এনসিপির জাতীয় কনভেনশন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে বাধ্য করতে হবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৫: ২২
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। স্ট্রিম ছবি

সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা সেখান থেকে সরে গেছে। এভাবে চললে সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। এজন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে বাধ্য করতে হবে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান।

আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরেই বলেছি, এটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার সংসদ। যেই অধ্যাদেশগুলো আইন করলে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে, সেগুলোকে তারা আইনে পরিণত করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা ল্যাপস করে বাতিল করে দিয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের এলিট, সিভিল-মিলিটারি-ব্যুরোক্র্যাসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, সে কারণে তারা সংস্কারকে ভন্ডুল করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে দুই মাসও যায়নি। এর মধ্যে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। জুলাই সনদে এবং অধ্যাদেশ হিসেবে গুম, মানবাধিকার, দুদক, বিচার বিভাগসহ একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাতিল করছে সরকার। কাউন্সিল গঠন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠান স্বাধীন থেকে কাজ করতে পারবে। সেটিও হয়নি। এগুলো না হলে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। ফলে সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোট মানতে হবে। না হলে তারা হাসিনার সরকারের দিকেই ফিরে যাবে।

সরোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। অনেকে এতদিন তাদের একটি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এটা পরিষ্কার, বিএনপি সরকার আর সংস্কার করবে না। শুধু তাই নয়, দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে যে সংস্কারের কথা তারা বলেছে, সেখানে ফেরাও বিএনপির পক্ষে সম্ভব না। তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের মাধ্যমে তারা তা ভঙ্গ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সেশনের সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না। তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা উপভোগ করতে চায়৷ বিএনপি বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছে। অথচ, ঐকমত্য কমিশনে বিষয়টি এমনভাবে এসেছে যে, মূল বিষয়ে সবাই একমত। কারও ভিন্ন কোনো মত থাকলে তা পাশে উল্লেখ করবে। অর্থাৎ, নোট অব ডিসেন্ট মুখ্য নয়। তা ছাড়া গণভোটের পর বিএনপির রাজি-নারাজি আর মুখ্য বিষয়ই নয়।

গণভোটের রায়কে অমর্যাদা না করার আহ্বানও জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত