স্ট্রিম প্রতিবেদক

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দেশের আইন প্রণেতা হতে যারা ভোটযুদ্ধে নেমেছেন, তাদের সিংহভাগ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনীতিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও, তাদের খুঁজতে হবে রীতিমতো দূরবীন দিয়ে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)– এর ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ শীর্ষক বিশ্লেষণ বলছে, মোট প্রার্থীর অর্ধেক ব্যবসায়ী। পেশায় রাজনীতিবিদ আছেন দেড় শতাংশের কিছু বেশি। আইনজীবী ও শিক্ষক আছেন প্রায় সমানে সমান। আর কৃষিজীবী প্রায় পাঁচ শতাংশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে জিতে আসতে অর্থের প্রয়োজন থাকায় রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আবার ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা রক্ষা বা সম্প্রসারণের স্বার্থে রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিবিদদের চাইতে ব্যবসায়ীদের মনোনয়ন দিলে সহজে জিতে আসতেন পারেন– এমন ধারণা পোষণ করে। ব্যবসায়ীরাও দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন অনেক বেশি। সেখানে তাঁদের ব্যবসায়িক নানা স্বার্থ জড়িত।’
ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্য
হলফনামার তথ্য বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, প্রতি দুজন প্রার্থীর মধ্যে একজন ব্যবসায়ী। যদিও ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় (৫৭.৬৭ শতাংশ) এবার ব্যবসায়ীদের হার কিছুটা কম। তবে ভোটের মাঠে একক আধিপত্য ব্যবসায়ীদেরই।
টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতিতে বিনিয়োগ এখন সবচেয়ে লাভজনক। এজন্য ব্যবসায়ীরা দলে দলে রাজনীতিতে ঝুঁকছেন।
জেসমিন টুলী বলেন, ‘নির্বাচন করতে বাংলাদেশে বেশ টাকা-পয়সা খরচ হয়। নির্বাচনে জিতে আসার জন্য টাকা বড় ফ্যাক্টর, যার সংস্থান ব্যবসায়ীরা ভালো দিতে পারেন বলে ধারণা জন্মে গেছে।’ ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ একদিনে হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। সহজে ভাঙ্গা সম্ভব নয়।’
সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের আধিক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের নিজের ও পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ক্ষমতার ব্যবহার যাতে প্রশ্নাতীত বা প্রশ্নহীন না হয়, সেটি নিশ্চিতে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
রাজনীতিবিদ কম
প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর মধ্যে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী হলফনামায় নিজেদের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন। ফলে ৯৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী রাজনীতিকে তাদের মূল পেশা বা জীবিকার উৎস মনে করেন না। তারা অন্য পেশায় যুক্ত থেকে রাজনীতি করছেন।
আইনজীবী ও শিক্ষকদের অবস্থান
ব্যবসায়ীদের পরেই সংসদে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন আইনজীবীরা। এবার ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রার্থী আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার আইনজীবী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তৃতীয় অবস্থানে আছেন শিক্ষকেরা। ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষকতা বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িত।
পিছিয়ে কৃষিজীবীরা
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে এই পেশা থেকে আইনসভায় যেতে চাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা খুবই নগন্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫ দশমিক ০২ শতাংশ প্রার্থীর আয়ের মূল উৎস কৃষি।
কৃষকদের প্রকৃত সমস্যা বা দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরার মতো প্রতিনিধির এই সংকট নীতি নির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রার্থী চাকরিজীবী এবং ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রার্থী চিকিৎসক।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দেশের আইন প্রণেতা হতে যারা ভোটযুদ্ধে নেমেছেন, তাদের সিংহভাগ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনীতিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও, তাদের খুঁজতে হবে রীতিমতো দূরবীন দিয়ে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)– এর ‘হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ শীর্ষক বিশ্লেষণ বলছে, মোট প্রার্থীর অর্ধেক ব্যবসায়ী। পেশায় রাজনীতিবিদ আছেন দেড় শতাংশের কিছু বেশি। আইনজীবী ও শিক্ষক আছেন প্রায় সমানে সমান। আর কৃষিজীবী প্রায় পাঁচ শতাংশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে জিতে আসতে অর্থের প্রয়োজন থাকায় রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আবার ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা রক্ষা বা সম্প্রসারণের স্বার্থে রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিবিদদের চাইতে ব্যবসায়ীদের মনোনয়ন দিলে সহজে জিতে আসতেন পারেন– এমন ধারণা পোষণ করে। ব্যবসায়ীরাও দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন অনেক বেশি। সেখানে তাঁদের ব্যবসায়িক নানা স্বার্থ জড়িত।’
ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্য
হলফনামার তথ্য বলছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, প্রতি দুজন প্রার্থীর মধ্যে একজন ব্যবসায়ী। যদিও ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় (৫৭.৬৭ শতাংশ) এবার ব্যবসায়ীদের হার কিছুটা কম। তবে ভোটের মাঠে একক আধিপত্য ব্যবসায়ীদেরই।
টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতিতে বিনিয়োগ এখন সবচেয়ে লাভজনক। এজন্য ব্যবসায়ীরা দলে দলে রাজনীতিতে ঝুঁকছেন।
জেসমিন টুলী বলেন, ‘নির্বাচন করতে বাংলাদেশে বেশ টাকা-পয়সা খরচ হয়। নির্বাচনে জিতে আসার জন্য টাকা বড় ফ্যাক্টর, যার সংস্থান ব্যবসায়ীরা ভালো দিতে পারেন বলে ধারণা জন্মে গেছে।’ ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ একদিনে হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। সহজে ভাঙ্গা সম্ভব নয়।’
সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের আধিক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের নিজের ও পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ক্ষমতার ব্যবহার যাতে প্রশ্নাতীত বা প্রশ্নহীন না হয়, সেটি নিশ্চিতে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
রাজনীতিবিদ কম
প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর মধ্যে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী হলফনামায় নিজেদের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন। ফলে ৯৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী রাজনীতিকে তাদের মূল পেশা বা জীবিকার উৎস মনে করেন না। তারা অন্য পেশায় যুক্ত থেকে রাজনীতি করছেন।
আইনজীবী ও শিক্ষকদের অবস্থান
ব্যবসায়ীদের পরেই সংসদে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন আইনজীবীরা। এবার ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রার্থী আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার আইনজীবী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তৃতীয় অবস্থানে আছেন শিক্ষকেরা। ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষকতা বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িত।
পিছিয়ে কৃষিজীবীরা
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে এই পেশা থেকে আইনসভায় যেতে চাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা খুবই নগন্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫ দশমিক ০২ শতাংশ প্রার্থীর আয়ের মূল উৎস কৃষি।
কৃষকদের প্রকৃত সমস্যা বা দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরার মতো প্রতিনিধির এই সংকট নীতি নির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রার্থী চাকরিজীবী এবং ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রার্থী চিকিৎসক।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদের ছোট ভাই আশিকুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও এর ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ।
১৬ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ভোট দিয়েছেন।
২৬ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন অনিয়ম হলে তরুণ প্রজন্ম বরদাশত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
৩৬ মিনিট আগে
রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোটে ফলাফল যা-ই হোক, তিনি মেনে নেবেন। অন্যদেরও মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
১ ঘণ্টা আগে