জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব আসক্তিকর: যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
বিবিসি

গত ফেব্রুয়ারিতে মেটার পক্ষে আদালতে হাজিরা দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকে ‘আসক্তিকর’ এবং শিশুদের সুরক্ষায় অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একটি রায় দিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন মতে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জুরি বোর্ডের এই রায়ে বলা হয়, মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন এই অ্যাপগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই আসক্তিকর করে তৈরি করা হয়েছে। এই অবহেলার কারণে ‘কেলি’ নামের এক তরুণী বডি ডিসমরফিয়া (নিজের শরীর নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ), বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগেছেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেটা ও গুগলকে এখন কেলি ও তাঁর পরিবারকে ৬০ লাখ ডলার (৪৫ লাখ পাউন্ড) প্রদান করতে হবে।

এই রায় সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি দানবদের জন্য এক বড় ধাক্কা এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মেটা দাবি করেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের জন্য এককভাবে কোনো অ্যাপ দায়ী হতে পারে না। অন্যদিকে গুগল দাবি করেছে, ইউটিউব কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়। উভয় কোম্পানিই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ডা. মেরি ফ্রাংকস বলেন, ‘এই রায়ের অর্থ হলো, জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার দিন শেষ। এই রায় সামাজিক মাধ্যমের ইতিহাসে একটি গেম-চেঞ্জিং মুহূর্ত এবং ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মগুলোর ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে।’

অনেক বিশেষজ্ঞ এই রায়কে তামাক শিল্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। ইনস্টাগ্রামের সাবেক কর্মী আরতুরো বেজার বিবিসিকে জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর আগেই মার্ক জাকারবার্গকে শিশুদের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মগুলো আগে আপনি ব্যবহার করতেন, এখন তারা উল্টো আপনাকে ব্যবহার করে।’

এই রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমগুলোতে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা যুক্ত করা বা স্ক্রলিংয়ের মতো আসক্তিকর ফিচারগুলো (যেমন: এন্ডলেস স্ক্রলিং, অটো-প্লে) বন্ধ করার চাপ বাড়তে পারে। তবে এসব ফিচার বাদ দিলে প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল ব্যবসায়িক মডেল—ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ অনলাইনে রাখা এবং বিজ্ঞাপন দেখানো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্তমানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩০’ আইনের মাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্টের দায় থেকে আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকে। কিন্তু এই রায়ের পর সেই সুরক্ষার যৌক্তিকতা নিয়ে মার্কিন সিনেটে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জোয়ার শুরু হয়েছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বড় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. রব নিকোলস বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করে, ব্যবহারকারীদের মঙ্গলের চেয়ে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য তৈরি করা প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আইনি ও সামাজিক পরিণতি ভোগ করবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত