উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এই জনপদের ভোটারদের কাছে এবার উন্নয়নের মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়া চাষীরা এবার হিমাগার নির্মাণ ও রফতানির নিশ্চয়তা চান প্রার্থীদের কাছ থেকে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৩৭ নম্বর এই আসনটি ঐতিহাসিক পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড় ও হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহিসাওয়ার (রহ.)-এর মাজার শরিফ সমৃদ্ধ এক প্রাচীন জনপদ। ধান, কলা ও সবজি উৎপাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই উপজেলায় বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নির্বাচনী ময়দানে এবার লড়াই করছেন বিএনপি থেকে শিবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এডভোকেট মুফতি জামাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার রেজা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, বছরজুড়েই এখানে প্রচুর ফসল ফলে, কিন্তু বিপণন ব্যবস্থায় রয়ে গেছে বড় ঘাটতি। মোকামতলার কলা চাষী আজিজুর রহমান জানান, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় নামমাত্র মূল্যে কলা বিক্রি করতে হয়। মহাস্থানের আলু চাষী আব্দুল বাছেদ ও সফিকুল ইসলামের দাবি, শিবগঞ্জের আলু দেশের সেরা হলেও বিদেশে রফতানির সুযোগ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ আসছে না। আটমুল এলাকার সবজি চাষী আতিকুল ও মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ফুলকপি ও বাঁধাকপি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে আমরা লাভের মুখ দেখতাম।’
ভোটারদের এই প্রাণের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করছেন প্রার্থীরাও। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান জানান, নির্বাচিত হলে কাঁচামাল রপ্তানি ও সংরক্ষিত আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবেন।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পান। পাশাপাশি এলাকায় নতুন হিমাগার নির্মাণেরও অঙ্গীকার করেন তিনি।
কৃষির পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রার্থীকেই বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা সচেতন ভোটারদের।