leadT1ad

চুয়াডাঙ্গায় ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন প্রার্থীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ১৩
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ড্রেন ও সড়কের বেহাল দশা। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ড্রেন ও সড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় চরম নাভিশ্বাস উঠেছে নাগরিকদের জীবনে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে থাকা এবং ড্রেনের ময়লা উপচে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া এখন এ শহরের নিত্যদিনের চিত্র। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা ও ড্রেন মেরামতের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনদুর্ভোগ নিরসনের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মোট ২৬২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে, যার ১৩৬ কিলোমিটারই এখনো কাঁচা। এদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিত্র আরও ভয়াবহ। নথিপত্র অনুযায়ী, মোট ড্রেনের একটি বড় অংশই বর্তমানে ভাঙা ও ব্যবহারের অনুপযোগী। বিশেষ করে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা ও হাজরাহাটি গ্রামের সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বুজরুকগড়গড়ী, বনানীপাড়া, শান্তিপাড়া, সবুজপাড়া, পলাশপাড়া ও দক্ষিণ হাসপাতালপাড়াসহ অন্তত ১০টি এলাকার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ড্রেনের মুখে আবর্জনা জমে থাকায় অনেক স্থানে ড্রেনের পানি মানুষের বসতঘরে ঢুকে পড়ছে।

পলাশপাড়ার বাসিন্দা পিয়ার খান বলেন, ‘বর্ষা এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। ভাঙা সড়কে রাতে শিশুদের নিয়ে চলাফেরা করা দুঃসাহসিক কাজ। বিজয়ী প্রার্থীদের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া, ভোটের পর যেন এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হয়।’

হাজরাহাটি গ্রামের সালাউদ্দিন মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাউন্সিলররা এসে শুধু ছবি তুলে নিয়ে যান, কাজ হয় না। প্রায় এক যুগ ধরে এই ভাঙা রাস্তা আর ড্রেন দেখছি। এবার এমপি যাকে নির্বাচিত করব, তাঁর কাছে দ্রুত মেরামতের দাবি জানাই।’

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীরাও এই নাগরিক সংকটকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে দেখছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে এই জনদুর্ভোগ দূর করার উদ্যোগ নেব। রাস্তা ও ড্রেন মেরামতে কোনো ধরনের দুর্নীতি হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের অবস্থা খুবই নাজুক। আমি জয়ী হলে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার পাশাপাশি মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব এবং দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার শুরু করব।’

নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা উন্নয়নের ফুলঝুরি নিয়ে মাঠ চষে বেড়ালেও সাধারণ ভোটারদের মনে সংশয় কাটছে না। দীর্ঘ এক যুগের এই ভোগান্তির অবসান কি সত্যিই হবে, নাকি এটি কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল—তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সময়ের অপেক্ষা করছেন চুয়াডাঙ্গাবাসী।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত