সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: এনসিপি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১৯: ০৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। স্ট্রিম গ্রাফিক

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিত করা এবং সেখানে পদায়িত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করার সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় এবং একটি পশ্চাদমুখী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) এনসিপির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কার্যত বাতিল করার পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। অধস্তন আদালতের পদায়ন, বদলি ও শৃঙ্খলার বিষয়গুলো নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকা মানেই হলো বিচার বিভাগকে পরাধীন করে রাখা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিচার বিভাগকে যদি নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও জনবল থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে সংবিধানে ঘোষিত স্বাধীন বিচার বিভাগের ধারণা কেবল একটি কাগুজে ঘোষণায় পরিণত হবে। আদালত স্বাধীন না থাকলে নাগরিকের শেষ আশ্রয়স্থল দুর্বল হয়ে পড়ে।’

বিবৃতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমালোচনা করে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তার পরিপন্থী। বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করলে তা দেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কোনো সরকারেরই বিচার বিভাগের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এরপর ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সচিবালয় উদ্বোধন করেন। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয়-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো রহিত করার উদ্যোগ নেয়। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মুখেও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদেরই।

বিবৃতিতে এনসিপি সরকারের প্রতি চার দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে পদায়িত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে; স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়কে কার্যকর, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিতে হবে; বিচারকদের পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সব ধরনের প্রভাব দূর করতে হবে; এবং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগের পূর্ণ প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত