনের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটি। ভৌগোলিকভাবে ভারতের মিজোরাম এবং মিয়ানমারের আরাকান সীমান্তবর্তী এই জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে লংগদু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি পণ্য, প্রাণিসম্পদ এবং মৌসুমি শাক-সবজির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পর লংগদুবাসীর প্রধান আক্ষেপ—জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকা। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অঞ্চলের ৬৮ হাজার ভোটারের প্রধান দাবি এখন ‘নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক’ বাস্তবায়ন।
লংগদু উপজেলার অবস্থান জেলার প্রায় মধ্যভাগে হলেও জেলা শহর রাঙ্গামাটির সঙ্গে সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। বর্তমানে নৌ-পথই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। সড়ক পথে যেতে হলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা, প্রশাসনিক কাজ এবং কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
লংগদু-নানিয়ারচর সড়ক বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক এবিএস মামুন বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার ৫ দশক পরেও জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক বিচ্ছিন্ন। জরুরি রোগী পাঠানো বা পচনশীল কৃষি পণ্য সঠিক সময়ে পাঠাতে না পেরে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সীমান্তে হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলেও আমাদের এই প্রাণের দাবিটি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, এই সড়কটি হলে লংগদু, বাঘাইছড়ি, সাজেক ও দীঘিনালার প্রায় ৫ লাখ মানুষ সুফল পাবে এবং পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে।
রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে লংগদু উপজেলার ভোটার সংখ্যা ৬৮ হাজার ২৩৩ জন (পুরুষ ৩৫ হাজার ৯২ ও নারী ৩৩ হাজার ১৪১)। রাঙ্গামাটি সদর ও বাঘাইছড়ির পর লংগদু জেলার তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটার সমৃদ্ধ উপজেলা। ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রার্থীদের কাছে লংগদুর ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু দারদা খান আরমান বলেন, ‘নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক হলে লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন হবে। এটি এখন বিলাসিতা নয়, আমাদের বেঁচে থাকার দাবি।’
রাঙ্গামাটি আসনের প্রার্থীরাও লংগদুবাসীর এই দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত ও জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা (কোদাল প্রতীক) বলেন, ‘লংগদু অনেক বড় একটি উপজেলা। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে লংগদুকে জেলা ঘোষণা করা দরকার। রাঙ্গামাটি শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক সংযোগ করে একে আধুনিকায়ন করা আমার অন্যতম লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস, লংগদুবাসী প্রগতিশীল ও সম্প্রীতির পক্ষে কোদাল মার্কায় ভোট দেবেন।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান (ধানের শীষ প্রতীক) বলেন, ‘নির্বাচিত হলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া উপজেলাগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান এবং পর্যটন বিকাশে কাজ করব। কোনো এলাকার মানুষ যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।’
লংগদুবাসীর প্রত্যাশা, এবার কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং ব্যালটের মাধ্যমে তারা এমন এক প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন যিনি তাদের দীর্ঘদিনের লালিত ‘সরাসরি সড়ক পথের’ স্বপ্ন পূরণ করবেন।