ইয়ামাল ওড়ালেন ফিলিস্তিনি পতাকা, প্রধানমন্ত্রীকেও পেলেন পাশে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৮: ২৮
বার্সেলোনার ছাদখোলা বাসে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এপি

লা লিগা শিরোপা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে বার্সেলোনা বিজয় উদযাপন করে। এই শোভাযাত্রায় ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান দলটির তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। তাঁর এই উদযাপনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। পরে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইয়ামালের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন।

গত ১১ মে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। এই বিজয় উদযাপনে ছাদখোলা বাসে পুরো রাস্তায় ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান ইয়ামাল। সড়কজুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ সমর্থকের উপস্থিতিতে জয়োল্লাস করে বার্সেলোনা।

ইয়ামালের পতাকা ওড়ানোর ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ১৪ মে এক্স-হ্যান্ডেলে স্প্যানিশ ভাষায় ইয়ামালের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ করেন।

কাৎজ লেখেন, লামিনে ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিয়েছেন; যখন আমাদের সেনারা হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে। যে সংগঠন গত ৭ অক্টোবর ইহুদি নারী-শিশু, বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংসতা চালিয়েছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানির মুখে আমি চুপ থাকব না।

বার্সেলোনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, আমি আশা করি, বার্সেলোনার মতো একটি বড় ও সম্মানিত ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের এমন অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি এটিও স্পষ্ট করবে, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উসকানি দেওয়ার কোনো জায়গা এখানে নেই।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মার্চে জানায়, ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় সংখ্যক শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ১৪ মে রাতে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, যারা একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোকে ‘ঘৃণা ও উসকানি’ মনে করেন, তারা হয় বিচারবুদ্ধি হারিয়েছেন, নয়তো নিজেদের কলঙ্কে অন্ধ হয়ে গেছেন। লামিনে কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন, যা কোটি কোটি স্প্যানিশ নাগরিক মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার এটি আরও একটি বড় কারণ।

বার্সেলোনার এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছেন, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আসা সমালোচনা সম্পর্কে তারা অবগত এবং এর সঙ্গে জড়িত সংবেদনশীলতা ও আবেগগুলো বুঝতে পারছেন।

বার্সেলোনার দাবি, ইয়ামাল বার্সেলোনার পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। এমনকি কোনো বিশেষ সম্প্রদায়, দেশ বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাঁর ছিল না।

ফিলিস্তিনের গাজায় এক ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ইয়ামালের একটি ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র আঁকা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে বর্তমান পর্যায়ে অঞ্চলটির এই এলাকা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে।

গাজায় ধ্বংস্তুপের মাঝে ইয়ামালের ম্যূরাল। ছবি: এএফপি
গাজায় ধ্বংস্তুপের মাঝে ইয়ামালের ম্যূরাল। ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনি শিল্পী উবাই আল-কুরশালি রয়টার্সকে বলেন, সারা বিশ্ব দেখেছে, বার্সেলোনার এক বিশাল উৎসবে লামিনে ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছেন। এরপরই আমি এই দেয়ালচিত্র আঁকার কাজ শুরু করি। তিনি যা করেছেন, তাঁর জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি ক্যারিয়ার, খেলা ও ভবিষ্যৎ- সবই ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। কিন্তু সেসবে পরোয়া না করে তিনি ফিলিস্তিনের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী মিশন তাদের অফিশিয়াল এক্স-হ্যান্ডল থেকে ইয়ামালের পতাকা ওড়ানোর একটি ছবি শেয়ার করেছে। কাতালান ক্রীড়া দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র তোলা এই ছবিটি ৪ লাখ ৪০ হাজার অনুসারীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে মিশনটি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইন্টারনেটে এক বার্তার মাধ্যমে ইয়ামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

সম্পর্কিত