জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চুয়াডাঙ্গা-১

আওয়ামী লীগ নেই মাঠে, জয় পেতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩২
স্ট্রিম গ্রাফিক

দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মাঠের বাইরে থাকায় জয়ের মালা পরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। গ্রাম-গঞ্জে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী অফিসে নেতাকর্মীদের পদচারণা আর প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে মুখর এখন চুয়াডাঙ্গার জনপদ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে তিন প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল একটি ‘ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক’ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজীও; তিনিও তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচনী ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই নির্বাচনী অফিসগুলো সরগরম। বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। সমান্তরালভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরাও।

চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় অনেক এগিয়ে। আমরা প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে যাচ্ছি। বিএনপি জয়ী হলে চুয়াডাঙ্গাবাসী প্রকৃত উন্নয়নের ছোঁয়া দেখবে।’

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, ‘জামায়াত অনেক আগে থেকেই সুসংগঠিত। ভোটারদের কাছ থেকে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা কাজ করছে। তারা এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবে।’

স্থানীয় ভোটাররা এবার প্রার্থীর অতীত রেকর্ড এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আলমডাঙ্গা এলাকার ভোটার তানভীর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একজনকে বেছে নেব যিনি যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করবেন। আমাদের দাবি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।’

তরুণ ভোটার আল মুতাকাব্বির সাকিবের মতে, সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালান বড় সমস্যা। তিনি বলেন, ‘এখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান এখনো অনুন্নত। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮ জন। সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৮০টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ৯৫৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত