leadT1ad

বগুড়া-৭

জিয়াউর রহমানের জন্মভূমিতে এবার উন্নয়ন-বঞ্চনা ঘোচানোর লড়াই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪২ নম্বর নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৭ আসন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। তবে স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই গত ১৭ বছর উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিল এই জনপদ। এবার সুষ্ঠু নির্বাচন আর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দাবিতে একাট্টা এই আসনের ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯২ জন ভোটার।

বগুড়া-৭ আসনে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিলটন (বিএনপি), শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী (জামায়াতে ইসলামী), অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিক (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং আনছার আলী (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ)।

শস্যভাণ্ডার খ্যাত এই দুই উপজেলায় বছরজুড়েই ধান ও হরেক রকমের সবজি উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে শাজাহানপুর উপজেলা সবজি ও সবজির চারার জন্য দেশজুড়ে সমাদৃত। তবে সংরক্ষণের অভাব ও সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। শাজাহানপুরের খোট্টাপাড়া এলাকার চাষী আমজাদ হোসেন ও গাবতলীর কৃষি উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম জানান, সবজি সংরক্ষাণাগার বা হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সবজি নষ্ট হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক এই অর্থনীতির উন্নয়নে হিমাগার স্থাপন ও বাজারজাতকরণে সরকারি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

এদিকে অবহেলিত এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জরাজীর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে স্থানীয়দের কথায়। কলেজ শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম ও উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান জানান, গাবতলীতে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নত কোনো হাসপাতাল নেই। জরুরি প্রয়োজনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বগুড়া শহরে যেতে হয়। নাড়ুয়ামালা এলাকার আবিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ফজলে বারী রতন জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরাও উন্নয়নের ঝুলি নিয়ে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। জামায়াত প্রার্থী গোলাম রব্বানী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিলটন বলেন, ‘শহীদ জিয়ার জন্মভূমি হওয়ায় গত ১৭ বছর এই এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিএনপি আমলের পর এখানে নতুন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমি নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট সংস্কার, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলে বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রাধিকার দেব।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত