ওলিউর রহমান

মদিনাতুল মুনাওয়রাহ। এখানেই মসজিদে নববীর পাশে শায়িত আছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই শহরটিকে মদিনাতুর রাসুল বা রাসুলের শহর বলা হয়।
ইসলাম প্রচারের কারণে মক্কার কুরাইশ কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাসুল (সা.) হিজরত করে ইয়াসরিবে চলে যান৷ আজ যে শহরটিকে আমরা যেটি মদিনা নামে চিনি, রাসুলের (সা.) হিজরতের আগে সেটি ইয়াসরিব নামে পরিচিত ছিল।
ইয়াসরিব ছিল আরবের এক গ্রামীণ জনপদ। এখানে মানুষের পেশা ছিল কৃষি৷ রাসুল সা. হিজরত করে এটিকে শহরে রূপান্তরিত করে মদিনা নাম দেন। মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ। আলোকিত শহর৷ রাসুলের (সা.) শহর৷ রাসুল (সা.)-এর হিজরতের পরে আরবের অখ্যাত অপরিচিত ইয়াসরিব হয়ে উঠে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রভূমি।
মার্কিন ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্ট তার ‘দ্য স্টোরি অব সিভিলাইজেশন’ গ্রন্থে বলেন, প্যারিস ও রোমের মতো শহরগুলোতে যখন আলোকায়ন হয়নি তখনই মুসলমানরা আধুনিক শহর গড়ে তুলেছিল। নবী মুহাম্মদ হিজরত করে মক্কা থেকে মদিনায় গমন করে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রথমেই এটিকে শহরে রূপান্তর করার প্রতি মনোনিবেশ করেন। বড় সব মুসলিম শহর গড়ে উঠেছে মদিনার মতো মসজিদকে কেন্দ্র করে৷
মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা
মদিনায় আগমনের দুই সপ্তাহের মধ্যে রাসুল সা. একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনপদের কেন্দ্রস্থলে দুই ইয়াতিম বালকের জমি উপযুক্ত মূল্যে খরিদ করে শুরু করেন মসজিদ প্রতিষ্ঠার কাজ। সাহাবায়ে কেরামের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে উঠে মসজিদে নববী৷ নবীজি (সা.) নিজেও নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন।
তখনকার সামাজিক এবং রাজনৈতিক সব প্রোগ্রাম মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতো। সমাজ উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা, সেনাদলকে যুদ্ধে পাঠানোর বিন্যাস কিংবা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন, বিচার, সালিস সবকিছুর তদারকি হতো মসজিদে নববী থেকে।
রাসুল (সা.) নিজের বসবাসের জন্য মসজিদসংলগ্ন জায়গাকেই বেছে নিয়েছিলেন। এরপর তিনি মানুষদের মসজিদের আশপাশে বসতি স্থাপন করতে উৎসাহিত করেন।
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর রাসুল (সা.) বিভিন্ন গোত্রকে নির্দিষ্ট এলাকায় বসতি দেন। ফলে প্রতিটি এলাকায় একই গোত্র বা পরিবারের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে থাকে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ নগর কাঠামো গড়ে ওঠে। মসজিদ ছিল তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
ইয়াসরিববাসীর অনুরোধের প্রেক্ষিতেই রাসূল (সা.) হিজরতের ভূমি হিসেবে মদীনাকে বাছাই করেছিলেন। রাসূল এবং তাঁর মক্কার সঙ্গীদেরকে সর্বোত্তম আতিথেয়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নবীজীকে দিয়েছিল মদিনাবাসী।
রাসুল (সা.) মক্কার একজন মুহাজির এবং মদিনার একজন আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে দিলেন। এটি এমনই দৃঢ় বন্ধন ছিল যে মদিনার আনসাররা মক্কার মুহাজিরদের সঙ্গে নিজেদের সহায়, সম্পত্তি ভাগ করে নিয়েছিল। এর ফলে মদিনায় মজবুত এক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
ইয়াহুদিদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি
একটি সমাজের স্থিথিশীলতার জন্য অপরাপর শ্রেণি, ধর্মের মানুষের সাথে সহাবস্থান জরুরি। মদিনায় মসজিদ প্রতিষ্ঠা, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের পর গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি রাসুল ( সা.) করলেন, তা হলো ইয়াহুদিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি। এটি ছিল রাসুল (সা.) এর গ্রহণ করা অত্যন্ত দূরদর্শী একটি পদক্ষেপ।
ইয়াহুদিরা কয়েকটি গোত্রে ভাগ হয়ে দীর্ঘকাল ধরে মদিনায় বাস করছিল। রাসুল (সা.) তাদের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্থাপন করলেন। মদিনায় সবাই একসঙ্গে বাস করবে। পরস্পরের সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। মদিনা আক্রান্ত হলে সকলে এক যোগে তা প্রতিহত করবে। এটিই ইতিহাসে ঐতিহাসিক মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এটি ছিল মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
যদিও কয়েক বছরের ব্যবধানে ইয়াহুদিদের সবগুলো গোত্র চুক্তি ভঙ্গ করার ফলে মদিনা থেকে বিতাড়িত হয়।
স্বতন্ত্র বাজার স্থাপন
হিজরতের পূর্বে মদিনার অর্থনীতি এবং বাজারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইয়াহুদিদের হাতে। ব্যবসায় ইয়াহুদিরা ছিল খুবই অসৎ প্রকৃতির। তারা সুদের কারবার করত এবং ব্যবসায় আরও নানাপ্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতো। রাসুল (সা.) তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের প্রতি নির্ভর্শীলতা কমাতে স্বতন্ত্র বাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ইতিহাসবিদ আল-মাকরিজি তার ‘ইমতা‘ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, রাসুল (সা.) নাবিত নামক একটি স্থানকে মুসলমানদের নতুন বাজারের জন্য নির্ধারণ করেন। তখন ইয়াহুদি নেতা কাব ইবন আল-আশরাফ সেখানে এসে বাজারের তাঁবুর দড়িগুলো কেটে দেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসুল (সা.) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এমন একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করব, যা তার জন্য আরও কষ্টকর হবে।’
এরপর তিনি বাজারটিকে মদিনার আরেকটি স্থানে স্থানান্তর করেন এবং সেখানে ঘোষণা করেন, ‘এটাই তোমাদের বাজার। এখানে কোনো বাধা দেওয়া হবে না এবং এর ওপর কোনো করও আরোপ করা হবে না।’
রাস্তাঘাট এবং অতিথিশালা নির্মাণ
মদিনার ভৌগোলিক বিন্যাস এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, বিভিন্ন রাস্তা শহরের পাড়া-মহল্লাগুলোকে মসজিদে নববীর সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে পুরো শহরটি একটি কেন্দ্রের চারপাশে আবর্তিত হয়।
এছাড়া ব্যক্তিগত কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে শহরে আগত অতিথিদের জন্য একটি নির্দিষ্ট আবাসস্থলও তৈরি করা হয়েছিল। এটি সাহাবি আব্দুর রহমান ইবন আউফের বাড়িতে ছিল। যা ‘দারুল দিফান’ (অতিথিশালা) নামে পরিচিত ছিল।
নিরাপদ পানিরব্যবস্থা করা
নবী সা. মদিনার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি সাহাবাদের উৎসাহিত করেন যেন তারা ভালো পানির কূপ কিনে তা জনকল্যাণে ওয়াকফ করে দেন।
এর একটি গুরুত্পূর্ণ উদাহরণ হলো ‘বির রুমা’ কূপ। রাসূল সা. এর নির্দেশ মোতাবেক খলিফা উসমান ইবন আফফান নিজ অর্থ দিয়ে কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
এভাবেই রাসুল সা. একটি সাধারণ জনপদ ইয়াসরিবকে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ শহরে রূপান্তরিত করেন। মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সমাজ, প্রতিষ্ঠিত হয় ভ্রাতৃত্ব, তৈরি হয় ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি, নিশ্চিত করা হয় নিরাপত্তা ও জনসেবা।
মদিনা তাই শুধু একটি শহরের নাম নয়। এটি একটি আদর্শের নাম। একটি সমাজ কীভাবে গড়ে উঠতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ।

মদিনাতুল মুনাওয়রাহ। এখানেই মসজিদে নববীর পাশে শায়িত আছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই শহরটিকে মদিনাতুর রাসুল বা রাসুলের শহর বলা হয়।
ইসলাম প্রচারের কারণে মক্কার কুরাইশ কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাসুল (সা.) হিজরত করে ইয়াসরিবে চলে যান৷ আজ যে শহরটিকে আমরা যেটি মদিনা নামে চিনি, রাসুলের (সা.) হিজরতের আগে সেটি ইয়াসরিব নামে পরিচিত ছিল।
ইয়াসরিব ছিল আরবের এক গ্রামীণ জনপদ। এখানে মানুষের পেশা ছিল কৃষি৷ রাসুল সা. হিজরত করে এটিকে শহরে রূপান্তরিত করে মদিনা নাম দেন। মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ। আলোকিত শহর৷ রাসুলের (সা.) শহর৷ রাসুল (সা.)-এর হিজরতের পরে আরবের অখ্যাত অপরিচিত ইয়াসরিব হয়ে উঠে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রভূমি।
মার্কিন ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্ট তার ‘দ্য স্টোরি অব সিভিলাইজেশন’ গ্রন্থে বলেন, প্যারিস ও রোমের মতো শহরগুলোতে যখন আলোকায়ন হয়নি তখনই মুসলমানরা আধুনিক শহর গড়ে তুলেছিল। নবী মুহাম্মদ হিজরত করে মক্কা থেকে মদিনায় গমন করে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রথমেই এটিকে শহরে রূপান্তর করার প্রতি মনোনিবেশ করেন। বড় সব মুসলিম শহর গড়ে উঠেছে মদিনার মতো মসজিদকে কেন্দ্র করে৷
মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা
মদিনায় আগমনের দুই সপ্তাহের মধ্যে রাসুল সা. একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনপদের কেন্দ্রস্থলে দুই ইয়াতিম বালকের জমি উপযুক্ত মূল্যে খরিদ করে শুরু করেন মসজিদ প্রতিষ্ঠার কাজ। সাহাবায়ে কেরামের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে উঠে মসজিদে নববী৷ নবীজি (সা.) নিজেও নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন।
তখনকার সামাজিক এবং রাজনৈতিক সব প্রোগ্রাম মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতো। সমাজ উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা, সেনাদলকে যুদ্ধে পাঠানোর বিন্যাস কিংবা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন, বিচার, সালিস সবকিছুর তদারকি হতো মসজিদে নববী থেকে।
রাসুল (সা.) নিজের বসবাসের জন্য মসজিদসংলগ্ন জায়গাকেই বেছে নিয়েছিলেন। এরপর তিনি মানুষদের মসজিদের আশপাশে বসতি স্থাপন করতে উৎসাহিত করেন।
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর রাসুল (সা.) বিভিন্ন গোত্রকে নির্দিষ্ট এলাকায় বসতি দেন। ফলে প্রতিটি এলাকায় একই গোত্র বা পরিবারের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে থাকে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ নগর কাঠামো গড়ে ওঠে। মসজিদ ছিল তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
ইয়াসরিববাসীর অনুরোধের প্রেক্ষিতেই রাসূল (সা.) হিজরতের ভূমি হিসেবে মদীনাকে বাছাই করেছিলেন। রাসূল এবং তাঁর মক্কার সঙ্গীদেরকে সর্বোত্তম আতিথেয়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নবীজীকে দিয়েছিল মদিনাবাসী।
রাসুল (সা.) মক্কার একজন মুহাজির এবং মদিনার একজন আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে দিলেন। এটি এমনই দৃঢ় বন্ধন ছিল যে মদিনার আনসাররা মক্কার মুহাজিরদের সঙ্গে নিজেদের সহায়, সম্পত্তি ভাগ করে নিয়েছিল। এর ফলে মদিনায় মজবুত এক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
ইয়াহুদিদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি
একটি সমাজের স্থিথিশীলতার জন্য অপরাপর শ্রেণি, ধর্মের মানুষের সাথে সহাবস্থান জরুরি। মদিনায় মসজিদ প্রতিষ্ঠা, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের পর গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি রাসুল ( সা.) করলেন, তা হলো ইয়াহুদিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি। এটি ছিল রাসুল (সা.) এর গ্রহণ করা অত্যন্ত দূরদর্শী একটি পদক্ষেপ।
ইয়াহুদিরা কয়েকটি গোত্রে ভাগ হয়ে দীর্ঘকাল ধরে মদিনায় বাস করছিল। রাসুল (সা.) তাদের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্থাপন করলেন। মদিনায় সবাই একসঙ্গে বাস করবে। পরস্পরের সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। মদিনা আক্রান্ত হলে সকলে এক যোগে তা প্রতিহত করবে। এটিই ইতিহাসে ঐতিহাসিক মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এটি ছিল মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
যদিও কয়েক বছরের ব্যবধানে ইয়াহুদিদের সবগুলো গোত্র চুক্তি ভঙ্গ করার ফলে মদিনা থেকে বিতাড়িত হয়।
স্বতন্ত্র বাজার স্থাপন
হিজরতের পূর্বে মদিনার অর্থনীতি এবং বাজারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইয়াহুদিদের হাতে। ব্যবসায় ইয়াহুদিরা ছিল খুবই অসৎ প্রকৃতির। তারা সুদের কারবার করত এবং ব্যবসায় আরও নানাপ্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতো। রাসুল (সা.) তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের প্রতি নির্ভর্শীলতা কমাতে স্বতন্ত্র বাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ইতিহাসবিদ আল-মাকরিজি তার ‘ইমতা‘ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, রাসুল (সা.) নাবিত নামক একটি স্থানকে মুসলমানদের নতুন বাজারের জন্য নির্ধারণ করেন। তখন ইয়াহুদি নেতা কাব ইবন আল-আশরাফ সেখানে এসে বাজারের তাঁবুর দড়িগুলো কেটে দেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসুল (সা.) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এমন একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করব, যা তার জন্য আরও কষ্টকর হবে।’
এরপর তিনি বাজারটিকে মদিনার আরেকটি স্থানে স্থানান্তর করেন এবং সেখানে ঘোষণা করেন, ‘এটাই তোমাদের বাজার। এখানে কোনো বাধা দেওয়া হবে না এবং এর ওপর কোনো করও আরোপ করা হবে না।’
রাস্তাঘাট এবং অতিথিশালা নির্মাণ
মদিনার ভৌগোলিক বিন্যাস এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, বিভিন্ন রাস্তা শহরের পাড়া-মহল্লাগুলোকে মসজিদে নববীর সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে পুরো শহরটি একটি কেন্দ্রের চারপাশে আবর্তিত হয়।
এছাড়া ব্যক্তিগত কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে শহরে আগত অতিথিদের জন্য একটি নির্দিষ্ট আবাসস্থলও তৈরি করা হয়েছিল। এটি সাহাবি আব্দুর রহমান ইবন আউফের বাড়িতে ছিল। যা ‘দারুল দিফান’ (অতিথিশালা) নামে পরিচিত ছিল।
নিরাপদ পানিরব্যবস্থা করা
নবী সা. মদিনার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি সাহাবাদের উৎসাহিত করেন যেন তারা ভালো পানির কূপ কিনে তা জনকল্যাণে ওয়াকফ করে দেন।
এর একটি গুরুত্পূর্ণ উদাহরণ হলো ‘বির রুমা’ কূপ। রাসূল সা. এর নির্দেশ মোতাবেক খলিফা উসমান ইবন আফফান নিজ অর্থ দিয়ে কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
এভাবেই রাসুল সা. একটি সাধারণ জনপদ ইয়াসরিবকে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ শহরে রূপান্তরিত করেন। মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সমাজ, প্রতিষ্ঠিত হয় ভ্রাতৃত্ব, তৈরি হয় ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি, নিশ্চিত করা হয় নিরাপত্তা ও জনসেবা।
মদিনা তাই শুধু একটি শহরের নাম নয়। এটি একটি আদর্শের নাম। একটি সমাজ কীভাবে গড়ে উঠতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ।

সামর্থ্যের কারণে সাধারণত মানুষ জীবনে একবারই হজ করে৷ ভিন্ন দেশ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশে এই ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। তাই প্রথমবার হজযাত্রীদের তাওয়াফ, ইহরামসহ প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ আমল বিষয়ে আগে থেকে কিছু মাসআলা জেনে রাখা ভালো।
৭ দিন আগে
পয়লা বৈশাখ এলেই নানা বিতর্ক চোখে পড়ে। কেউ এটাকে সংস্কৃতি বলে আঁকড়ে ধরতে চায়, কেউ ধর্মের নামে পুরোটা প্রত্যাখ্যান করতে চায়। কিন্তু এই তর্কের ভিড়ে আমার মনে পড়ে যায় একেবারে অন্যরকম এক বৈশাখ।
১০ দিন আগে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। কয়েক মাস আগে পার্শ্ববর্তী জেলা রাজবাড়িতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় মাজারে হামলার খবর এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
১১ দিন আগে
ইসলামের দৃষ্টিতে সময় শুধু গতি নয়; বরং তা ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একেকটি সুযোগ। মাসগুলোর মধ্যে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, তেমনি সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যেও রয়েছে একটি শ্রেষ্ঠ দিন—শুক্রবার, যা মুসলমানদের কাছে ‘জুমার দিন’ নামে বেশি পরিচিত।
১৪ দিন আগে