প্রথম সেশনেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১৩: ০৮
সবুজ উইকেটকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের আরেকটি সাফল্য, উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা

পাকিস্তানের বোলারেরা ঘাসের উইকেট ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সুবিধা ব্যবহার করে প্রথম সেশনেই তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন। এরমধ্যে আব্বাস নিয়েছেন দুটি, খুররাম একটি উইকেট। সবমিলিয়ে লাঞ্চে যাওয়ার আগে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০১ রান।

এর আগে শনিবার (১৬ মে) সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সদ্য অভিষিক্ত তানজিদ তামিম। গত ম্যাচের ওপেনিং জুটির ব্যর্থতার ধারণা করা হচ্ছিল আজ হয়তো টেস্টে অভিজ্ঞ জয় তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ভালো একটা শুরু করবেন। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

সিলেটের সবুজ উইকেটে ঠিকই দলকে ভালো শুরু এনে দেন গত টেস্টে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি আব্বাস। মাহমুদুল হাসান জয় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে সকালের সেশনে টিকলেন মাত্র দুই বল। মুহাম্মদ আব্বাসের প্রথম বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে বেঁচে যান মাহমুদুল। আব্বাসের ছোড়া ফোর্থ স্ট্যাম্প করিডরের বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। শূন্য রানে আউট হন মাহমুদুল। মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেও তিনি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, মাত্র ৮ ও ৫ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।

তিনে নামেন মুমিনুল হক। অন্য প্রান্তে ছিল ওপেনার তানজিদ হাসান। দুজনেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করতে থাকেন। অভিষেকে ভালোই ব্যাট চালিয়েছেন তানজিদ। সিঙ্গেলস, স্কয়ার ড্রাইভের মাধ্যমে আব্বাসকে দারুণ একটি চারও মেরে টেস্ট নিজের প্রথম বাউন্ডারির ও দেখা পান এই ওপেনার।

মুমিনুল অন্যপ্রান্তে সময় নিচ্ছিলেন উইকেটে সেট হতে। খুররাম শেহজাদের বলে নিজের প্রথম বাউন্ডারির দেখাও পেয়ে যান। ওই ওভারেই ডিপ কাভার পয়েন্ট থেকে আরেকটি চার আদায় করেন এই ব্যাটসম্যান।

আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত দারুণ ব্যাট করছিলেন তানজিদ তামিম। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে কাউন্টার এটাক দিয়ে কোন তাড়াহুড়ো ছাড়াই পাচ্ছিলেন সিঙ্গেলস এবং বাউন্ডারির দেখা। কিন্তু ১০ম ওভারের শেষ বলে তিনি যেন অন্য এক জগতেই চলে গিয়েছিলেন! শট বলটি খেলতে গিয়ে মিড অনের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গেলেন। বলটি তখনো হাওয়ায় ভাসছে, নিচে ছিলেন বোলার আব্বাস; তিনিও সহজ ক্যাচটি তালু বন্দি করে নেন। সঙ্গেসঙ্গে পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরাও করতে থাকে উচ্ছ্বাস, আব্বাসও পান তার দ্বিতীয় উইকেট।

নিজের অভিষেক টেস্টে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ৩৪ বলে ২৬ রান করে মাঠ ছাড়লেন তানজিদ তামিম। অন্যপ্রান্তে তখনও ক্রিজে ছিলেন মুমিনুল হক। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন শান্ত। নেমেই একটু আগ্রাসী ভঙ্গিমায় সাজিদের লো হওয়া বলটিকে কাউ কর্নারের দিকে পাঠিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে নেন। গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরাও উচ্ছ্বসিত হতে থাকেন। তবে তাদের নিস্তব্ধ করতে বেশি সময় নেননি পাকিস্তানের খুররাম শেহজাদ। তার দারুণ একটা ইনসুইং ডেলিভারিতে পুরাপুরি ব্যাট ও প্যাডের মাঝ থেকে যাওয়া বলে পরাস্ত হন মুমিনুল। বলের লাইনটা হয়তো ঠিকমতো বুঝতে পারেননি এই ব্যাটসম্যান।

সবুজ উইকেটকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের আরেকটি সাফল্য, উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা। ব্যক্তিগত ২২ রানে প্যাভিলিয়নের দিকে হতাশা নিয়ে ফেরেন তিনি। পাঁচে নামে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। । স্কোর বোর্ডে ৪ এর বেশি রানরেটে ৬৩ রান, কিন্তু বাংলাদেশ হারিয়েছে তাদের তিনটি মূল্যবান উইকেট।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে মাথায় আঘাত পান হাসান আলী, স্ট্রেচারে করে ছাড়তে হয় মাঠ। ইনিংসের ১৯তম ওভারে আবারও বল হাতে আসেন হাসান আলী, ক্রিজে তখন ব্যাট হাতে শান্ত। হাসানের বলে এজড হয়ে, স্লিপ ও গালির মাঝখান থেকে বল গড়িয়ে সীমানার বাইরে চলে গেলে শান্তরও রানের চাকা বাড়াতে থাকে। বাংলাদেশ দল প্রথম ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান সংগ্রহ করে।

মুশফিক তার প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান, সফট হ্যান্ডে খেলা শটটি গ্যাপ খুঁজে পায়। ওইখানে কোনো ফিল্ডার না থাকায়, সীমানা পার হয়। সাজিদের অফ সাইডের বলটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে বলটি বাউন্ডারির দিকে থাকে, পিছে ছিল ফিল্ডার, এক সময় তিনি ও বলের চেজ করা থামিয়ে দিলে বলও বাউন্ডারির পার করে। স্কোর বোর্ডে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১০১/৩ শান্ত ২৬* মুশফিক ১৮* ; আব্বাস ২/২২

সম্পর্কিত