স্ট্রিম ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোজয়ী স্পেন। ৩৯ দিনের মহাযজ্ঞের পর শেষ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিশ্বমঞ্চ। ইতিহাসে প্রথমবার কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালও এটি।
রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে আসরের সেরা আক্রমণভাগ ও সেরা রক্ষণভাগের লড়াই। এবারের বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র একটি।
আলবিসেলেস্তেদের ফাইনাল যাত্রা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। গ্রুপ পর্বের প্রত্যেক ম্যাচে সহজ জয়ে নকআউটে আসে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে নকআউটের চার ম্যাচেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা।
শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জয় পায় মেসিবাহিনী। শেষ ১৬-তে মিসরের সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়ে শেষপর্যন্ত ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও অনেকটা একই চিত্রনাট্য– অতিরিক্ত সময়ের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সবশেষ সেমিফাইনালে তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ৮৪ মিনিট পর্যন্ত। তবে এবারের বিশ্বকাপে ক্যামব্যাককে ফেলনা বানানো আর্জেন্টিনা শেষ সময়ের দুই গোলে জয় তুলে নেয়।
আলবিসেলেস্তেদের প্রাণভোমরা এখনো ৩৯ বছরের লিওনেল মেসি। চলতি আসরে ৮ গোল এবং ৪ অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বলের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস ত্রয়ী আর্জেন্টাইন শিবিরে অন্যতম ভরসা।
টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে ম্রিয়মাণ থাকলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নিয়েও আপাতত দুশ্চিন্তা নেই। পুরো টুর্নামেন্টে নিষ্প্রভ থাকা হুলিয়ান আলভারেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন গোল করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, লাউতারো মার্টিনেজের গোলেই ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টিনার চিন্তার জায়গা রক্ষণভাগ। আক্রমণে গোল এলেও দলটির জালে জড়িয়েছে ৭ বার। তাই রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সেরা ফর্মে চাইবেন কোচ স্কালোনি।
২০১০ সালে নিজেদের প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ ফুটবল যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং ২০১৮ ও ২০২২ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারা দলটি এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যেই ফাইনালে পা রেখেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তবে পরের ম্যাচেই সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফেরে তারা। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে আসে স্পেন।
শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেলেও, শেষ ১৬-তে পর্তুগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় তারা। কোয়ার্টারে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে জয় পায় স্পেন। আর সেমিফাইনালে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে লা রোখারা।
দলের মাঝমাঠের ভরসা এবং গেম-ডিক্টেটর রদ্রি। ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমোকে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইবেন তাঁর হাতেই। পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা যুগের ‘টিকিটাকা’ পাসিং গেম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার কাজ নিখুঁতভাবে করে যাচ্ছে দলটি।
আক্রমণে মিকেল ওয়ারজাবাল ও মিকেল মেরিনোরা প্রয়োজনের সময় গোল করে স্পেনের জয়কে করে তুলছেন অনায়াস। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপে নিজের গোলের খাতা খোলা লামিনে ইয়ামালের গতি ও ড্রিবলিং হতে পারে আর্জেন্টিনার মাথাব্যথা।
রক্ষণে পাউ কুবার্সি ও মার্ক কুকুরেয়া এবং পেদ্রো পোরোরা ফ্রান্সের মতো অল-স্টার অ্যাটাককে যেভাবে বোতলবন্দি করেছেন, তাতে স্পষ্ট, এই রক্ষণই প্রাচীর হয়ে স্পেনকে রক্ষা করবে।
তবে স্পেনের একমাত্র চিন্তার জায়গা হতে পারে দলের মন্থর গতি। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ে ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ‘লো-ব্লক’ হলে গোল পেতে স্পেনকে বেগ পেতে হয়েছে।
স্পেন শিবিরের বড় দুশ্চিন্তার কারণ ইয়ামালের ফিটনেস। বৃহস্পতিবারের অনুশীলন সেশনে ইয়ামালের বাঁ ঊরুতে ছিল ব্যান্ডেজ। মূল অনুশীলনে অংশ না নিয়ে কেবল হালকা স্ট্রেচিং করেছেন। এ ছাড়া পেদ্রো পোরোও মূল দলের বাইরে একক কন্ডিশনিং প্রোগ্রাম করেছেন।
তবে স্পেনের হেড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জানিয়েছেন, ফাইনালের আগে দুজনেই পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামবেন।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, তাঁরা লিওনেল মেসির জন্য কোনো বিশেষ ‘ম্যান-মার্কিং’ করবেন না।
সেভিয়ার অনূর্ধ্ব যুব দলের কোচ থাকাকালীন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে ম্যাচে মেসির পেছনে একজনকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করতে বলেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত খেলা গোলশূন্য ছিল এবং কার্ড সমস্যার কারণে আমি সেই মার্কারকে তুলে নিই। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটে মেসি আমাদের জালে চার-চারটি গোল দিয়েছিল। এই কারণে এবার আমরা কোনো ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করব না। তবে তাঁর প্রতি বিশেষ নজর থাকবে।’
রানার্স-আপ দলকে কেউ মনে রাখে না—এই প্রথাগত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফাইনালে ওঠাই একটি বড় পাওয়া। আমি প্রতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যেতেও রাজি আছি, কারণ এই পর্যায়ে পৌঁছানোটা অনেক বড় অর্জন।’
স্পেনের মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক রদ্রি বলেন, ‘এই দল ও প্রজন্ম নিজেদের নাম তৈরি করতে চেয়েছিল এবং আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে। আমরা এই পথচলায় আনন্দিত, তবে এখানেই থামতে চাই না, আমাদের লক্ষ্য আরও দূর।’
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘স্পেনের কোনো দুর্বলতা দেখছি না; তারা শীর্ষ দল। তবে এটি শেষ পর্যন্ত একটি ফুটবল ম্যাচ। যে সেরাটা দেবে, সেই জিতবে। ফাইনাল নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে নিজেদের মনোযোগ হারাতে চাই না।’
দলের খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেদের বলেছি, তোমরা যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য। বছরের পর বছর এই পর্যায়ে লড়াই করা সহজ নয়। আমরা জিতি বা হারি, এই দলের পথচলা সবার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যা অর্জন করেছি তা ভেবে মাঝে মাঝে আমি একা একাই কেঁদে ফেলি। আমি কেবল এই মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছি।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের সাক্ষাতে দুই দলেরই জয়-পরাজয় সমান। আর্জেন্টিনা জিতেছে ৬ ম্যাচ, স্পেনও জিতেছে ৬ ম্যাচ, ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ।
বিশ্বকাপে দুই দল মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল—১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
অপটা সুপারকম্পিউটারের প্রেডিকশন অনুযায়ী, ফাইনালে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তবে স্পেন জিতুক কিংবা আর্জেন্টিনা, প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ হাসি যে ফুটবল হাসবে, তা নিয়ে অবশ্য দ্বিধা নেই ফুটবল ভক্তদের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোজয়ী স্পেন। ৩৯ দিনের মহাযজ্ঞের পর শেষ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিশ্বমঞ্চ। ইতিহাসে প্রথমবার কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালও এটি।
রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে আসরের সেরা আক্রমণভাগ ও সেরা রক্ষণভাগের লড়াই। এবারের বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র একটি।
আলবিসেলেস্তেদের ফাইনাল যাত্রা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। গ্রুপ পর্বের প্রত্যেক ম্যাচে সহজ জয়ে নকআউটে আসে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তবে নকআউটের চার ম্যাচেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা।
শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জয় পায় মেসিবাহিনী। শেষ ১৬-তে মিসরের সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়ে শেষপর্যন্ত ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও অনেকটা একই চিত্রনাট্য– অতিরিক্ত সময়ের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সবশেষ সেমিফাইনালে তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ৮৪ মিনিট পর্যন্ত। তবে এবারের বিশ্বকাপে ক্যামব্যাককে ফেলনা বানানো আর্জেন্টিনা শেষ সময়ের দুই গোলে জয় তুলে নেয়।
আলবিসেলেস্তেদের প্রাণভোমরা এখনো ৩৯ বছরের লিওনেল মেসি। চলতি আসরে ৮ গোল এবং ৪ অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বলের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস ত্রয়ী আর্জেন্টাইন শিবিরে অন্যতম ভরসা।
টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে ম্রিয়মাণ থাকলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নিয়েও আপাতত দুশ্চিন্তা নেই। পুরো টুর্নামেন্টে নিষ্প্রভ থাকা হুলিয়ান আলভারেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন গোল করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, লাউতারো মার্টিনেজের গোলেই ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টিনার চিন্তার জায়গা রক্ষণভাগ। আক্রমণে গোল এলেও দলটির জালে জড়িয়েছে ৭ বার। তাই রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সেরা ফর্মে চাইবেন কোচ স্কালোনি।
২০১০ সালে নিজেদের প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ ফুটবল যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং ২০১৮ ও ২০২২ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারা দলটি এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যেই ফাইনালে পা রেখেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তবে পরের ম্যাচেই সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফেরে তারা। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে আসে স্পেন।
শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেলেও, শেষ ১৬-তে পর্তুগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় তারা। কোয়ার্টারে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে জয় পায় স্পেন। আর সেমিফাইনালে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে লা রোখারা।
দলের মাঝমাঠের ভরসা এবং গেম-ডিক্টেটর রদ্রি। ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমোকে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইবেন তাঁর হাতেই। পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা যুগের ‘টিকিটাকা’ পাসিং গেম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার কাজ নিখুঁতভাবে করে যাচ্ছে দলটি।
আক্রমণে মিকেল ওয়ারজাবাল ও মিকেল মেরিনোরা প্রয়োজনের সময় গোল করে স্পেনের জয়কে করে তুলছেন অনায়াস। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপে নিজের গোলের খাতা খোলা লামিনে ইয়ামালের গতি ও ড্রিবলিং হতে পারে আর্জেন্টিনার মাথাব্যথা।
রক্ষণে পাউ কুবার্সি ও মার্ক কুকুরেয়া এবং পেদ্রো পোরোরা ফ্রান্সের মতো অল-স্টার অ্যাটাককে যেভাবে বোতলবন্দি করেছেন, তাতে স্পষ্ট, এই রক্ষণই প্রাচীর হয়ে স্পেনকে রক্ষা করবে।
তবে স্পেনের একমাত্র চিন্তার জায়গা হতে পারে দলের মন্থর গতি। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ে ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ‘লো-ব্লক’ হলে গোল পেতে স্পেনকে বেগ পেতে হয়েছে।
স্পেন শিবিরের বড় দুশ্চিন্তার কারণ ইয়ামালের ফিটনেস। বৃহস্পতিবারের অনুশীলন সেশনে ইয়ামালের বাঁ ঊরুতে ছিল ব্যান্ডেজ। মূল অনুশীলনে অংশ না নিয়ে কেবল হালকা স্ট্রেচিং করেছেন। এ ছাড়া পেদ্রো পোরোও মূল দলের বাইরে একক কন্ডিশনিং প্রোগ্রাম করেছেন।
তবে স্পেনের হেড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জানিয়েছেন, ফাইনালের আগে দুজনেই পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামবেন।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, তাঁরা লিওনেল মেসির জন্য কোনো বিশেষ ‘ম্যান-মার্কিং’ করবেন না।
সেভিয়ার অনূর্ধ্ব যুব দলের কোচ থাকাকালীন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে ম্যাচে মেসির পেছনে একজনকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করতে বলেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত খেলা গোলশূন্য ছিল এবং কার্ড সমস্যার কারণে আমি সেই মার্কারকে তুলে নিই। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটে মেসি আমাদের জালে চার-চারটি গোল দিয়েছিল। এই কারণে এবার আমরা কোনো ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করব না। তবে তাঁর প্রতি বিশেষ নজর থাকবে।’
রানার্স-আপ দলকে কেউ মনে রাখে না—এই প্রথাগত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফাইনালে ওঠাই একটি বড় পাওয়া। আমি প্রতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যেতেও রাজি আছি, কারণ এই পর্যায়ে পৌঁছানোটা অনেক বড় অর্জন।’
স্পেনের মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক রদ্রি বলেন, ‘এই দল ও প্রজন্ম নিজেদের নাম তৈরি করতে চেয়েছিল এবং আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে। আমরা এই পথচলায় আনন্দিত, তবে এখানেই থামতে চাই না, আমাদের লক্ষ্য আরও দূর।’
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘স্পেনের কোনো দুর্বলতা দেখছি না; তারা শীর্ষ দল। তবে এটি শেষ পর্যন্ত একটি ফুটবল ম্যাচ। যে সেরাটা দেবে, সেই জিতবে। ফাইনাল নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে নিজেদের মনোযোগ হারাতে চাই না।’
দলের খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেদের বলেছি, তোমরা যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য। বছরের পর বছর এই পর্যায়ে লড়াই করা সহজ নয়। আমরা জিতি বা হারি, এই দলের পথচলা সবার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যা অর্জন করেছি তা ভেবে মাঝে মাঝে আমি একা একাই কেঁদে ফেলি। আমি কেবল এই মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছি।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের সাক্ষাতে দুই দলেরই জয়-পরাজয় সমান। আর্জেন্টিনা জিতেছে ৬ ম্যাচ, স্পেনও জিতেছে ৬ ম্যাচ, ড্র হয়েছে দুই ম্যাচ।
বিশ্বকাপে দুই দল মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল—১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
অপটা সুপারকম্পিউটারের প্রেডিকশন অনুযায়ী, ফাইনালে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তবে স্পেন জিতুক কিংবা আর্জেন্টিনা, প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ হাসি যে ফুটবল হাসবে, তা নিয়ে অবশ্য দ্বিধা নেই ফুটবল ভক্তদের।

বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কার হাতে উঠবে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে ফাইনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা।
১৯ মিনিট আগে
এইতো আর মাত্র কয়েকঘণ্টা পরেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসিরা। প্রতিপক্ষ স্পেন, লক্ষ্য একটাই- বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি। আজকের ম্যাচে দল হিসেবে আর্জেন্টিনা ও খেলোয়াড় হিসেবে মেসিদের সামনে এমন সব রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে, যা ইতিহাসের পাতায় অমর করে তুলতে পারে তাদেরকে।
৪২ মিনিট আগে
প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ধরে ফেলেছিল ফ্রান্স, এমবাপ্পের জোড়া গোলে ব্যবধান নামে ৪-৩-এ। মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিজের করেন এমবাপ্পে। তবু শেষরক্ষা হয়নি-সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে ইংল্যান্ড।
৭ ঘণ্টা আগে
‘গ্যারি সোবার্স একাই পাঁচ ক্রিকেটারের কাজ করতে পারতেন।’ কথাটি বলেছেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স।
১৭ ঘণ্টা আগে