ওলিউর রহমান

দৃশ্য-১: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। শহরের মহল্লাতে এসময় সমাজের নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ মাংস সংগ্রহের জন্য বের হয়। বাসায় বাসায় ঘুরে এক টুকরো, দুই টুকরো মাংস সংগ্রহ করে দলবেঁধে। রাতের বেলায় সেই মাংস রান্না করে তারা ঈদের দিনে ভাল-মন্দ খায়।
দৃশ্য-২: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। গ্রামের কোনো খোলা জায়গায় এলাকার সব কোরবানিদাতা মাংস জমা করেছে। সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবী কয়েকজন যারা কোরবানি দিতে পারেনি তাদের বাড়িতে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে।
উপরের দুইটি দৃশ্যে একটি সাধারণ চিত্র হলো, শহর বা গ্রাম সবখানেই কোরবানিদাতারা তাদের সামর্থ্য অনুপাতে গরিব-অসহায়দের মাংস দিয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামের দৃশ্যে আমরা দেখি আতিথেয়তার ছোঁয়া। আর শহরের দৃশ্যে চূড়ান্ত অপমানকর এক পরিবেশ।
ঈদের দিন যারা শহরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করে এরা সচরাচর ভিক্ষুক নয়। কিন্তু আমাদের শহুরে সমাজে পরিবেশ এমন হয়েছে, মায়েদের তাদের সন্তানের মুখে ঈদের দিনে একটু ভালো খাবার তুলে দিতে তাদের মাংস ভিক্ষা করতে পথে নামতে হয়।
আমাদের সমাজে প্রচলন আছে, কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এক ভাগ নিজে খাবে। এক ভাগ আত্মীয়দের দেবে। আর একভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেবে।
রাসূল (সা.) একাধিক হাদীসে বলেছেন, (কোরবানির মাংস) তোমরা নিজেরা খাও, অন্যদেরকে খাওয়াও। (সহীহ মুসলিম)
এমনকি একবার মদীনায় সঙ্কট দেখা দিলে রাসূল (সা.) কোরবানির মাংস তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করে রাখতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। বরং সকলের মধ্যে দান করে দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল।
আল্লাহ তাআলা কোরআনের সূরা আল হাজ্জ-এ বলেন, ‘কোরবানির মাংস তোমরা নিজেরা খাও এবং অসহায় দরিদ্রদের খাওয়াও।’
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ আছে, কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম। এক ভাগ নিজেরা খাবে। এক ভাগ আত্মীয়দের হাদিয়া দেবে। আর একভাগ গরিবদের মাঝে দান করে দেবে। তবে এই বণ্টন সমান তিন ভাগ হওয়া জরুরি নয়।
এসব আয়াত এবং হাদীসের আলোকে উলামায়ে কেরাম কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এটা যদিও ফরজ বা আবশ্যক কোনো বিধান নয়। চাইলে কোরবানিদাতা নিজেই সবটুকু মাংস খেতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে রাসূলের (সা.) এই হাদিস মনে রাখা প্রয়োজন। ‘তোমরা যখন তরকারি (মাংস) রান্না করো তাতে ঝোলের পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। এবং প্রতিবেশীকে সে খাবারে শামিল করো।’ (সহীহ মুসলিম)
এই একটি বাক্যের ভেতরেই যেন কোরবানির পুরো সামাজিক দর্শন লুকিয়ে আছে। কোরবানির মানে হলো তাকওয়ার অনুশীলন৷ সুরা আল হাজ্জে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোরবানির পশুর মাংস, রক্ত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় কেবল তোমাদের তাকওয়া।’
প্রকৃতপক্ষে কোরবানি আমাদের সামনে শুধু একটি ইবাদতের দৃশ্যপট নয়। এটি একটি সমাজ-নির্মাণের অনুশীলন। এখানে শুধু পশু কোরবানি হয় না, বরং মানুষের ভেতরের স্বার্থপরতা, উদাসীনতা এবং বিচ্ছিন্নতাকেও কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা নিহিত থাকে। তাই কোরবানির দিন শুধু মাংস বণ্টনের হিসাব নয়, বরং মানবিক সম্পর্কের বণ্টন কতটা ঘটছে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
শহরের দৃশ্যে যখন আমরা দেখি মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করতে হয়, তখন সেখানে দানের চেয়েও বেশি করে চোখে পড়ে একটি সামাজিক ব্যবধান। দাতা ও গ্রহণকারীর মধ্যে এমন এক দূরত্ব তৈরি হয়, যা অনেক সময় দানের সৌন্দর্যকে আড়াল করে দেয়। অন্যদিকে গ্রামে যখন একই মাংস একত্র করে সম্মিলিতভাবে বিতরণ করা হয়, তখন সেখানে অন্তত একটি শৃঙ্খলা ও মর্যাদার পরিবেশ বজায় থাকে। যেখানে দান গ্রহণ করাও অনেকটা সম্মানজনক অংশগ্রহণে পরিণত হয়।
এই পার্থক্যগুলো আমাদের শুধু বাস্তবতা দেখায় না। বরং আমাদের সামাজিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আমরা কি কোরবানির শিক্ষা যথাযথভাবে সামাজিক ব্যবস্থায় রূপ দিতে পারছি? নাকি এটি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত ও আনুষ্ঠানিক দানেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
আল্লাহ তাআলা কোরআনে মাংস দান করতে বলেননি৷ বরং গরিবদের খাওয়াতে বলেছেন। হয়তো এ কারণেই ইসলামে কোরবানির সঙ্গে ‘খাওয়ানো’ বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে শুধু দান নয়, বরং অংশীদারত্বের শিক্ষা রয়েছে।
সমাজের দুর্বল মানুষটিও যেন ঈদের দিনে নিজেকে একা বা পরিত্যক্ত মনে না করে। ঈদের দিনে কোনো মা যেন সন্তানের জন্য এক টুকরো মাংসের আশায় অপমানিত বোধ না করেন।

দৃশ্য-১: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। শহরের মহল্লাতে এসময় সমাজের নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ মাংস সংগ্রহের জন্য বের হয়। বাসায় বাসায় ঘুরে এক টুকরো, দুই টুকরো মাংস সংগ্রহ করে দলবেঁধে। রাতের বেলায় সেই মাংস রান্না করে তারা ঈদের দিনে ভাল-মন্দ খায়।
দৃশ্য-২: কোরবানির ঈদের দিন দুপুর। গ্রামের কোনো খোলা জায়গায় এলাকার সব কোরবানিদাতা মাংস জমা করেছে। সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবী কয়েকজন যারা কোরবানি দিতে পারেনি তাদের বাড়িতে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে।
উপরের দুইটি দৃশ্যে একটি সাধারণ চিত্র হলো, শহর বা গ্রাম সবখানেই কোরবানিদাতারা তাদের সামর্থ্য অনুপাতে গরিব-অসহায়দের মাংস দিয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামের দৃশ্যে আমরা দেখি আতিথেয়তার ছোঁয়া। আর শহরের দৃশ্যে চূড়ান্ত অপমানকর এক পরিবেশ।
ঈদের দিন যারা শহরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করে এরা সচরাচর ভিক্ষুক নয়। কিন্তু আমাদের শহুরে সমাজে পরিবেশ এমন হয়েছে, মায়েদের তাদের সন্তানের মুখে ঈদের দিনে একটু ভালো খাবার তুলে দিতে তাদের মাংস ভিক্ষা করতে পথে নামতে হয়।
আমাদের সমাজে প্রচলন আছে, কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এক ভাগ নিজে খাবে। এক ভাগ আত্মীয়দের দেবে। আর একভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেবে।
রাসূল (সা.) একাধিক হাদীসে বলেছেন, (কোরবানির মাংস) তোমরা নিজেরা খাও, অন্যদেরকে খাওয়াও। (সহীহ মুসলিম)
এমনকি একবার মদীনায় সঙ্কট দেখা দিলে রাসূল (সা.) কোরবানির মাংস তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করে রাখতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। বরং সকলের মধ্যে দান করে দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল।
আল্লাহ তাআলা কোরআনের সূরা আল হাজ্জ-এ বলেন, ‘কোরবানির মাংস তোমরা নিজেরা খাও এবং অসহায় দরিদ্রদের খাওয়াও।’
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ আছে, কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম। এক ভাগ নিজেরা খাবে। এক ভাগ আত্মীয়দের হাদিয়া দেবে। আর একভাগ গরিবদের মাঝে দান করে দেবে। তবে এই বণ্টন সমান তিন ভাগ হওয়া জরুরি নয়।
এসব আয়াত এবং হাদীসের আলোকে উলামায়ে কেরাম কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এটা যদিও ফরজ বা আবশ্যক কোনো বিধান নয়। চাইলে কোরবানিদাতা নিজেই সবটুকু মাংস খেতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে রাসূলের (সা.) এই হাদিস মনে রাখা প্রয়োজন। ‘তোমরা যখন তরকারি (মাংস) রান্না করো তাতে ঝোলের পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। এবং প্রতিবেশীকে সে খাবারে শামিল করো।’ (সহীহ মুসলিম)
এই একটি বাক্যের ভেতরেই যেন কোরবানির পুরো সামাজিক দর্শন লুকিয়ে আছে। কোরবানির মানে হলো তাকওয়ার অনুশীলন৷ সুরা আল হাজ্জে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোরবানির পশুর মাংস, রক্ত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় কেবল তোমাদের তাকওয়া।’
প্রকৃতপক্ষে কোরবানি আমাদের সামনে শুধু একটি ইবাদতের দৃশ্যপট নয়। এটি একটি সমাজ-নির্মাণের অনুশীলন। এখানে শুধু পশু কোরবানি হয় না, বরং মানুষের ভেতরের স্বার্থপরতা, উদাসীনতা এবং বিচ্ছিন্নতাকেও কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা নিহিত থাকে। তাই কোরবানির দিন শুধু মাংস বণ্টনের হিসাব নয়, বরং মানবিক সম্পর্কের বণ্টন কতটা ঘটছে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
শহরের দৃশ্যে যখন আমরা দেখি মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করতে হয়, তখন সেখানে দানের চেয়েও বেশি করে চোখে পড়ে একটি সামাজিক ব্যবধান। দাতা ও গ্রহণকারীর মধ্যে এমন এক দূরত্ব তৈরি হয়, যা অনেক সময় দানের সৌন্দর্যকে আড়াল করে দেয়। অন্যদিকে গ্রামে যখন একই মাংস একত্র করে সম্মিলিতভাবে বিতরণ করা হয়, তখন সেখানে অন্তত একটি শৃঙ্খলা ও মর্যাদার পরিবেশ বজায় থাকে। যেখানে দান গ্রহণ করাও অনেকটা সম্মানজনক অংশগ্রহণে পরিণত হয়।
এই পার্থক্যগুলো আমাদের শুধু বাস্তবতা দেখায় না। বরং আমাদের সামাজিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আমরা কি কোরবানির শিক্ষা যথাযথভাবে সামাজিক ব্যবস্থায় রূপ দিতে পারছি? নাকি এটি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত ও আনুষ্ঠানিক দানেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
আল্লাহ তাআলা কোরআনে মাংস দান করতে বলেননি৷ বরং গরিবদের খাওয়াতে বলেছেন। হয়তো এ কারণেই ইসলামে কোরবানির সঙ্গে ‘খাওয়ানো’ বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে শুধু দান নয়, বরং অংশীদারত্বের শিক্ষা রয়েছে।
সমাজের দুর্বল মানুষটিও যেন ঈদের দিনে নিজেকে একা বা পরিত্যক্ত মনে না করে। ঈদের দিনে কোনো মা যেন সন্তানের জন্য এক টুকরো মাংসের আশায় অপমানিত বোধ না করেন।
.png)

হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসুল, আর মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। কিন্তু তাঁর জীবন শুধু ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন স্বামী, পিতা, প্রতিবেশী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজসংস্কারক, রাষ্ট্রনায়ক ও সেনাপতি। জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় যেমন তিনি দেখেছেন, তেমনি দেখেছ
২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ১৫ আগস্ট থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।
১৩ আগস্ট ২০২৬
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় এমন কিছু দিন আছে, যেগুলোর সঙ্গে এ দেশের মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আখেরি চাহার শোম্বা তেমনই একটি দিন। আজ ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি রয়েছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
দিনভর ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে কাটে আমাদের জীবন। কিন্তু নামাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মুমিনের সামনে খুলে যায় এক ভিন্ন জগত। যেখানে তিনি একান্তে নিজের প্রতিপালকের সঙ্গে কথোপকথনে দাঁড়ান। সে মুহূর্তে অন্তরের একাগ্রতা, বিনয় ও আল্লাহমুখিতা—এসবই নামাজের প্রকৃত সৌন্দর্য।
৩১ জুলাই ২০২৬