ওলিউর রহমান

জিলহজ মাস ইবাদত, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের অনন্য এক মৌসুম। হজ ও কোরবানির মতো ইসলামের দুই মহান ইবাদত এ মাসের সঙ্গেই জড়িত। তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে জিলহজ মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
জিলহজের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা কিছু সময়ের শপথ করেছেন। সূরা ফাজরের ২য় আয়াতে দশ রজনীর শপথ করা হয়েছে। মুফাসসিরগণ ‘দশ রজনী’-র ব্যাখ্যায় জিলহজের প্রথম দশ রাত বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। কেন না এই দশকের মধ্যেই রয়েছে হাজীদের মিনা-আরাফায় অবস্থানসহ হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা এবং কোরবানীর মতো তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত৷
জিলহজের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা
সহীহ বুখারীসহ একাধিক কিতাবে রাসূলের (সা.) এই হাদীস উল্লেখ আছে— ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।’
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়, জিলহজ্বের প্রথম দশ দিন মুসলমানের জন্য এক বিশেষ আমলের মৌসুম। এ সময় বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দোয়া, দান-সদকা ও তাওবা-ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া উচিত।
জিলহজ মাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
আরাফায় অবস্থান: জিলহজ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো হাজীদের আরাফায় অবস্থান করা। জিলহজ মাসের নবম তারিখে হাজীগণ সারাদিন আরাফার মাঠে অবস্থান করে দোয়া, মোনাজাত ও ইবাদত করেন। হাদীসে এসেছে, এ দিনের মতো এত অধিক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি অন্য কোনো দিনে দেওয়া হয় না। (সহীহ মুসলিম)
যারা হজে নেই, তাদের জন্যও এ দিনের রোজা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (সহীহ মুসলিম)
এ কারণে মুসলমানদের উচিত এ দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে রোজা ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়া।
কোরবানী: জিলহজের মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানী৷ হজরত ইবরাহিমের (আ.) স্মৃতি বিজড়িত এই কোরবানী আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল। কোরবানী আমল হলো ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা।
কোরবানীর দিনগুলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মহিমান্বিত দিন। হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তাআলার নিকট সবচে মহিমান্বিত দিন হচ্ছে ‘ইয়াওমুন নাহর’ তথা কুরবানীর দিন। (সুনানে আবু দাউদ)
তাকবীরে তাশরীক: জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। এর মাধ্যমে মুসলমান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা ঘোষণা করে। তাকবীরটি হলো—
‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’
এই তাকবীর মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর মহত্ব ও বান্দার বিনয়কে জাগ্রত করে।
প্রথম দশকে রোজা রাখা: জিলহজের প্রথম নয়দিন রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসূল (সা.) এই দিনগুলোতে রোজা রাখতেন। ( সুনানে আবু দাউদ)
নখ-চুল-পশম না কাটা: হাজীদের সঙ্গে সাদৃশ্যের জন্য জিলহজের প্রথম দশকে নখ-চুল-পশম না কাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল৷ হাদীসে এসেছে, যখন জিলহজের চাঁদ দেখবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। (সহীহ মুসলিম)
জিলহজের শিক্ষা
বর্তমান ভোগবাদী সমাজে জিলহজের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ মাস আমাদের শেখায় মানুষের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার মধ্যে নিহিত।
যদি ব্যক্তি ও সমাজ জিলহজের ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করতে পারে, তাহলে মানুষের মাঝে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা বৃদ্ধি পাবে।
জিলহজ মুসলমানের জন্য ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মহামূল্যবান সুযোগ। তাই এ বরকতময় দিনগুলোকে অবহেলায় নষ্ট না করে আমাদের উচিত বেশি বেশি নেক আমল করা এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করা।

জিলহজ মাস ইবাদত, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের অনন্য এক মৌসুম। হজ ও কোরবানির মতো ইসলামের দুই মহান ইবাদত এ মাসের সঙ্গেই জড়িত। তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে জিলহজ মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
জিলহজের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা কিছু সময়ের শপথ করেছেন। সূরা ফাজরের ২য় আয়াতে দশ রজনীর শপথ করা হয়েছে। মুফাসসিরগণ ‘দশ রজনী’-র ব্যাখ্যায় জিলহজের প্রথম দশ রাত বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। কেন না এই দশকের মধ্যেই রয়েছে হাজীদের মিনা-আরাফায় অবস্থানসহ হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা এবং কোরবানীর মতো তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত৷
জিলহজের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা
সহীহ বুখারীসহ একাধিক কিতাবে রাসূলের (সা.) এই হাদীস উল্লেখ আছে— ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।’
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়, জিলহজ্বের প্রথম দশ দিন মুসলমানের জন্য এক বিশেষ আমলের মৌসুম। এ সময় বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দোয়া, দান-সদকা ও তাওবা-ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া উচিত।
জিলহজ মাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
আরাফায় অবস্থান: জিলহজ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো হাজীদের আরাফায় অবস্থান করা। জিলহজ মাসের নবম তারিখে হাজীগণ সারাদিন আরাফার মাঠে অবস্থান করে দোয়া, মোনাজাত ও ইবাদত করেন। হাদীসে এসেছে, এ দিনের মতো এত অধিক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি অন্য কোনো দিনে দেওয়া হয় না। (সহীহ মুসলিম)
যারা হজে নেই, তাদের জন্যও এ দিনের রোজা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (সহীহ মুসলিম)
এ কারণে মুসলমানদের উচিত এ দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে রোজা ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়া।
কোরবানী: জিলহজের মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানী৷ হজরত ইবরাহিমের (আ.) স্মৃতি বিজড়িত এই কোরবানী আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল। কোরবানী আমল হলো ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা।
কোরবানীর দিনগুলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মহিমান্বিত দিন। হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তাআলার নিকট সবচে মহিমান্বিত দিন হচ্ছে ‘ইয়াওমুন নাহর’ তথা কুরবানীর দিন। (সুনানে আবু দাউদ)
তাকবীরে তাশরীক: জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। এর মাধ্যমে মুসলমান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা ঘোষণা করে। তাকবীরটি হলো—
‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’
এই তাকবীর মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর মহত্ব ও বান্দার বিনয়কে জাগ্রত করে।
প্রথম দশকে রোজা রাখা: জিলহজের প্রথম নয়দিন রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসূল (সা.) এই দিনগুলোতে রোজা রাখতেন। ( সুনানে আবু দাউদ)
নখ-চুল-পশম না কাটা: হাজীদের সঙ্গে সাদৃশ্যের জন্য জিলহজের প্রথম দশকে নখ-চুল-পশম না কাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল৷ হাদীসে এসেছে, যখন জিলহজের চাঁদ দেখবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। (সহীহ মুসলিম)
জিলহজের শিক্ষা
বর্তমান ভোগবাদী সমাজে জিলহজের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ মাস আমাদের শেখায় মানুষের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার মধ্যে নিহিত।
যদি ব্যক্তি ও সমাজ জিলহজের ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করতে পারে, তাহলে মানুষের মাঝে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা বৃদ্ধি পাবে।
জিলহজ মুসলমানের জন্য ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মহামূল্যবান সুযোগ। তাই এ বরকতময় দিনগুলোকে অবহেলায় নষ্ট না করে আমাদের উচিত বেশি বেশি নেক আমল করা এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করা।
.png)

গোটা আব্বাসী খেলাফতজুড়েই ছোট-বড় অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আব্বাসী খলীফাগণ শিক্ষা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে ছত্রিশতম আব্বাসী খলিফা মুস্তানসির বিল্লাহ ছিলেন এ ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব।
০৩ জুলাই ২০২৬
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। আরবিতে এ মাসকে সম্মানিত মাস বলা হয়। আর এই মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা যা মুসলমানদের কাছে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই আশুরা একদিকে আল্লাহর রহমত, সাহায্য এবং ঐতিহাসিক নানা ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে আসছে।
২৬ জুন ২০২৬
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ এবং একই সঙ্গে গভীর শোকের দিন।
২৬ জুন ২০২৬
মক্কার সভাগৃহ দারুন নদওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে৷ আলোচনার বিষয় মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা গ্রহণ করা। শোনা যাচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে তিনি মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যাবেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো, মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যা করা হবে। কোরায়শের সকল শাখা গোত্র এই হত্যা মিশনে শামিল হবে৷
১৬ জুন ২০২৬