ad

ইংল্যান্ড-ফ্রান্স

গোলবন্যার ম্যাচে এমবাপ্পের সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৪৪
বলের দখল নিতে ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসার সঙ্গে লড়ছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের তৃতীয় দল নির্ধারণী ম্যাচের তখন ৬৬ মিনিট। প্রথমার্ধে চার গোল হজম করা ফ্রেঞ্চরা তখন ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এমন সময় ইংলিশ ডি বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পের উদ্দেশে বল বাড়ালেন মাইকেল অলিসে। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইংলিশদের জালে বল জড়ালেন ফরাসি অধিনায়ক।

এতেই এলোমেলো হয়ে গেল রেকর্ড বইয়ের অনেকগুলো পাতা। নিজের ২২তম গোল পূর্ণ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর সাতটি অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েন অলিসে।

ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচই খোলাখুলি বলেছিলেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচ আসলে কেউ খেলতে চায় না। তবে এমন নিরুত্তাপ খেলাটাই ফাইনালের আগে হয়ে রইলো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। নিজের বিশ্বরেকর্ড আর কিংবদন্তি হয়ে ওঠা ফ্রেঞ্চ ম্যানেজার দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচটা রাঙ্গাতে পারেনি এমবাপ্পে-অলিসেরা। বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড় বুকায়ো সাকা ম্যাজিকে তৃতীয় হয়ে শেষ করল ইংল্যান্ড। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে থ্রি লায়ন্সরা।

অথচ ম্যাচের শুরুতে এমন রোমাঞ্চের কোনো আভাসই ছিল না। দুই দলই একাদশে সাতটি করে পরিবর্তন নিয়ে কার্যত প্রীতি ম্যাচের মেজাজেই মাঠে নামে। কিন্তু বল গড়াতেই বদলে যায় সব হিসাব। মাত্র ৩ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড লাইনের ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে ইংলিশদের এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস। ১৮ মিনিটে রাইসেরই কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা।

এরপর শুরু হয় সাকা-শো। ৩৭ মিনিটে র‍্যাশফোর্ডের বাড়ানো বল ধরে বাঁ পায়ের শটে ফরাসি গোলরক্ষক মেইনিয়াকে পরাস্ত করেন সাকা, ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) মিডফিল্ডার এজের পাস থেকে আরেকটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন তখন ৪-০। মনে হচ্ছিল সেমিফাইনালের হারের ধাক্কা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফরাসি শিবির।

বিরতির পর অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ফ্রান্সকে দেখা যায়। ৪৮ মিনিটে অলিসের পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। এই গোলেই চলতি আসরে ৯ গোল করে মেসিকে (৮ গোল) পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে উঠে যান তিনি। এর ৬ মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে এমবাপ্পের বাড়ানো বলে গোল করেন বারকোলা, ব্যবধান নেমে আসে ৪-২-এ।

ঠিক এরপরই আসে ৬৬ মিনিটের সেই বিশ্বরেকর্ডের মুহূর্ত, এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-৩। এই গোলে সহায়তা করে অলিসের অ্যাসিস্ট সংখ্যাও পৌঁছে যায় সাতে—ভেঙে যায় ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড। সমতায় ফেরার সুযোগও পেয়েছিল ফ্রান্স, কিন্তু সেই শট প্রতিহত হয় গোলপোস্টে লেগে।

দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে দুর্দান্ত খেলেও শেষ রক্ষা হয়নি ফরাসিদের। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড, আর সেখান থেকেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা—ব্যবধান আবার দুই গোলে (৫-৩) নিয়ে যান তিনি। যোগ করা সময়ে (৯০+৬ মিনিট) কাট ইন করে বক্সে ঢুকে গোল করেন দেম্বেলে, ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৫-৪। কিন্তু ফ্রেঞ্চ কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি নামা জুড বেলিংহাম। ৯০+৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে বল নিয়ে ফরাসি রক্ষনভেঙে গোল করেন তিনি। এরই মধ্য দিয়ে ৬-৪ গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশদের। চলতি বিশ্বকাপে সাত গোল করে যাত্রা শেষ করলেন বেলিংহাম।

শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড, গলায় ওঠে ব্রোঞ্জ পদক। ১৯৮২ বিশ্বকাপের পর এমন হাই-স্কোরিং ম্যাচ আর দেখেনি ফুটবলবিশ্ব। এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ড আর দেশমের বিদায়ী রাত ছাপিয়ে মায়ামির রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল সাকা আর ইংল্যান্ডের।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত